প্রচারের অভাবে ধুঁকছে দক্ষিণ পুরুলিয়ার সাইট সিয়িং ঝরনাকোচা। পরিকাঠামো না থাকায় মুখ ফিরিয়েছে পিকনিক করতে আসা মানুষজনও। অন্যদিকে পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় ভরা শীতেও দ্বার বন্ধ অতিথি আবাসের। স্থানীয় মানুষজনের কথায়, চোখ জুড়িয়ে যাওয়া পরিবেশ। কিন্তু পর্যটন পরিকাঠামো নেই। তাই পর্যটকরা পা রাখছেন না।
আরও পড়ুন:

২০১৮ সালে দক্ষিণ পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের সিন্দরি অঞ্চলের পাহাড়ি জঙ্গল ঝরনাকোচা সাইট সিয়িং হিসাবে তুলে ধরে ব্লক প্রশাসন। ঝরণাকোচা গ্রাম লাগোয়া রয়েছে ধারবুরু ও কোন্ডামাই পাহাড়। রয়েছে শাল, পিয়াল, মহুল সহ একাধিক দেশীয় গাছ। দুটি পাহাড়ের সংযোগস্থল থেকেই ঝরে পড়ছে জল। পাহাড়ের গোড়ায় থাকা বন দপ্তরের একটি পুকুরে সেই জল পড়ছে। শান্ত নিরিবিলি ওই স্থানে একাধিক জানা-অজানা পাখির ডাক শোনা যায় সারাদিন। এছাড়াও পাহাড়ের উপর একটি প্রাকৃতিক গুহা রয়েছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন টুরিস্ট স্পট হিসেবে জায়গা পাইয়ে দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ওই পাহাড়ের অন্যপাশে ফুলঝোর গ্রামের অদূরে একটি কমিউনিটি সেন্টারকে সাজিয়ে তোলা হয়। প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই কমিউনিটি সেন্টারকে পর্যটক আবাসের রূপ দেয় প্রশাসন। সেখানে ৮ জনের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। রান্নাঘর থেকে ডাইনিং চালু করা হয়। ওই সময় পঞ্চায়েত সমিতির তরফে থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয় পরবর্তী সময়ে সেখানে টেন্টের ব্যবস্থা নেওয়ার। ফুলঝোরের একটি ক্লাবকে ওই পর্যটক কেন্দ্রটি দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই আবাসটি চালুর পর কয়েকজন পর্যটক এসেছিলেন। তবে গত দু’বছর ধরে আর কেউ আসেন না সেখানে।

পর্যটক আবাসের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফুলঝোর গ্রামের বাসিন্দা সেরমা সুশার সোরেন বলেন, “গত দু’বছর ধরে আর কেউ আসেন না এখানে। প্রশাসনের তরফে এই পর্যটন কেন্দ্রকে প্রচারের মাধ্যমে তুলে ধরলে আমরা আশাবাদী অনেকেই আসবেন।” তৃণমূল পরিচালিত সিন্দরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন, “আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে পর্যটন মানচিত্রে নতুন ভাবে এই পর্যটনস্থলটিকে তুলে ধরা যায়। পাশাপশি সেখানে পরিকাঠামো গড়ার জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেখানে বনভূমি হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।” ঝরনাকোচা গ্রামের বাসিন্দা রতন হাঁসদা, লখিন্দর মান্ডি বলেন, “আগে শীতের সময় অনেকেই পিকনিক করতে আসতেন এখানে। তবে চলতি বছর তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি।” পিকনিকে আসা একটি দলের সদস্য নির্মল মাহাত, বৃন্দাবন মাহাতো বলেন, “পাহাড়, জঙ্গল ঘেরা এই জায়গাটি অত্যন্ত মনোরম। এখানকার মানুষজনও খুব ভালো। তবে প্রশাসনের উচিত এখানে পরিকাঠামো গড়ে তোলা। পানীয় জল বলতে একটি টিউবওয়েল রয়েছে। তাছাড়া সেখানে আর কিছুই নেই।পরিবার নিয়ে এলে শৌচালয় তো প্রয়োজন। সেটাও নেই এখানে।” বরাবাজার ব্লকের বিডিও সুমিতরঞ্জন মণ্ডল বলেন, “আমরা চিন্তা ভাবনা করছি কীভাবে ওই পর্যটনস্থলটিকে ব্যাপকভাবে প্রচারে আনা যায়। পাশাপশি পর্যটকদের থাকার জন্য যে ব্যবস্থা সেখানে আছে সেখানে বুকিং করার জন্য তার যোগাযোগের নম্বরও ওয়েবসাইটে তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে।”
সর্বশেষ খবর
-
ভেনেজুয়েলার পর ফের ভূমিকম্প! কাঁপল ফিলিপিন্স, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.৪!
-
SIR-নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা অধীরের, কী দাবি প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদের?
-
জাহাঙ্গিরকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’, পর্যবেক্ষণ হাই কোর্টের
-
পরচুলা পরতেন বলেই খুন কেতন? ‘মোটিভ’ নিয়ে নয়া তত্ত্ব, মুখ খুললেন প্রয়াত তরুণের বাবা
-
বাংলার নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাট্রিক্স ওয়ান’, ক্লাসিক ছবি-সহ থাকছে একগুচ্ছ চমক