Nipah

নিপা-যুদ্ধে বড় মোড়, অক্সফোর্ডে শুরু ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল

ভারতে কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যে নিপা বারবার হানা দিয়েছে। সঠিক সময়ে এই টিকা বাজারে এলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। আপাতত গবেষণাগারের ফল ইতিবাচক বলে জানা যাচ্ছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১৬:৩৮

options
link
নিপা-যুদ্ধে বড় মোড়, অক্সফোর্ডে শুরু ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল
শুরু হল টিকার প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল

মারণ ভাইরাস ‘নিপা’ দমনে এবার বড় সাফল্য! দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হল নিপা টিকার প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে একে এক বিশেষ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই টিকা ঘিরে আশার আলো দেখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

Advertisement
human trial for Nipah vaccine
ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে নিপা। বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বারবার দেখা গিয়েছে। এমনকী এই বঙ্গেও দুই নার্সের ‘নিপা’ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল প্রায় সপ্তাহ তিনেক আগে। ফ্রুট ব্যাট বা বাদুড়ের লালা থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। অথচ এতদিনেও এর কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ নেই। অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের তৈরি ‘ChAdOx1 NipahB’ টিকাটি সেই খামতি পূরণ করতে চলেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

Advertisement

অক্সফোর্ডের ‘চ্যাডক্স ১’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই এই টিকা তৈরি করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছিল করোনা প্রতিরোধকারী কোভিশিল্ড টিকা। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই টিকা সাধারণের জন্য কততা নিরাপদ এবং আদৌ এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তুলতে পারছে কিনা তা যাচাই করাই এই ট্রায়ালের আসল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি ব্রিটেনের একদল সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মোট ৫১ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর এই পরীক্ষা চলবে। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। আগামী ১৮ মাস ধরে তাঁদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
Nipah-Virus
ফাইল ছবি

চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসের মহামারি রুখতে এই টিকা ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসকে ব্লু-প্রিন্ট প্যাথোজেন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ, যে কোনও সময় এটি অতিমারির রূপ নিতে পারে। অক্সফোর্ডের এই উদ্যোগ সেই আশঙ্কা মোকাবিলায় এক দৃঢ় পদক্ষেপ। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ব্রায়ান অ্যাঙ্গাস জানান, প্রথম পর্যায়ের এই ট্রায়াল টিকার সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যে নিপা বারবার হানা দিয়েছে। সঠিক সময়ে এই টিকা বাজারে এলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। আপাতত গবেষণাগারের ফল ইতিবাচক। এখন বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.