ঘরের দেওয়ালে সামান্য একটা টিকটিকি। তা দেখে আমাদের ভয়ের শেষ নেই। টিকটিক শব্দে আজও অনেকের মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। কেউ ভাবেন অশুভ। কেউ আবার ভয়ে সিঁটিয়ে যান। কিন্তু জানেন কি, এই ছোট্ট প্রাণীটি যদি গৃহের বিশেষ স্থানে দেখা দেয়, তাহলে বাস্তুশাস্ত্রের নিয়ম মেনে রয়েছে তার ভিন্ন অর্থ। কী সেই চমকপ্রদ ইঙ্গিত?
বাস্তুবিদদের মতে, ঠাকুরঘরে টিকটিকির বিচরণ মোটেও ভয়ের কারণ নয়। সনাতন বিশ্বাসে টিকটিকিকে ধনদেবী মা লক্ষ্মীর প্রতীক বা বাহক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই দেবালয়ে এর উপস্থিতি আদতে এক পরম সৌভাগ্যের লক্ষণ। যদি দেখেন ঘরের ঠাকুরঘরে একটি টিকটিকি আপনমনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তবে বুঝবেন আপনার সংসারে দ্রুত সুদিন ফিরতে চলেছে। এটি পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আগমনের অমোঘ সংকেত। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কোনও গোপন আর্থিক অনটন বা ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির বার্তাও বয়ে আনে এই ছোট্ট জীবটি।
আরও পড়ুন:

তবে সব ক্ষেত্রে টিকটিকির অবস্থান শুভ নয়। বাস্তুশাস্ত্রে এর কিছু ভিন্ন মাত্রাও রয়েছে। যেমন, ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে টিকটিকি দেখা অত্যন্ত অশুভ। এটি জীবনে কোনও আকস্মিক বিপর্যয় বা খারাপ ঘটনার ইঙ্গিত দেয়। আবার দেওয়াল বেয়ে টিকটিকিকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখাও ভালো লক্ষণ নয়। এতে সংসারে চরম আর্থিক সংকটের সম্ভাবনা বাড়ে। যদি ঘরের দেওয়ালে দুটি টিকটিকিকে পরস্পরের সঙ্গে লড়াই করতে দেখেন, তবে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। শাস্ত্র মতে, এটি গৃহস্থের পরিবারে কোনও কঠিন রোগব্যাধি বা কলহ ডেকে আনার পূর্বলক্ষণ। এমনকী ঘরে মরা টিকটিকি পড়ে থাকাও চরম অমঙ্গল ডেকে আনে।
বিপরীত দিকে, বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার বা সদর দরজার সামনে টিকটিকির দর্শন পাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি একদিকে যেমন আসন্ন বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়, যা শস্য-শ্যামলা প্রকৃতির প্রতীক, তেমনই অন্যদিকে ঘরে অতর্কিত অর্থ আগমনেরও সুনির্দিষ্ট সংকেত বহন করে। তাই ঘরের কোণের এই চেনা জীবটিকে শুধু ভয়ের চোখে না দেখে, তার গতিবিধির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা শাস্ত্রীয় ইঙ্গিতগুলি বুঝে নেওয়া দরকার। ভক্তি আর বিশ্বাসের মেলবন্ধনেই তো গড়ে ওঠে আমাদের সুখী গৃহকোণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি, আসতে পারে প্রতিনিধি দল, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
সিএপিএফ মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন ডেরেকের, আলোচনা হবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে
-
উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও হোক প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর, আর্জি শমীকের
-
সংঘের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক রাজ্য বিজেপির, লক্ষ্মীবারে দিল্লিতে এক টেবিলে শমীক-শুভেন্দু
-
একবারেই কর্মীদের ৭ বছরের বকেয়া ডিএ মেটাবে সরকার, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের