Smart Locks

বাড়িতে আগুন লাগলে ‘ভিলেন’ দরজার স্মার্ট লকই! বিপদে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখুন

আধুনিক জমানায় এসেছে বায়োমেট্রিক বা স্মার্ট লক। আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় খোলে সিংহদুয়ার। মোবাইল অ্যাপের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয় অন্দরমহল। আমাদের পরিবার পরিজন সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের গোলকধাঁধায় এই নিশ্চিন্ত সুরক্ষাই মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে না তো?

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ১৮:১৫

options
link
বাড়িতে আগুন লাগলে ‘ভিলেন’ দরজার স্মার্ট লকই! বিপদে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখুন zoom
সুরক্ষার স্মার্ট লকই কি যমদুয়ার? ছবি এআই দ্বারা প্রণীত।

চোর-ডাকাত রুখতে দরজায় ভারী তালা ঝোলানোই দস্তুর। কিন্তু আধুনিক জমানায় এসেছে বায়োমেট্রিক বা স্মার্ট লক (Smart Locks)। আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় খোলে সিংহদুয়ার। মোবাইল অ্যাপের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয় অন্দরমহল। আমরা নিশ্চিত হই। আমাদের পরিবার পরিজন সুরক্ষিত। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের গোলকধাঁধায় এই নিশ্চিন্ত সুরক্ষাই মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে না তো? সাম্প্রতিক লখনউ, দিল্লি বা ইন্দোরের ভয়াবহ অগ্নিকান্ড আমাদেরকে এক নির্মম ও জ্বলন্ত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Smart lock safety tips during a house fire emergency
ছবি: সংগৃহীত

বিপদ যখন আসে, তখন সময়ের হিসেব বদলে যায়। অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগুন লাগলে লেলিহান শিখার চেয়েও আগে ছুটে আসে বিষাক্ত ধোঁয়া আর তীব্র তাপ। ঘরের মেঝেতে যেখানে তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাথার উচ্চতায় তা নিমেষের মধ্যে পৌঁছোয় ৬০০ ডিগ্রিতে। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে মানুষের বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ধোঁয়ায় চোখ অন্ধ হয়ে আসে। ঠিক তখনই প্রয়োজন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার একটি অবাধ পথ। কিন্তু আধুনিক বহুতল বা ফ্ল্যাটের নকশা তৈরি হচ্ছে মূলত চুরি-ডাকাতি ঠেকানোর কথা মাথায় রেখে। বিপর্যয় মোকাবিলার পথ সেখানে চরম অবহেলিত।

লখনউয়ের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তদন্তে দেখা গিয়েছে, সেখানকার স্বয়ংক্রিয় লক ব্যবস্থা খোলেনি। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে শেষ পর্যন্ত দেওয়াল ভাঙতে হয়েছিল উদ্ধারকর্মীদের। দিল্লির বিবেক বিহার বা ইন্দোরের ঘটনাতেও দেখা গিয়েছে একই চেনা ছবি। স্মার্ট লকের গোলযোগে মানুষ আটকা পড়েছে আগুনের কবলে।

ডিজিটাল লক কেন অকেজো হয়ে যায়?
চরম উত্তাপে এই লকগুলির অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও সেন্সর বিকল হয়ে যায়। শর্ট সার্কিট হয়ে গলে যায় ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ব্যাক-আপ ব্যবস্থা অনেক সময় কাজ করে না। তার ওপর চরম আতঙ্কের মুহূর্তে মানুষ পাসওয়ার্ড বা ইমার্জেন্সি ওভাররাইড কোড ভুলে যায়। ফলে যে প্রযুক্তি নিরাপত্তার গ্যারান্টি নিয়ে হাজির হয়েছিল, সেটাই বিপদের দিনে হয়ে ওঠে যমদুয়ার।

How smart locks can pose risks during a home fire
ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তির পিঠে চড়ে আমরা আধুনিক হয়েছি ঠিকই, কিন্তু জীবনদায়ী সচেতনতা হারিয়েছি। দামি সিসিটিভি ক্যামেরা বা সুরক্ষায় মোড়া লক কিনতে আমরা লক্ষ টাকা খরচ করি। কিন্তু আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে বাঁচতে হবে, তা নিয়ে কোনও মহড়া আমাদের পরিবারে বা আবাসনে দেখা যায় না। প্রযুক্তি আসল খলনায়ক নয়, খলনায়ক আমাদের উদাসীনতা। মনে রাখতে হবে, সুরক্ষা তখনই সার্থক, যখন তা জীবন বাঁচায়। দরজার কাজ শুধু আটকে রাখা নয়, চরম বিপদে মুক্তি দেওয়াও।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন