অত্যাধিক কাজের চাপ? চোখের তলায় কালি! পাশে ঠান্ডা চা। ল্যাপটপের আলোয় দিনরাত এক। কর্পোরেট জীবনের চেনা ছবিটা এমনই। কিন্তু সেই ডিসপ্লে-র ওপারেই রয়েছে আলাদিনের প্রদীপ! অবাক হচ্ছেন?
আরও পড়ুন:
ডিগ্রির বোঝা যত ভারী, মাইনের খাম তত মোটা। এমনটাই মনে করেন সবাই। কিন্তু সেই পুরনো বিশ্বাসে ধুলো জমিয়ে এখন বাজারে নতুন এক সোনার হরিণ। তার নাম ‘হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং’। সংক্ষেপে, এইচএফটি (HFT)। গল্পটা ঠিক কী? অভিজ্ঞতার ঝুলিকে তুচ্ছ করে শুধু মগজের কেরামতিতেই এবার পকেটে ঢুকবে কোটি কোটি টাকা। আজ্ঞে হ্যাঁ, আপনার পকেটের কথাই বলছি।
গুরুগ্রাম থেকে আমস্টারডাম, নামীদামি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি এখন ভারতীয় তরুণদের পকেটে টাকা গুঁজে দিতে এক পায়ে খাঁড়া। যেখানে সাধারণ ইন্টার্নশিপে হাতে মেলে সামান্য হাতখরচ, সেখানে গুরুগ্রামের কোয়াডআই (Quadeye) দু’মাসের জন্য ইন্টার্নদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার থলে! পিছিয়ে নেই গ্র্যাভিটনও। তারা দিচ্ছে ৫০ লক্ষ টাকা। আর আমস্টারডামের আইএমসি ট্রেডিং কিংবা অপটিভারের কথা তো ছেড়েই দিন। ইন্টার্নদের জন্য তাদের বরাদ্দের অঙ্ক ২৫ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। এমন প্রস্তাব পেলে যেকারও চোখ কপালে উঠবে বইকি!
তবে এখানেই খেলার শেষ নয়, এ তো কেবল রূপকথার শুরু। ইন্টার্নশিপের গণ্ডি পেরিয়ে কাজে জাঁকিয়ে বসলে মাইনের অঙ্ক যা দাঁড়াবে, তা শুনলে ভিরমি খেতে পারেন। পাঁচ বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক কোয়ান্ট ট্রেডারের বাৎসরিক আয় চার কোটি টাকা! আবার কেউ কেউ কয়েক বছরেই বার্ষিক ৮ থেকে ১৩ কোটি টাকা ঘরে তুলছেন। যদিও এই টাকার বৃষ্টি পুরোটাই নির্ভর করে শেয়ার বাজারের মারপ্যাঁচ আর নিজের পারফরম্যান্সের ওপর।
মজার বিষয় হল, এই টাকার পাহাড়ে চড়তে শেয়ার বাজারের দিগ্গজ পণ্ডিত হওয়ার দরকার পড়বে না। চাই শুধু তিনটে মোক্ষম অস্ত্র। অঙ্কের জটিল হিসাব মেলানোর মাথা, কোডিংয়ের ধার আর উপস্থিত বুদ্ধি। ব্যাস, এটুকু থাকলেই সংস্থাগুলি নিজেদের ‘ট্রেডিং স্কুলে’ ডেকে নিয়ে নবাগতদের বাকি কাজটা শিখিয়ে নিচ্ছে হাতেকলমে।
নন-আইআইটি কিংবা সফটওয়্যার জগতের সাধারণ কর্মীরাও চাইলে এই কোটিপতিদের ক্লাবে নাম লেখাতে পারেন। একটু পাইথন, সি++ আর অঙ্কের গুঁড়ো মেখে নিলেই কেল্লাফতে। ইপ্যাট (EPAT)-এর মতো কিছু কোর্সও এই রাস্তায় নতুন দিশা দেখাচ্ছে। সব মিলিয়ে, গণিত আর প্রযুক্তির এই আজব মেলবন্ধনে ভারতীয় তরুণদের সামনে এখন এক রঙিন স্বপ্ন, যেখানে একটা সঠিক অ্যালগরিদমেই বদলে যেতে পারে গোটা জীবন!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘মমতার অধঃপতন হয়েছে’, দল ছেড়ে প্রথম কর্মসূচিতেই তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা কাকলির
-
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য
-
নেপালে খোঁজ মিলল বাংলার দু’জনের, বাকিদের কী খবর? টিম পাঠাতে চান শুভেন্দু