শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: মৃত সন্তানকে শুঁড়ে তুলে মাইলের পর মাইল পথ হাঁটল মা হাতি (Elephant)। নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী ডুয়ার্স। অপত্য স্নেহ, অনুভূতি যে শুধু মানুষেরই নয়, তা যেন প্রমাণিত হল আরও একবার। আর এই দৃশ্য দেখে চোখে জল ধরে রাখতে পারলেন না প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঠিক কী হয়েছিল? দু’দিন আগে একদল হাতি ঢুকে পড়েছিল বানারহাটের চুনাভাটি চা বাগানে। শুক্রবার সকালে হাতির দলটি চলে আসে আমবাড়ি চা বাগানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে রেড ব্যাংক চা বাগানের দিকে রওনা দেয় হাতিগুলি। বনদপ্তর জানিয়েছে, দলটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০টি হাতি ছিল। চুনাভাটি চা বাগান থেকে কিছুটা দূরে একদিকে ডায়না আর একদিকে রেতির জঙ্গল। বনকর্মীদের অনুমান, এই দুই জঙ্গলের কোনও একটি থেকে হাতির দলটি লোকালয়ে চলে আসে।
[আরও পড়ুন: অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির মূত্রথলি কেটে ফেললেন চিকিৎসক! কড়া শাস্তির মুখে বালুরঘাটের নার্সিংহোম]
আমবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, দলের সব হাতি রেড ব্যাংক চা বাগানের দিকে রওনা দেয়। তবে একটি হাতি অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে রয়েছে। দু’পাশে চা গাছ থাকায় হাতিটির গতিবিধি বুঝে উঠতে পারছিলেন না বাসিন্দারা। বেশ কিছুক্ষণ পর তাঁরা বুঝতে পারেন হাতিটির সঙ্গে একটি সদ্যোজাত বাচ্চাও রয়েছে। তবে সেটি জীবিত নয়, মৃত। যাকে নিয়ে ব্যস্ত মা হাতি। বারবার বাচ্চাটিকে আদর করছে সে। কিছুক্ষণ পর তাঁরা দেখতে পান মৃত সন্তানকে শুঁড়ে তুলে রেড ব্যাংক চা বাগানের পথ ধরেছে মা হাতিটি।
প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ যেতে যেতে বাচ্চাকে মাটিতে কখনও রাখছে আবার কখনও আদর করছে সে।এভাবেই রেড ব্যাংক চা বাগানে গিয়ে দাঁড়ায় মা হাতিটি। সেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে অপেক্ষায় ছিল দলের বাকি সদস্যরা।
বাচ্চা-সহ মা হাতিটিকে ঘিরে দাঁড়ায় তারা। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের বনকর্মীরা। সকাল গড়িয়ে দুপুর, বিকেল মৃত সন্তানকে আগলে দাঁড়িয়ে থাকে মা হাতি। যা দেখে চোখের জল সামলে রাখতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শী এবং বনকর্মীরা। বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জ অফিসার শুভাশিস রায় জানান, যতক্ষণ না মা তার মৃত সন্তানকে রেখে চলে যায় ততক্ষণ অপেক্ষা করাই নিয়ম। তারপরই হস্তিশাবকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে। রিপোর্ট হাতে আসার পর সদ্যোজাত হস্তিশাবকের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। গত বছরও এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন বৈকন্ঠপুর বন বিভাগের কর্মীরা। গৌরিকোন এলাকায় মৃত শাবককে ঘিরে তিনদিন দাঁড়িয়ে ছিল দশটি হাতির একটি দল। তিনদিন পর হাতির দলটিকে সরিয়ে শাবকের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেন বনকর্মীরা।
দেখুন ভিডিও:
[আরও পড়ুন: ‘অতিরিক্ত লোভ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষাই শেষ করে দিল মেয়েকে’, আক্ষেপ মঞ্জুষার মায়ের]
সর্বশেষ খবর
-
মন্ত্রীর সামনে ওঠবস করেও রেহাই নেই! দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার রেশন ডিলার
-
হিট লিস্টে ট্রাম্প, মেলোনি, ম্যাক্রোঁ-সহ ১৩ জন! বিশ্বনেতাদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি ইরানের
-
৩০ দিন হেফাজতে থাকলেই অপসারণ! ‘দাগি’ প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের গদি কাড়ার বিলে সায় নেই যৌথ সংসদীয় কমিটির
-
গণহেনস্তার উৎসমুখ, সামাজিক বিকৃতির অন্ধকার
-
মেট্রোয় হেডফোন ছাড়া গান শুনলেই জরিমানা! কড়া সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের