তরুণকান্তি দাস: লক্ষ্মীপুজো শেষ। দীপাবলির রোশনাই রাজ্যজুড়ে। কিন্তু লক্ষ্মীলাভ দূরের কথা, পর্যটনে রোশনাই দূর অস্ত। বরং বলা ভাল অন্ধকার যেন আরও গাঢ় হয়ে বসছে এই শিল্প। লক্ষ্মীপুজোর পর রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র দিঘা, দার্জিলিং, ডুয়ার্স মাছি তাড়াচ্ছে। অথচ এর আগে দুর্গাপুজো থেকে দীপাবলি পর্যন্ত হোটেলে ঘর পাওয়া ছিল লটারির পুরস্কার পাওয়ার মতো ব্যাপার। এবার সেখানে হোটেল, রিসর্টগুলো হাপিত্যেশ করে বসে রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হোম স্টের। বহু হোম স্টে এবার পুজোর ক’দিন ছাড়া কোনও বুকিং পায়নি। গতবারের চেয়ে এবার ব্যবসা হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ কম। সব মিলিয়ে ছবিটা বেশ করুণ। এবং পরিস্থিতির কোনও দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল।
পুজো এবং শীতের মরশুমেই ব্যবসা করে বাংলার পর্যটনশিল্প। স্কুলে গরমের ছুটিতে ব্যবসা হয় বটে তবে তা অনেকটাই উত্তরবঙ্গকেন্দ্রিক। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে ওই সময় মানুষ ছোটেন পাহাড়ে। তাই ডুয়ার্সও কিছুটা ব্যবসা পায়। কিন্তু বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, মুকুটমণিপুর, অযোধ্যা পাহাড়, হাজারদুয়ারি বা সুন্দরবন এই সময় বিশেষ ব্যবসার মুখ দেখে না। সেই তুলনায় দিঘা, মন্দারমণি অনেকটাই বছরভর পর্যটক টানে। এবার কিন্তু সেই জোয়ার নেই।
[আরও পড়ুন: ৩৭০ বিলোপের পর লাদাখের পর্যটনে নয়া দিগন্ত, আমজনতার জন্য খুলছে সিয়াচেনের রাস্তা]
দিঘা হেল্প ডেস্কের তরফে আশিস দুবে বলেন, “পুজোয় প্রায় প্রতিবছর হোটেলগুলি চাপ সামলাতে পারে না। অনেকেই চড়া দামে ঘর ভাড়া দেন। যে যেমন খুশি টাকা নেন বলে বারবার অভিযোগ ওঠে। এবার সেই অভিযোগ নেই বললেই চলে। কারণ, পর্যটকের চাপ নেই। বিজয়ার দিন তিনেক পর থেকেই দিঘা কেমন যেন খাঁ খাঁ করছে। যা দেখতে আমরা অভ্যস্ত নই।” ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা দীপ্তেন্দু দে স্বীকার করেন এবার বাজার ভাল ছিল না। তাঁর কথায়, “পুজোর দিনগুলো দেখলে চলবে না। দীপাবলি পর্যন্ত সব হোটেল, রিসর্ট ভরা কি না সেটা দেখতে হবে। সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে এবার তো পুজোর ঠিক পরেই সব ফাঁকা। ব্যবসা কোথায়? ভ্রমণবিলাসী বাঙালি কোথায়?” ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের কর্তা নীলাঞ্জন বসু ব্যাখ্যা দিয়েছেন, “মানুষ এবার দু’-একদিনের বেড়ানোতেই মনের সাধ মিটিয়েছেন। লম্বা ট্যুরে যাননি বেশি মানুষ। তবে এবার নয়, গত ২০১৭ সাল থেকেই এই সমস্যা চলছে। সবাই সস্তার ট্যুরে মন দিয়েছেন। বিলাসবহুল বেড়ানোর বাজারটাই যেন মরে গিয়েছে। প্যাকেজ বা কর্পোরেট ট্যুর নেই। যা আসলে এই শিল্পের প্রাণ। যেখান থেকে বড় অঙ্কের লাভের মুখ দেখা যায়। এই শিল্পে যুক্তদের তাই সমস্যা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই লোক কম হওয়ায় প্যাকেজ বাতিল হয়েছে এমনটাও ঘটেছে।” সব মিলিয়ে পর্যটনশিল্পে এ বড় সুখের সময় নয়।
সর্বশেষ খবর
-
আরবানায় থাকার যোগ্যতা থেকে ফুটপাথের মেয়েকে অসম্মান, রচনার ‘কুবচনে’ ফুঁসছেন ঋদ্ধি- ঋত্বিক-শ্রীলেখারা
-
বিধান ভবনে বাদানুবাদ, কর্মসূচি নিয়ে ভর্ৎসনার মুখে উত্তেজিত মনোজ, কড়া বার্তা বেণুগোপালের
-
রামনবমীতে অশান্তি! এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের কাউন্সিলর স্বামী
-
‘রাজনীতির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয় বইমেলা’, সাফ জানালেন শমীক
-
কিডনির যত্নে গরিব-মধ্যবিত্তের নবদিশা, শম্পা বোসের স্মৃতিতে যাত্রা শুরু নয়া হাসপাতালের