No smoking day

নো স্মোকিং ডে: সিগারেটকে আজই বলুন গুডবাই, শরীর নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নেবে

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়; হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভারসহ শরীরের নানা অঙ্গের উপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ধূমপানজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাই তামাকের ব্যবহার আজও জনস্বাস্থ্যের এক বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৮:৫৭

options
link
নো স্মোকিং ডে: সিগারেটকে আজই বলুন গুডবাই, শরীর নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নেবে
আজই ছাড়ুন ধূমপানের সুখটান। ছবি: সংগৃহীত

প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বুধবার পালিত হয় নো স্মোকিং ডে। ধূমপান ছাড়তে মানুষকে উৎসাহিত করা এবং তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য। ১৯৮৪ সালে ব্রিটেনে প্রথম এই উদ্যোগের শুরু। ধীরে ধীরে এটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে পরিণত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট একটি দিনকে লক্ষ্য করে ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে অনেকের পক্ষে সেই অভ্যেস ত্যাগ করা তুলনামূলক সহজ হয়।

Advertisement

ধূমপান বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য বহু রোগের অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকদের মতে, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়; হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার-সহ শরীরের নানা অঙ্গের উপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ধূমপানজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাই তামাকের ব্যবহার আজও জনস্বাস্থ্যের এক বড় চ্যালেঞ্জ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
No smoking day 2026 health risks of smoking
ধূমপানের ক্ষতির অন্ত নেই। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান নারীদের শরীরেও নীরবে বড় প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে হরমোনের ভারসাম্য ও পিরিয়ড চক্রে। অনেক নারী অনিয়মিত পিরিয়ড, পিরিয়ডে তীব্র ব্যথা বা সন্তানধারণে সমস্যার জন্য স্ট্রেস, জীবনযাপন বা বংশগত কারণকে দায়ী করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা বা এন্ডোক্রাইন সিস্টেমকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে এই ধরনের সমস্যার সূত্রপাত।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের কথায়, ধূমপান ছাড়ার উপকার কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায়। শেষ সিগারেটটি নিভিয়ে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শরীর নিজেকে ঠিক করার কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হতে থাকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা কমে যায় এবং অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সুফল আরও স্পষ্ট হয়। কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে, শ্বাস নেওয়া সহজ হয় এবং শরীরে রক্ত চলাচলও উন্নত হয়।

No smoking day 2026 health risks of smoking
ছবি: সংগৃহীত

ধূমপান ছাড়লে ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, বিশেষ করে যারা ধূমপান চালিয়ে যান তাদের তুলনায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নো স্মোকিং ডে ধূমপায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই দিনটিকে সামনে রেখে অনেকেই ধূমপান ছাড়ার লক্ষ্য স্থির করতে পারেন। কাউন্সেলিং ও নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই সাহায্য করতে পারে।

এই সচেতনতা কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বাড়লেও তামাকজাত পণ্য ও নতুন ধরনের নিকোটিন ডিভাইস তরুণদের আকর্ষণ করছে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্য়বস্থাকে আরও জোরদার করা জরুরি। পরিবার, বন্ধু, স্বাস্থ্যকর্মীরা পাশে থাকলে থাকলে নিকোটিন আসক্তি কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সহজ হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির একটি। দীর্ঘদিনের ধূমপায়ী হলেও আজ যদি এই অভ্যেস ছাড়া যায়, তবে গুরুতর অসুখের ঝুঁকি অনেকটাই কমে এবং সামনে খুলে যায় দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের পথ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.