ইতিহাসে এক সুতোয় বাঁধা আর্জেন্টিনা ও মহাভারত! ভারতের সঙ্গে মেসির দেশের যোগ কোথায়?
আমাদের দেশের মহাকাব্যের সঙ্গে মেসির দেশের যোগসূত্র! ইতিহাস আসলে এমনই বিস্ময়ের খনি।
আর একথা বলতে গেলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে ৫ হাজার বছর। মধ্য এশীয় তৃণভূমি অঞ্চলে গবাদি পশু চরিয়ে দিন নির্বাহ করা উপজাতির মানুষেরা যে ভাষায় কথা বলত সেটা সংস্কৃত ও লাতিন, দুই ভাষারই পূর্বসূরি। আর সেই ভাষাতেই একটা শব্দ আছে- 'আর্জ'। এর অর্থ রুপো। হাজারখানেক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই উপজাতির মানুষেরই ইউরোপ ও ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
পরবর্তী সময়ে সেই ভাষা থেকেই জন্ম নেয় দু'টি ভাষা। একটি সংস্কৃত। ভারতীয় উপমহাদেশে। অন্যটি লাতিন। যেটির জন্ম ইউরোপে। মোটামুটি মনে করা হয়, দেড় হাজার থেকে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সংস্কৃত হয়ে ওঠে অভিজাতের ভাষা। সেই ভাষায় লেখা হয় মহাকাব্য। হ্যাঁ, মহাভারত। সেখানে রয়েছে অর্জুন। এই নামের সঙ্গে ধাতুর যোগ রয়েছে। হয়তো মধ্যম পাণ্ডবের মধ্যে যে ঝলকানি, তা থেকেই এমন নামকরণ।
'আর্জ' শব্দটিই কালক্রমে 'অর্জুন' হয়েছে বলেই ভাষাবিদরা মনে করেন। আসলে ওই শব্দটি 'প্রোটো-ইন্দো-ইরানীয়' পর্যায়ে হর্জুনা-এ রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তীতে 'প্রোটো-ইন্দো-আর্য' জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছায়। তখন সেটি বদলে হয় 'অর্জুনা' বা 'অর্জুন'। যার অর্থ হল রুপোলি বা সাদা। আজ ভারতে এই নামটি একটি বহুলপ্রচলিত শব্দ।
আরও পড়ুন:
আধুনিক সময়ে আর্জেন্টিনার প্রথম উল্লেখ মেলে ১৫৩৬ সালে। ওই এলাকায় রুপো পাওয়া যায়। তাই এই নাম। পরে ১৬০২ সালে স্পেনে প্রকাশিত 'আর্জেন্টিনা ওয়াই কনকুইস্টা ডেল রিও ডে লা প্লাতা'য় রয়েছে আর্জেন্টিনার উল্লেখ। এভাবেই ভারতের সঙ্গে সুদূর লাতিন আমেরিকার দেশটি জুড়ে গেল এক আশ্চর্য উপায়ে। কৃষকদের ওই গোষ্ঠীর একটা ভাগ ভারত ও অন্যরা ইউরোপে না গেলে এই সংযোগ তৈরিই হত না।