নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ভয়, কারও আবার রং দেখে আতঙ্ক! জানুন এমন ৭ অদ্ভুত ফোবিয়ার কথা
এমন ধরনের ফোবিয়ার কথা আগে শুনেছেন কখনও?
ক্রোমোফোবিয়া: রং ছাড়া জীবন ধূসর। কিন্তু কিছু মানুষের কাছে এই রংই হয়ে ওঠে আতঙ্কের চরম পর্যায়। লাল, নীল বা হলুদের উজ্জ্বল ছোঁয়া দেখলে তাঁদের বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে। বিশেষ করে গাঢ় বা উজ্জ্বল রঙের খাবার কিংবা জামাকাপড় দেখলে এরা রীতিমতো প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হন। রঙের উৎস থেকে দূরে পালিয়ে বাঁচতে চান তাঁরা।
আরও পড়ুন:
মেডোরথোফোবিয়া: মানুষের মনোজগতের এক অতি বিচিত্র এবং জটিল ফোবিয়া হল মেডোরথোফোবিয়া। এটি মূলত পুরুষদের যৌনাঙ্গ উন্মুখ হওয়া বা তা দেখে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত এক তীব্র মানসিক ভীতি। সাধারণ সামাজিক মেলামেশা বা একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তেও এই আতঙ্ক তাঁদের গ্রাস করে। চরম অস্বস্তি ও লজ্জায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে সামাজিক মেলামেশা থেকে এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেন।
প্রোকটোফোবিয়া: চিকিৎসকের কাছে যেতে অনেকেই ভয় পান। কিন্তু শরীরের বিশেষ কিছু অঙ্গের চিকিৎসায় ভয় পাওয়ার ঘটনা বিচিত্র বইকি! প্রোকটোফোবিয়া হল মলদ্বার বা তদ্সংক্রান্ত কোনও জটিল রোগ এবং তার চিকিৎসা নিয়ে তীব্র আতঙ্ক। মলদ্বারের পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের কথা শুনলেই এই রোগীদের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। ফলে তারা গুরুতর অসুস্থতাও লুকিয়ে রাখেন।
ট্রাইপোফোবিয়া: জলের বোতল, মৌচাক বা পদ্মফুলের ভেতরের ছোট ছোট ছিদ্রের জ্যামিতিক নকশা দেখে ভয় পান অনেকেই। অনেকগুলো ছোট ছিদ্র একসঙ্গে দেখলে যাঁদের গা গুলিয়ে ওঠে, চরম অস্বস্তি বা ত্বকে চুলকানি শুরু হয়, তাঁরাই ট্রাইপোফোবিয়ার শিকার। এই সমস্যা খুবই সাধারণ হলেও এর তীব্রতা মানুষকে মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণায় ফেলে দেয়।
আরও পড়ুন:
আইসোপ্ট্রোফোবিয়া: আয়নায় নিজেকে দেখতে কে না ভালোবাসে! কিন্তু আইসোপ্ট্রোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। তাঁদের মনে হয় আয়নার ভেতরের প্রতিবিম্বটি হয়তো অলৌকিক কিছু বা তা তাঁদের কোনও ক্ষতি করবে। ফলে নিজের ঘরের আয়না ঢেকে রাখা বা আয়নার সামনে না যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
ইউরোটোফোবিয়া: মনোবিজ্ঞানের জগতে আরও এক বিরল ফোবিয়া হল ইউরোটোফোবিয়া। এটি মূলত নারী যৌনাঙ্গ দেখার বা তা সম্পর্কিত যেকোনও বিষয়ের প্রতি তীব্র আতঙ্ক। এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা দাম্পত্য বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার নাম শুনলেই আতঙ্কে পিছিয়ে আসেন। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ও মানসিক সুস্থতা এর ফলে গভীরভাবে বিঘ্নিত হতে দেখা যায়।
অটোমেটোনোফোবিয়া: মেলায় সার দিয়ে সাজানো মোমের পুতুল। কিংবা মলে থাকা ম্যানেকুইন। এসব দেখে অনেকেই ভয় পান। অটোমেটোনোফোবিয়া হল মানুষরূপী যেকোনও কৃত্রিম বস্তু— যেমন পুতুল, রোবট বা মোমের মূর্তি দেখার আতঙ্ক। এদের নির্জীব কিন্তু মানুষের মতো গড়ন দেখে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মনে করেন এগুলো হয়তো হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠবে।