ট্রফি দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, ‘কাজ শেষ হয়নি’, বললেন রশিদ, ডুরান্ড জিতে কী কী পেল ইস্টবেঙ্গল?
ইস্টবেঙ্গলের মেয়েদের জন্যও গর্বের দিন। মালয়েশিয়ার সাবাহ এফএ-কে ২-০ গোল হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে পৌঁছেছে ইস্টবেঙ্গল।
বদলার মঞ্চে উজ্জ্বল মশাল বাহিনী। একটা কথা বলেই দেওয়া যায়, লাল-হলুদ সমর্থকরা হয়তো ভাবতেই পারেননি তাঁদের জন্য এমন সোনালি সন্ধ্যা অপেক্ষা করছে। তাও আবার এডমুন্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিক-সহ প্রথমার্ধেই ৪ গোল। সেখানেই যেন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে এই মোহনবাগানের কাছেই হারতে হয়েছিল। তাই এই ম্যাচ হাবাস বাহিনীর কাছে ছিল বদলার। সেখানে লেটার মার্কস নিয়ে পাশ ইস্টবেঙ্গল।
আরও পড়ুন:
ট্রফির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ইন্দ্রনীল খাঁ-র নেতৃত্বে লাল-হলুদ গ্যালারিতে জ্বলল মোবাইল ফ্ল্যাশ। রাজনাথ সিংয়ের হাত থেকেই ট্রফি নিলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। এর পর হাবাস বাহিনীর উচ্ছ্বাস সপ্তমে ওঠে। এডমুন্ড, বিপিন সিং, মহম্মদ রশিদ, আনোয়ার আলিদের সেলিব্রেশন যেন আলাদা মাত্রা পেল। বহুকাল পর এত একপেশে ভাবে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারল সবুজ-মেরুন।
৪-১ গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে হারিয়ে ডুরান্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল। ইতিহাস লিখলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। বাইচুং ভুটিয়া, কিয়ান নাসিরির পর ডার্বিতে ভারতীয় হিসাবে হ্যাটট্রিক করলেন লাল-হলুদ তারকা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আরেকটা গোল বিপিন সিংয়ের। মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোল মনবীর সিংয়ের। ইস্টবেঙ্গলের যেন খরা কাটার বছর যাচ্ছে। ২০০২ সালের পর দেশের শীর্ষ লিগ আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আর এবার শাপমুক্তি ঘটিয়ে ডুরান্ড শিরোপা ঢুকবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে।
আরও পড়ুন:
এবারের ডুরান্ডে গোল্ডেন গ্লাভ পেলেন মোহনবাগানের বিশাল কাইথ। গোল্ডেন বুট নর্থইস্ট ইউনাইটেডের আলাদিন আজেরাই। ফাইনালে হ্যাটট্রিক-সহ গোটা টুর্নামেন্টে দুরন্ত খেলে গোল্ডেন বল পেলেন ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড লালরিনডিকা। ম্যাচের পর লাল-হলুদ পতাকায় মুড়ে সমর্থকদের অভিবাদন নিলেন ডুরান্ড জয়ের নায়ক। চ্যম্পিয়ন দল ইস্টবেঙ্গলকে ১.২১ কোটি টাকার চেক দেওয়া হল। রানার্স মোহনবাগান পেল ৬০ লক্ষ টাকার চেক।
১০ মিনিটে বিপিন সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এটাই ডার্বিতে প্রথম গোল তাঁর। জানালেন, ডার্বিতে প্রথম গোল করে খুশি। এখন লাল-হলুদ খেলোয়াড়দের লক্ষ্য যে এএফসি-র মূল পর্ব তা জানালেন কার্যত সকলে। জয় গুপ্তা বললেন, "ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাই চ্যাম্পিয়ন হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।" মহম্মদ রশিদ বলেন, "কাজ এখনও শেষ হয়নি।" অর্থাৎ লাল-হলুদকে আরও ট্রফি এনে দিতে চাইছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল বলেন, "২০২৩ সালের ডুরান্ড ফাইনালের বদলা নিলাম। সেটা আমার ইস্টবেঙ্গলে প্রথম বছর ছিল। আজ খুব খুশি। ক্লাবের হয়ে দু'টো ট্রফি জিতলাম। আজ এই জয় উপভোগ করব। তারপর আন্তর্জাতিক স্তরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সম্মান যাতে বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করব।" আজ ইস্টবেঙ্গলের মেয়েদের জন্যও গর্বের দিন। মালয়েশিয়ার সাবাহ এফএ-কে ২-০ গোল হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে পৌঁছেছে ইস্টবেঙ্গল।