Mental health tips

প্রিয়জন প্রায়শই অপমান করেন? আবেগ সরিয়ে পরের ১০ সেকেন্ডেই জবাব দিন এই উপায়ে

আপমানের ফলে যে অনুভূতি তৈরি হয় মনের ভিতর, তা দমন করলে মানসিক চাপ তৈরি করে। কিন্তু বোঝার চেষ্টা করলে অনুভূতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১৪:০১

options
link
প্রিয়জন প্রায়শই অপমান করেন? আবেগ সরিয়ে পরের ১০ সেকেন্ডেই জবাব দিন এই উপায়ে
বারবার অপমানিত হলে মনের ভিতর পুঞ্জিভূত হয় রাগ।

কর্মক্ষেত্র হোক বা বাড়ি— কখনও অপমানিত হয়নি, এমন মানুষ মেলা ভার। উলটোদিকের মানুষ যদি অযাচিতভাবে অপমানজনক কোনও মন্তব্য করে, তবে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার জেরেই মাথা গরম হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। ফিরিয়ে জবাব দিতে ইচ্ছে হওয়ার কথা। তা না দেওয়া গেলে, এই রাগ পুঞ্জিভূত হতে থাকে মনের মতো। কিন্তু উত্তর দিলেও কি অপমান মিটে যায়? অনেক সময়েই দীর্ঘদিন ধরে তা কষ্ট দিয়ে চলে।

Advertisement

বাঁচার উপায়? রয়েছে পরের ১০ সেকেন্ডেই। আর এ কথা মনোবিদরাই বলছেন।

Advertisement
Insulted? Try the 10-Second Rule Before You React
কর্মক্ষেত্রেও প্রায়শই অপমানিত হতে হয় কর্মচারীদের।

চাণক্য ‘অর্থশাস্ত্রে’ লিখেছিলেন, যে মানুষ ক্রোধ সংবরণ করতে পারে না, সে কখনওই গুরুদায়িত্ব পালনের যোগ্য নয়। যে ব্যক্তি অপমানের জবাবে সঙ্গে সঙ্গে রেগে যায়, সে অজান্তেই ক্ষমতা তুলে দেয় অপমানকারীর হাতে। বুদ্ধিমান মানুষ কিন্তু অপমানের জবাবে আচমকা রেগে যায় না। বরং পরের ১০ সেকেন্ডকে কাজে লাগায়। ওই কয়েক মুহূর্তের আচরণই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ।

Advertisement

প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে অপমানটিকে বুঝুন
সব অপমান এক রকম নয়। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দেয়, শুধু আপনার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। কারও আবার কটু কথা বলার স্বভাব থাকে। আবার অনেকে নিজের হতাশা-রাগ অন্যের দিকে ছুড়ে দেয়।

প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করুন—
• যে বলেছে, তার মতামত কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ?
• কোথায় বলা হয়েছে? অফিসের মিটিংয়ে সবার সামনে অপমান আর ব্যক্তিগত পরিসরে বলা কটু কথার প্রভাব এক নয়।
• কথাটির মধ্যে সত্য রয়েছে কি? এটাই সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন, তাই বেশিরভাগ মানুষ এড়িয়ে যান।

Insulted? Try the 10-Second Rule Before You React
১০ সেকেন্ডে মন শান্ত করুন, নির্ধারণ করুন পরবর্তী প্রতিক্রিয়া।

অনুভূতিকে নাম দিন
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী জেমস গ্রসের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিজের অনুভূতির নামকরণ করলে তার তীব্রতা কমে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যাফেক্ট লেবেলিং (Affect Labelling)। অন্য কাউকে বলতে হবে না, নিজের মনে নির্ধারণ করুন যে অপমানটির ফলে আপনার যে অনুভূতি, তা কোন পর্যায়ে পড়ে? খারাপ লাগা, রাগ নাকি অপ্রস্তুত লাগা?

অনুভূতি দমন করলে ভেতরে চাপ তৈরি করে। কিন্তু বোঝার চেষ্টা করলে তা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। আপনার সামনে থাকা মানুষটি এই অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া দেখতে পায় না। শুধু দেখে, আপনি অপমানের পড়েও ভেঙে পড়েননি। অনেক সময়েই পেশাগত ও সামাজিক পরিবেশে এই স্থিরতা আত্মবিশ্বাসের পরিচয় হিসেবে ধরা হয়।

একটি তীক্ষ্ণ জবাব হয়তো মুহূর্তের জয় এনে দিতে পারে। কিন্তু সংযত প্রতিক্রিয়া মানুষের মনে আপনার সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.