sepsis

পোষ্যের লালার ছোঁয়ায় বাদ গেল প্রৌঢ়ার দুই হাত, দুই পা! চিনে নিন রোগের লক্ষণ

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে স্বামী কমলজিতের। এই তো আগের দিনও বাড়ির পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে খেলার ছলে সময় কাটাচ্ছিলেন মনজিৎ! এমন কী ঘটল এরই মধ্যে? তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে জানা যায়, মনজিৎ ততক্ষণে কোমায়! কীকরে চিনবেন প্রাণঘাতী সেপসিস?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১৯:৫৮

options
link
পোষ্যের লালার ছোঁয়ায় বাদ গেল প্রৌঢ়ার দুই হাত, দুই পা! চিনে নিন রোগের লক্ষণ
পোষ্যের লালার ছোঁয়ায় বাদ গেল প্রৌঢ়ার দুই হাত, দুই পা।

ভালোবেসে প্রভুর ক্ষতস্থানে জিভের ছোঁয়া দিয়েছিল পোষা সারমেয়টি। এই সামান্য ঘটনাই যে প্রভুকে মৃত্যুর দরজায় দাঁড় করাবে, তা আর তখন কে-ই বা জানত!

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে। এক রবিবারের দুপুরে কাজ থেকে বাড়ি ফিরেই অবসন্ন শরীর বিছানায় এলিয়ে দিয়েছিলেন বছর বাহান্নর মনজিৎ সাঙ্ঘা। এরপর আর কিছুই মনে নেই তাঁর। পরদিন সকালে তাঁর স্বামী দেখেন, স্ত্রীর হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা। ঠোঁট রক্তশূন্য। শ্বাস প্রায় আসছে না বললেই চলে! স্বাভাবিকভাবেই, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে স্বামী কমলজিতের। এই তো আগের দিনও বাড়ির পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে খেলার ছলে সময় কাটাচ্ছিলেন মনজিৎ! এমন কী ঘটল এরই মধ্যে?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
dog lick caused sepsis
আগের দিনও পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে খেলার ছলে সময় কাটাচ্ছিলেন মনজিত!

তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে জানা যায়, মনজিৎ ততক্ষণে কোমায়! পরের ৩২টি সপ্তাহ যেন এক অনন্ত দুঃস্বপ্ন। জানা যায়, সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন মনজিৎ। যার জন্য দায়ী পোষা কুকুরটির লালা! আগে থেকেই কোনও কারণে এক ছোট ক্ষত ছিল মনজিতের দেহে। আদর করার সময়ে সেখানে ছুঁয়ে যায় কুকুরটির লালা। তা থেকেই সংক্রমণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহে।

Advertisement

ইনটেনসিভ কেয়ারে থাকাকালীন মোট ছয়বার বন্ধ হয়ে যায় মনজিতের হৃদস্পন্দন। সংক্রমণ রুখতে বাদ দিতে হয় দুই হাত ও দুই পা। বাদ যায় প্লীহাটিও।

সেপসিস কেন হয়?
আমাদের শরীর যখন কোনও সংক্রমণকে রুখতে ব্যর্থ হয়ে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন তা সেপসিসের রূপ নিতে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এক্ষেত্রে ভুলবশত সুস্থ টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রদাহ সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়।

কুকুরদের শরীরে থাকে ক্যাপনোসাইটোফেগা ক্যানিমোরসাস নামের এক ব্যকটেরিয়া, যা কুকুরদের পক্ষে একেবারেই ক্ষতিকারক নয়। তবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

dog lick caused sepsis
সংক্রমণ রুখতে বাদ দিতে হয় দুই হাত ও দুই পা। বাদ যায় প্লীহাটিও।

সেপসিসের লক্ষণ কী কী?

  • লালচে র‍্যাশ
  • প্রবল আকাঙ্খা সত্ত্বেও প্রস্রাব করতে না পারা
  • উদ্যমহীনতা
  • মাথাঘোরা
  • হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে ওঠা
  • রক্তচাপ আচমকা কমে যাওয়া
  • জ্বর, অথবা দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া
  • গায়ে কাঁটা দেওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • সারা শরীরে অসম্ভব বেদনা

অল্প সময়ের মধ্যে এই সবকটি লক্ষণই একসঙ্গে অনুভব করবেন সেপসিস আক্রান্ত ব্যক্তি। তেমন আশঙ্কা থাকলে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পোষ্যকে আদর করলেই যে এ রোগের মুখোমুখি হতে হবে, তা একেবারেই নয়। তবে সর্বদা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। পূর্বের ক্ষতস্থানে পোষ্যর লালা না লাগাই ভালো। তবুও যদি তেমন সম্ভাবনা থাকে, তবে বারেবারে জল ও সাবান দিয়ে ধুয়ে তা পরিষ্কার করতে হবে। পোষ্য ও নিজের শরীর- দুইয়েরই খেয়াল রাখুন। সুস্থ থাকুন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.