ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি অনেক ক্ষেত্রেই অপরিহার্য। কিন্তু টানা কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় থাকার খরচ বহু রোগীর কাছে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল হিমাদ্রি মেমোরিয়াল ক্যানসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্যানসার হাসপাতাল (এনসিআরআই)। দূর-দূরান্ত থেকে রেডিওথেরাপি করাতে আসা রোগী এবং তাঁর একজন সঙ্গীর জন্য চিকিৎসাকালীন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা চালু করেছে হাসপাতাল।
আরও পড়ুন:
ক্যানসার আক্রান্ত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগীকেই চিকিৎসার কোনও না কোনও পর্যায়ে রেডিওথেরাপি নিতে হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী এই চিকিৎসা এক সপ্তাহ থেকে সাত সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে আধুনিক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর (LINAC)-এর সুবিধা এখনও হাতে গোনা কয়েকটি কেন্দ্রেই রয়েছে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু রোগীকেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসতে হয়।
আরও পড়ুন:
হাসপাতালের প্রিন্সিপাল, ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. সোমা মুখোপাধ্যায় জানান, রেডিওথেরাপির চিকিৎসা সাধারণত এক থেকে দেড় মাস ধরে চলে। এই সময়ে থাকার খরচ অনেক পরিবারের পক্ষে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই হাসপাতালের কাছেই আপাতত ২৫ জন রোগীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগী এবং তাঁর একজন সঙ্গী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকতে পারবেন। স্বাস্থ্যসাথী, আয়ুষ্মান ভারত, অন্য কোনও স্বাস্থ্যবিমা বা নিজ খরচে চিকিৎসা করা, সব ধরনের রোগীর জন্যই এই সুবিধা প্রযোজ্য। খাবার বিনামূল্যে না হলেও স্বল্পমূল্যে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কলকাতায় থাকার খরচ বাবদ অনেক পরিবারের ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হয়। সেই আর্থিক চাপের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করেন, আবার কেউ কেউ মাঝপথেই রেডিওথেরাপি বন্ধ করে দেন। হাসপাতালের এই উদ্যোগের ফলে রোগীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে পারবেন বলেই তাঁদের আশা।
এনসিআরআই হাসপাতাল একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি অত্যাধুনিক রেডিয়েশন থেরাপির সমস্ত সুবিধা রয়েছে। থ্রিডি-সিআরটি, আইএমআরটি, আইজিআরটি, এসজিআরটি এবং বিশেষ প্রয়োজনের রোগীদের জন্য ব্র্যাকিথেরাপি-ও করা হয়।
ডা. সোমা মুখোপাধ্যায়ের মতে, এই উদ্যোগ শুধু বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা নয়, বরং ক্যানসার চিকিৎসার পথে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটি প্রয়াস। লক্ষ্য একটাই, আর্থিক বা থাকার সমস্যার কারণে যেন কোনও রোগীর রেডিওথেরাপি অসম্পূর্ণ না থাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্ত্রী সুনীতা একা, কোমলকে আগলে গণপতি দর্শনে গোবিন্দা, ভগবানকে সাক্ষী রেখে প্রেমে সিলমোহর!
-
মাঝরাতে কমান্ডো অভিযান যোগীরাজ্যে! এনকাউন্টারে খতম স্ত্রী, পুত্র-সহ ২ পুরোহিত খুনে অভিযুক্ত
-
কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে তোপ! রাষ্ট্রসংঘে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই ওয়াক আউট হাভানার
-
শিল্ডে প্রথম ম্যাচে মোহনবাগানের কাঁটা দুই প্রাক্তন, আজ কলকাতা লিগের ট্রফি দেবেন ক্রীড়ামন্ত্রী
-
পুজোর মুখে পাথরশিল্পে ‘লাল সংকেত’! বন্ধের মুখে ১৯৩ ক্রাশার