রাগের আড়ালে যন্ত্রণা, হাসির আড়ালে হতাশা, ভিতরে ভিতরে আপনি কেমন, বলে দেবে মূলাঙ্কই!
কোন মানুষ তার কোন দিকটি লুকাচ্ছে, বোঝার জন্য মূলাঙ্কই যথেষ্ট।
মূলাঙ্ক ১: (জন্মতারিখ: ১, ১০, ১৯, ২৮) এই মানুষেরা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীনচেতা ও সিদ্ধান্তে দৃঢ়। কিন্তু অন্য কেউ তাঁদের কাজের কৃতিত্ব পেলে বা তাঁদের অবদান উপেক্ষিত হলে বিষয়টি মনে গভীরভাবে দাগ কাতে। বাইরে থেকে যতই আত্মনির্ভর মনে হোক না কেন এই মানুষের, সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, তাঁরা চান, তাঁদের কাজ, যোগ্যতা ও উপস্থিতি যেন অন্যরা দেখতে ও স্বীকার করতে পারে।
আরও পড়ুন:
মূলাঙ্ক ২: (জন্মতারিখ: ২, ১১, ২০, ২৯) এঁরা সম্পর্কে শান্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে চান। মনখারাপ হলেও প্রতিবাদ না করে চুপ থাকেন। ঝামেলা এড়াতে গিয়ে না বলা কথাগুলো কিন্তু মনের মধ্যে জমতে থাকে। অভিমান ও ক্ষোভ একসঙ্গে জমে গিয়ে হঠাৎ তীব্র প্রতিক্রিয়ার আকারে প্রকাশ পায়। বাইরে থেকে তাঁদের মানিয়ে নেওয়া স্বভাব দেখে বোঝা কঠিন যে ভিতরে কতখানি আবেগ জমে রয়েছে।
মূলাঙ্ক ৩: (জন্মতারিখ: ৩, ১২, ২১, ৩০) কোনও সমস্যা হলে বন্ধুবান্ধব-পরিচিতরা প্রায়ই এই মানুষদের কাছে পরামর্শ চায়। এঁরা বুদ্ধিমান ও বাস্তববাদী। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আত্মসংশয়। ভুল কিছু বলে ফেলবেন কি-না, অন্যদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন কি-না, এ নিয়ে সদা চিন্তিত থাকেন। ফলে বাইরে থেকে দৃঢ় মনে হলেও ভিতরে এঁরা নিজেরাই নিজেদের নিয়ে দ্বিধায় থাকেন।
মূলাঙ্ক ৪: (জন্মতারিখ: ৪, ১৩, ২২, ৩১) এঁরা একটু অন্যরকম চিন্তাভাবনার, নিজস্ব পথে চলতেই বেশি পছন্দ করেন। তবে প্রচলিত মতের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে তাঁদের অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সমাজের প্রতি উদাসীনতার আড়ালে গ্রহণযোগ্যতার ইচ্ছে থেকে যায় এই মানুষদের। ‘আসে যায় না’ যতই বলুন, আদতে এই মানুষেরা চান, অন্যরাও যাতে এঁদের মনের কথা বুঝতে পারে।
আরও পড়ুন:
মূলাঙ্ক ৫: (জন্মতারিখ: ৫, ১৪, ২৩) এই মানুষরা প্রাণবন্ত, কৌতূহলী, পরিবর্তনপ্রিয়। কথা বলতে, নতুন কিছু করতে, সকলকে নিয়ে ঘুরতে, খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই ব্যস্ততার পিছনে কখনও কখনও অন্য কারণও থাকতে পারে। একা চুপচাপ বসলে নানা চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে, তাই জোর করে ব্যস্ত রাখেন নিজেকে। যে মানুষ সবাইকে হাসিয়ে রাখেন, তাঁর নিজের মনেই হয়তো চলে দুশ্চিন্তার ঝড়।
মূলাঙ্ক ৬: (জন্মতারিখ: ৬, ১৫, ২৪) এঁরা যত্নশীল, দায়িত্ববান। কে ঠিকমতো খেয়েছে, কার জন্মদিন কবে, কে মনখারাপ করে আছে—ছোটখাটো বিষয়ও এঁদের নজর এড়ায় না। ফলে পরিবার বা বন্ধুমহলে সবাই এঁদের কাছ থেকে যত্ন পাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু তাঁদের ক্লান্তির কথা কতজন জিজ্ঞেস করে? এই মানুষেরা অনেক সময়ই বিশ্রাম চায়, সাহায্য চায়। না পেয়ে, ডুবে যান গভীর হতাশায়।
মূলাঙ্ক ৭: (জন্মতারিখ: ৭, ১৬, ২৫) এঁরা সাধারণত কম কথা বলেন, বেশি লক্ষ্য করেন এবং নিজের অনুভূতি সবার সামনে প্রকাশ করতে চান না। কেউ আঘাত করলে এঁরা নিজেদের গুটিয়ে নেন, দূরত্ব তৈরি করেন। বাইরে থেকে দেখে নির্লিপ্ত বা উদাসীন মনে হতে পারে। কিন্তু মূলাঙ্ক জানায়, এঁরা আসলে খুব অল্প মানুষের কাছেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। একার জগতেই এঁরা খুশি।
মূলাঙ্ক ৮: (জন্মতারিখ: ৮, ১৭, ২৬) এঁরা কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে সামলে রাখার চেষ্টা করেন। সমস্যা এলে আবেগ প্রকাশ করার বদলে বাস্তব সমাধান খোঁজা, দায়িত্ব নেওয়া এবং কাজ চালিয়ে যাওয়াই এঁদের স্বভাব। তাই বাইরে থেকে তাঁদের অত্যন্ত শক্ত বলে মনে হয়। কিন্তু এই দৃঢ়তার আড়ালে রয়েছে সাহায্য চাওয়ার ভয়। অন্যের উপর নির্ভর করা বা নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে লজ্জা পান এঁরা।
মূলাঙ্ক ৯: (জন্মতারিখ: ৯, ১৮, ২৭) এই মানুষরা আবেগপ্রবণ তবে দৃঢ়। যাদের ভালোবাসেন, তাদের কাছ থেকেও একই রকম আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততা আশা করেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে কষ্ট প্রকাশ করতে পারেন না। কষ্ট চেপে রেখে এক সময় দূরে সরে যান। বাইরের মানুষ কেবল রাগটুকু দেখে। রাগের পিছনে চেপে রাখ যন্ত্রণা জানতে পারেন না কেউ।