raising confident child

সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে চান? এই ৬ ভুলে ভাঙছেন মনোবল!

সন্তান যেন অলরাউন্ডার হয়, এই উদ্দেশে স্কুলের পরেও একাধিক প্রাইভেট ট্যিউশন ও একের পর এক নাচ-গান-সাঁতার-আবৃত্তির ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন বাবা-মা। কিন্তু এতে শিশুটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের সহজ গতিতে বিকশিত হওয়ার বদলে বড়দের মনোমতো হওয়ার চাপ তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৭:২৯

options
link
সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে চান? এই ৬ ভুলে ভাঙছেন মনোবল! zoom
স্কুল-ট্যিউশন-নাচগানের ক্লাস একসঙ্গে চাপিয়ে দিলে প্রতিভাবান হওয়ার বদলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে শিশু।

প্রত্যেক বাবা-মা-ই সন্তানের ভালো চান। বড় হয়ে সে মানুষের মতো মানুষ হবে (raising confident child), বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে— এমন কতই না স্বপ্ন থাকে বাড়ির ছোট সদস্যটিকে ঘিরে। কিন্তু অজান্তেই কখনও কখনও বাবা-মা তার সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করে বসেন, যার ফলে একরত্তির মনের উপর কুপ্রভাব পড়ে। কম বয়সেই মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

avoid these 6 behaviours to raise a confident child
ছোট ভুলে মাত্রাতিরিক্ত বকাবকি করলে শিশু মিথ্যে বলার অভ্যাস করে নেয়।

১. অন্যের সঙ্গে তুলনা
সহপাঠী বেশি নম্বর পেয়েছে, অথবা কোনও তুতো ভাইবোন তোমার চেয়ে বেশি প্রতিভাধর— প্রায়শই এমন কথা অভিভাবক বলে থাকেন সন্তানকে। এতে শিশুটির আত্মসম্মান গভীর আঘাত পায়। বাবা-মা হয়তো সন্তানকে অনুপ্রাণিত করতে চান, কিন্তু বাস্তবে এই তুলনা হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়।

২. অতিরিক্ত ব্যস্ত দৈনিক সময়সূচি
সন্তান যেন অলরাউন্ডার হয়, এই উদ্দেশে স্কুলের পরেও একাধিক প্রাইভেট ট্যিউশন ও একের পর এক নাচ-গান-সাঁতার-আবৃত্তির ক্লাসে ভর্তি করিয়ে দেন বাবা-মা। কিন্তু এতে শিশুটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের সহজ গতিতে বিকশিত হওয়ার বদলে বড়দের মনোমতো হওয়ার চাপ তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

৩. ভুলের জন্য অতিরিক্ত বকাবকি
ছোটরা ভুল করেই। তাদের শাসন করাও গুরুত্বহীন নয়। কিন্তু এমন অনেক অভিভাবক আছেন, যারা অকারণেই মাত্রাতিরিক্ত বকাবকি করতে থাকেন বাড়ির ছোটদের। এতে তারা আতঙ্কিত হয়, বাবা-মায়ের প্রতি বিশ্বাস হারায়। এবং মিথ্যে বলার প্রবণতা জন্মায় তাদের মধ্যে।

৪. বড়দের সমস্যা নিয়ে তাদের সামনে আলোচনা করা
বড়রা হয়তো ভাবেন, ছোটরা বোঝে না। কিন্তু এ কথা সর্বতভাবে সঠিক নয়। অনেক সময়েই বড়দের হাবভাব দেখে তারা পরিস্থিতির জটিলতা আন্দাজ করে ফেলে। বাবা-মা যদি অবাধে সন্তানের সামনে বড়দের যে কোনও ধরনের সমস্যা খোলামেলাভাবে আলোচনা করেন, তবে তাতে খুদেটির মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৫. তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া
ছোটরা সহজেই আঘাত পায়, আবার খুশিও হয়ে যায় চট করে। কিছু সময় বড়রা তাদের অনুভূতিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেয়। এতে ছোটরা নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং অন্তর্মুখী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিলে, শিশুরা অনেক বেশি বুদ্ধিমত্ত্বা অর্জন করে। আবেগ নিয়ন্ত্রণও শেখে ক্ষেত্রবিশেষে।

avoid these 6 behaviours to raise a confident child
ছোটদের অনুভূতিকে অনেক সময়ে গুরুত্বহীন বলে মনে করেন অভিভাবক।

৬. ছোটদের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা
বাবা-মায়েরা তো ছোটদের পথ দেখাবেন বটেই, তবে ছোট বলেই তার সিদ্ধান্তকে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। জীবনের সব সিদ্ধান্তই যদি বড়রা তাদের উপর চাপিয়ে দেয়, তবে সন্তানদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরক্তি দেখা দেয়। বরং অভিভাবকের উচিত, তাদের মতটি শোনা। সম্ভব হলে কিছুক্ষেত্রে সন্তানকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এতে শিশুটি আত্মবিশ্বাসী হয়। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন