Ramsay Brothers

হাড়হিম এই হিন্দি সিনেমা একা দেখা অসম্ভব! সিনেমাহলের বাইরে থাকত অ্যাম্বুল্যান্স

‘দরওয়াজা’ রিলিজের পর দিনের পর দিন ‘হাউজফুল’ থাকত থিয়েটার। ঘোষণা হল, কোনও দর্শক যদি থিয়েটারে একা বসে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দেখতে পারে, তবে তাকে দেওয়া হবে নগদ দশ হাজার টাকা! যদিও অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। তাই থিয়েটার হলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত এক অ্যাম্বুলেন্স!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৬:৩২

options
link
হাড়হিম এই হিন্দি সিনেমা একা দেখা অসম্ভব! সিনেমাহলের বাইরে থাকত অ্যাম্বুল্যান্স
‘দরওয়াজা’ রিলিজের পর দিনের পর দিন ‘হাউসফুল’ থাকত থিয়েটার

ভয়ের সিনেমা দেখে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন দর্শক, তাই সিনেমাহলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত অ্যাম্বুল্যান্স! এমনটাই ‘রেপুটেশন’ ছিল হরর ফিল্ম ডিরেক্টর রামসে ব্রাদার্স-এর!

Advertisement

বলিউড সিনেমার জগতে রামসে ব্রাদার্স পা রাখার আগে যে ভূতের সিনেমা একেবারেই তৈরি হয়নি, তা নয়। মহল (১৯৪৯), বিস সাল বাদ (১৯৬২) গুমনাম (১৯৬৫) প্রভৃতি সিনেমাকে দর্শক পছন্দ করেছিল বটে, তবে রামসে ভাইদের হাত ধরেই যে হিন্দি ভূতের সিনেমার ধাঁচ এক্কেবারে পালটে গেল, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

Advertisement
ramsay brothers movie
র‍্যামসে ভাইদের হাত ধরে হিন্দি ভূতের সিনেমার ধাঁচ এক্কেবারে পাল্টে গেল

১৯৭৮ সালে তুলসী ও শ্যাম রামসে নির্মাণ করলেন ‘দরওয়াজা’। এক বিত্তবান পরিবার তাঁদের হাভেলির দরজার পিছনে লুকিয়ে রেখেছে এক ভয়াবহ রহস্য। সে দরজা কেউ খুলে দিলে, আটকে থাকা দানব বেরিয়ে আসে, নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে চরিত্রদের।

Advertisement

বর্তমানের হাই-ফাই সিজিআইয়ের নাগাল তখনও পায়নি ভারতীয় সিনেমা। তাছাড়া প্রস্থেটিক মেক-আপ সে সময়ের বলিউডে বিরল। তাই লন্ডন থেকে আনানো হল মেক-আপ আর্টিস্ট ক্রিস্টোফার টাকারকে। গল্পের দানবটিকে দেখে যেন প্রকৃত অর্থেই ভয় পায় দর্শক, উদ্দেশ্য নির্মাতাদের। কিন্তু বাধ সাধল বাজেট। ক্রিস্টোফার টাকার যে পরিমাণ পারিশ্রমিক চেয়ে বসলেন, রামসে ভাইদের পক্ষে তা দেওয়া সহজ ছিল না। রীতিমতো পকেট ফুটো করেই পারিশ্রমিক মেটালেন তাঁরা। তবে টাকা যে অপচয় হয়নি, তা প্রমাণ হয়ে গেল সিনেমা রিলিজের পরেই।

ramsay brothers movie
‘দরওয়াজা’ রিলিজের পর দিনের পর দিন ‘হাউজফুল’ থাকতে লাগল থিয়েটার

‘দরওয়াজা’ সাধারণ দর্শকদের ভয় দেখাতে সক্ষম হল। দিনের পর দিন ‘হাউসফুল’ থাকতে লাগল থিয়েটার। এ সময়েই এক ডিস্ট্রিবিউটর ঘোষণা করেন, কোনও দর্শক যদি থিয়েটারে একা বসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি দেখতে পারে, তবে তাকে হাতেনাতে দেওয়া হবে নগদ দশ হাজার টাকা! তবে এই দুঃসাহসী কাজে নেমে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল। তাই থিয়েটার হলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত এক অ্যাম্বুলেন্স।

অনেকেই এ ঘটনাকে নিছক পাবলিসিটি স্টান্ট বলে দাগিয়ে দিলেও, কোনও দর্শকই যে তেমন সাহস দেখাননি, তা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নির্মাতারা। পরবর্তীকালে পুরানা মন্দির (১৯৮৪) ও বিরানা (১৯৮৮) রিলিজ হলে, তা একই রকম জনপ্রিয়তা পায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.