রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু আমাদের আবার মনে করিয়ে দিল, জল কখনও শুধু আনন্দের জায়গা নয়, অজানা বিপদেরও নাম। সাঁতার না জানলে সেই বিপদ আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। একটু অসাবধানতা, এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত, আর তাতেই ঘটে যেতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।
আরও পড়ুন:
জলে যে কোনও বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া উদ্ধারকারী এবং সাঁতার বিশেষজ্ঞদের কথায়, জলে বা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার (Drowning Prevention Tips)পরিস্থিতি তৈরি হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আতঙ্কিত না হওয়া। ভয় পেলে শরীর শক্ত হয়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়, আর এতে দ্রুত শক্তি ক্ষয় হয়। তাই প্রথমেই নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। মাথা জলের উপর রাখার জন্য হাত-পা অযথা ছোড়াছুড়ি না করে ধীরে, জলের গতি অনুযায়ী নড়াচড়া করা জরুরি।

তাঁদের কথায়, যদি আপনি সাঁতার না জানেন, তবে ভেসে থাকার চেষ্টা করুন। শরীরকে রিল্যাক্স রেখে পিঠের উপর ভাসার চেষ্টা করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়গুলোর একটি। এতে মুখ জলের উপর থাকে এবং শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। হাত দু’টো ছড়িয়ে ও পা সামান্য নড়াচড়া করলে, যা শরীর ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
তাঁদের পরামর্শ, সমুদ্র বা নদীতে থাকলে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই না করে তার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঢেউ এলে শরীরকে ঢেউয়ের সঙ্গে ওঠানামা করতে দিন। সরাসরি তীরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা না করে একটু আড়াআড়ি দিকে এগোলে অনেক সময় সহজে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো যায়। কাছাকাছি কোনও ভাসমান জিনিস দেখতে পেলে সেটি আঁকড়ে ধরুন। এমনকী ছোট কিছু হলেও সেটি আপনাকে কিছুক্ষণ ভাসতে সাহায্য করবে। এতে উদ্ধারকারী দলও কিছুটা সময় পাবে।

ফুসফুসে জল ঢুকে গেলে কী করণীয়?
ডুবে যাওয়ার পর অনেক সময় জল ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, যা খুবই বিপজ্জনক। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ফুসফুস বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে জল থেকে তুলে শক্ত, সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন। যদি সে শ্বাস না নেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর)(CPR) শুরু করতে হবে, অর্থাৎ, বুকের মাঝখানে চাপ দেওয়া এবং কৃত্রিম শ্বাসের ব্য়বস্থা করা। যদি শ্বাস চলতে থাকে কিন্তু কাশি, হাঁপানি বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে তাকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে রাখুন, যাতে মুখের জল বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, একা জলে নামা এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে সমুদ্রে বা গভীর জলে গেলে সাঁতার জানলেও অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত, আর আশেপাশে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড আছে কি না তা দেখে নেওয়া দরকার।
জল আমাদের টানে, কিন্তু সেই টানেই লুকিয়ে থাকে ঝুঁকি। তাই সচেতনতা, সামান্য প্রস্তুতি আর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই হতে পারে জীবনের রক্ষাকবচ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া