৩০ পেরতেই শরীরে ব্যথা? নারীদের এই ৫ লক্ষণ হতে পারে বড় রোগের সতর্কবার্তা
৩০-এর কোঠায় পৌঁছানোর পর অনেক নারীই প্রায়ই ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা সারা শরীরে ব্যথা অনুভব করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অস্বস্তিকে অতিরিক্ত কাজের চাপ, ক্লান্তি বা বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের ব্যথা চলতে থাকলে সেটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনও স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। তাই ব্যথাকে শুধু সাময়িক অসুবিধা ভেবে অবহেলা না করে তার কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা এখন কর্মজীবী তরুণীদের সবচেয়ে পরিচিত সমস্যাগুলির একটি। দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, মোবাইলের দিকে ঝুঁকে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে বসা এবং মানসিক চাপ এই ব্যথার প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে কাজ করলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে টান তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় রূপ নিতে পারে। নিয়মিত বিরতি নেওয়া, স্ট্রেচিং করা এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:
কোমরের নীচের অংশে ব্যথা অনেক সময় কেবল ক্লান্তির ফল নয়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব, দুর্বল মাংসপেশি বা মেরুদণ্ডের প্রাথমিক সমস্যার কারণেও এই ব্যথা হতে পারে। যদি ব্যথা হাঁটা, বসা, ঘুম বা দৈনন্দিন কাজের সময় বারবার বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ শুরুতেই সমস্যার কারণ শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে জটিলতা এড়ানো অনেক সহজ হয়।
হাঁটু, কবজি বা গোড়ালির জয়েন্টে ব্যথা অনেক সময় শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রদাহজনিত রোগের প্রাথমিক উপসর্গও হতে পারে। তাই শুধু ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়ে সমস্যাকে চাপা না দিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে মূল কারণ জানা জরুরি। কারণ সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের উপর।
শরীরের বিভিন্ন পেশিতে একসঙ্গে ব্যথা হলে সেটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রম বা শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেওয়ার ফলে এমন ব্যথা দেখা দিতে পারে। শরীর যখন পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায় না, তখন পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই বিশ্রাম, ঘুম এবং কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন:
ঋতুস্রাবের সময় হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা অনেক নারীর ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে ব্যথা যদি অত্যন্ত তীব্র হয়, প্রতি মাসে অসহনীয় হয়ে ওঠে বা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে, তাহলে সেটি পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্য কোনও স্ত্রীরোগের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যথা সহ্য না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
দীর্ঘস্থায়ী শরীরব্যথার নেপথ্যে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন বি-১২ বা ভিটামিন ডি-র ঘাটতি যেমন শরীর দুর্বল করে, তেমনি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা পেশি ও জয়েন্টের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত জল পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ব্যথা যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, প্রতিদিনের কাজ ব্যাহত করে বা তার সঙ্গে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শরীর ফুলে যাওয়া, জ্বর বা ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। শরীরের প্রতিটি ব্যথার পেছনে একই কারণ থাকে না। তাই সময়মতো সঠিক কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব এবং সুস্থ জীবনযাপনও অনেক সহজ হয়ে ওঠে।