সাপ্লিমেন্টারি

মাছের তেল ক্যানসার প্রতিরোধী নয়, চিরাচরিত ধারণা ভেঙে সাবধানবাণী বিজ্ঞানীদের

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট কোনও উপকারী নয়, বলছে সমীক্ষার ফল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০, ১৫:৩৮

options
link
মাছের তেল ক্যানসার প্রতিরোধী নয়, চিরাচরিত ধারণা ভেঙে সাবধানবাণী বিজ্ঞানীদের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের যে উপকারিতা, তার ছিঁটেফোঁটাও নেই মাছের তেল বা তার সাপ্লিমেন্টগুলিতে। সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করে বিজ্ঞানীরা শোনালেন সাবধানবাণী। মাছের তেলের বিকল্প খাদ্যসামগ্রী এতটুকুও ক্যানসার প্রতিরোধী নয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রোজ রোজ সাপ্লিমেন্ট নিলেও উপকার হবে না। বরং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি গ্রহণ করলে, শরীর অনেক সুস্থ থাকে। হৃদরোগ, ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। এক বছর ধরে অন্তত হাজার জনের উপর সমীক্ষা চালিয়ে এই ফল পেয়েছেন আরবের অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

Advertisement

২০১৮ সাল থেকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেইমতো কাজ শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। গত এক বছর ধরে অন্তত এক লাখ লোকের উপর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের বিকল্প খাদ্যগ্রহণ নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। তাতে তাঁরা দেখেছেন, টানা যাঁরা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন, তাঁদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতায় কোনও বদল হয়নি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: প্রস্রাব করলেই মহিলার শরীর থেকে বেরচ্ছে মদ! কী বলছেন চিকিৎসকরা?]

আরবের নরউইচ মেডিক্যাল স্কুলের বিজ্ঞানী ডক্টর লি হুপারের কথায়, “এর আগেকার সমস্ত গবেষণা আমাদের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসডের বিকল্প নিয়ে আশা দেখিয়েছিল। এমনকী প্রস্টেট ক্যানসার রুখতে বেশ ভালমতো সাহায্য করে বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মাছের তেলের মতো খাবার হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, ডায়বেটিস, উদ্বেগ – এগুলো কোনও কিছুই কমাতে সাহায্য করে না।”

Advertisement

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের বিকল্প নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পরিবেশ বদলের কারণে মাছের উৎপাদন কমছে। ফলে উপকারী মাছের তেলের সরবরাহেও টান পড়েছে। এই অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি না নিয়ে উপায় নেই সাধারণ মানুষের। সেই সাপ্লিমেন্টারি যাতে সাধারণের নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্যেই এত গবেষণা। কিন্তু মাছের তেলের বিকল্প যদি অনুরূপ উপকারী না হয়, তাহলে তাতে লাভ কী? এই প্রশ্নই তুলে দিল সাম্প্রতিকতন গবেষণার ফল।

[আরও পড়ুন: চুয়াল্লিশ হাজারি ইঞ্জেকশনেই জীবনের পথে ফিরলেন বৃদ্ধা, নজির সরকারি হাসপাতালের]

এই মুহূর্তে বিশ্ব বাজারে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চলছে এই সাপ্লিমেন্ট নিয়ে। কিন্তু গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশের পর সেই বাজার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রোজ রোজ সাপ্লিমেন্টারি খাওয়ার পথ ছেড়ে বরং সপ্তাহে দু’দিন তৈলাক্ত মাছ খান, তাতেই শরীরে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা যথেষ্ট গড়ে উঠবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.