Uttarakhand

গা ছমছমে পরিবেশ! উত্তরাখণ্ডের এই ৪ জায়গা থেকে হাড়হিম অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন পর্যটকরা

এ নেহাত কোনও মুখরোচক গল্প নয়। স্থানীয় বহু মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন এমন ভয়াল ঘটনা। শুধু তাই নয়, রয়েছে এমন কিছু পাহাড়ি অঞ্চল যেখানে নাকি দিনের বেলাতেও মানুষ যেতে ভয় পান। বিশ্বাস না হয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন। কোথায় যাবেন? রইল হাড়হিম করা ৪ ভুতুড়ে ঠিকানা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০২৬, ১৫:৫৮

options
link
গা ছমছমে পরিবেশ! উত্তরাখণ্ডের এই ৪ জায়গা থেকে হাড়হিম অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন পর্যটকরা
দিনের আলো ফুরোলেই নাকি এইসব পাহাড়ি অঞ্চলে শুরু হয় বিদেহী আত্মাদের আনাগোনা!

পর্যটনের স্বর্গরাজ্য উত্তরাখণ্ড। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে একা দাঁড়িয়ে। যেন এক রূপকথার রাজ্য। একদিকে কেদারনাথ, বদ্রীনাথের মতো তীর্থস্থান। অন্যদিকে নৈনিতাল-মুসৌরির মায়াবী সৌন্দর্য। কিন্তু এই পাহাড়ি স্থানে শুধু সৌন্দর্য নয়, পাশাপাশি লুকিয়ে এক বীভৎস জগৎ। রাত বাড়লেই টের পাওয়া যায় ‘তেনা’দের উপস্থিতি। একাকী পথে আচমকা ভারী হয়ে ওঠে গা। খাদের অন্ধকার থেকে ভেসে আসে নাকি কান্নার সুর! স্থানীয়দের দাবি, দিনের আলো ফুরোলেই নাকি এইসব পাহাড়ি অঞ্চলে শুরু হয় বিদেহী আত্মাদের আনাগোনা। এ নেহাত কোনও মুখরোচক গল্প নয়। স্থানীয় বহু মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন এমন ঘটনা। শুধু তাই নয়, রয়েছে এমন কিছু জায়গা যেখানে নাকি দিনের বেলাতেও মানুষ যেতে ভয় পান। বিশ্বাস না হয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন। কোথায় যাবেন? রইল এমনই ৪ ভুতুড়ে ঠিকানা।

Advertisement
জঙ্গল ঘেরা পাহাড়। নাম পরী টিব্বা।

পরী টিব্বা
মুসৌরির উডস্টক স্কুল। তার ঠিক দক্ষিণে জঙ্গল ঘেরা পাহাড়। নাম পরী টিব্বা। মেঘলা দিনে এখানে আকাশের বুক চিরে নেমে আসে ভয়ঙ্কর সব বজ্রপাত। স্থানীয়রা বলেন, এই জঙ্গলেই একদা বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছিল দুই প্রেমিক-প্রেমিকার। সেই থেকে আজ অবধি নাকি তাঁদের অতৃপ্ত আত্মা এই পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাতে জঙ্গলের বুক থেকে ভেসে আসে ফিসফিসানি। অনেকেই দাবি করেন, গভীর রাতে নাকি বহুবার দেখাও মিলেছে সেই যুবক-যুবতীর। শোনা গিয়েছে তাদের শেষমুহূর্তের আর্তনাদ। যুগলের অতৃপ্ত আত্মা আজও ঘুরে বেড়ায় পরী টিব্বাতে। তাই জায়গাটি ভুতড়ে হিসেবে বেশ কুখ্যাত।

Advertisement
এক সময় এটি ছিল ব্রিটিশ দম্পতির বাসস্থান।

লোহাঘাটের মুক্তি কোঠরি
চম্পাবত জেলার লোহাঘাট। সেখানে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত বাংলো। এক সময় এটি ছিল ব্রিটিশ দম্পতির বাসস্থান। পরে হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়। এখানকার এক ডাক্তারবাবুর কুখ্যাতি ছিল মারাত্মক। তিনি নাকি নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারতেন কোন রোগী কবে মরবেন। নেপথ্যে অবশ্য অন্য ঘটনা। ভবিষ্যদ্বাণী সফল করতে নিজেই নাকি রোগীদের বন্দি করে খুন করতেন। যে ঘরে রোগিদের বন্দি করে রাখতেন, সেই ঘরটির নাম ‘মুক্তি কোঠরি’। রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে আজও আর্তনাদের শব্দ ভেসে আসে। রাত বাড়লেই তীব্র আর্তনাদে খান খান হয় অন্ধকার। আতঙ্ক জাগে হাসপাতালে।

Advertisement
১৯৯০ সাল পর্যন্ত এখানে চুনাপাথর তোলার কাজ চলত।

লাম্বি দেহর খনি
মুসৌরির এই খনিটি ‘মৃত্যুর খনি’ নামে পরিচিত। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এখানে চুনাপাথর তোলার কাজ চলত। কিন্তু সুরক্ষার অভাবে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে রক্ত বমি করতে করতে মারা যান প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক। ১৯৯৬ সালে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে আজও খনি থেকে ভেসে আসে কাশির শব্দ। এমনকী খনির কাছাকাছি গেলেই নাকি রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। শুধু কি তাই? খনি অঞ্চলে হেলিকপ্টার গেলে তাও ভেঙে পড়ার ঘটনা রয়েছে। বিশ্বাস না হলে ঘুরেই আসুন। তবে নিজ দায়িত্বে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, ক্যাপ্টেনের আত্মা আজও তাঁর প্রিয় প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায়।

মুলিঙ্গার প্রাসাদ
১৮২৫ সালে আইরিশম্যান ক্যাপ্টেন ইয়ং মুসৌরিতে তৈরি করেছিলেন মুলিঙ্গার ম্যানশন। এলাকার প্রথম পাকা বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল এটি। একদিন আচমকাই ক্যাপ্টেন ইয়ং উধাও হয়ে যান। কারও মতে, তিনি দেশে ফিরে গেছেন। কেউ বা মনে করেন, তিনি মারা গিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস, ক্যাপ্টেনের আত্মা আজও তাঁর প্রিয় প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাতে এই পথ দিয়ে কেউ গেলে নাকি অদৃশ্য এক ছায়া এসে তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা কেউ কেউ নিজে এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও দাবি করেন। আপনিও যদি এমন কোনও ভুতুড়ে ঘটনার সাক্ষ্মী হতে চান, তাহলে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে সোজা হাঁটা দিন। এই চার অভিশপ্ত স্থানের যেকোনও একটিতে পৌঁছলেই আপনার মনস্কামনা পূর্ণ হবে নিশ্চিত!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.