৩৯ বছর দেশসেবা, নেতৃত্ব দিয়েছেন অপারেশন সিঁদুরে! এবার রাম মন্দিরের সিইও পদে সেই এয়ার মার্শাল
রামচন্দ্রে অগাধ ভরসা, মদ্যপান নয়, সিইও হিসাবে একাধিক বিধিনিষেধ মানতে হবে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তাকে।
অযোধ্যার মণিরামদাস ছাউনিতে ট্রাস্টের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে জিতেন্দ্র মিশ্রের নাম অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫,৫৮৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। এরপর AI-ভিত্তিক স্ক্রিনিং, ম্যানুয়াল মূল্যায়ন, ভার্চুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন এবং চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাছাই করা হয় প্রার্থীদের। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত বিবেচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন তিনজন প্রাক্তন আইএএস, একজন প্রাক্তন আইপিএস এবং চারজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী।
আরও পড়ুন:
এঁদের মধ্যে থেকে এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) জিতেন্দ্র মিশ্রকে সিইও পদে বেছে নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের সচিব সমীর পান্ডা জানিয়েছেন, রাম মন্দির প্রকল্পের কাজ ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাস্টের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই প্রথম পূর্ণকালীন CEO নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইন্টারভিউতে চাকরিপ্রার্থীদের একাধিক ব্যক্তিগত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। সেগুলি হল – আপনি কি একজন কট্টর হিন্দু নাকি কেবলই হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী? আপনার কি পৈতে আছে? আপনি কি টিকি রাখেন? আমিষ খান না নিরামিষাশী? এছাড়াও পদপ্রার্থীরা মদ্যপান করেন কি না, তা-ও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বলে খবর। সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, আবেদনকারীদের হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি নিয়েও মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল।
এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র ফাইটার জেটের পাইলট। প্রায় ৩৯ বছর ভারতীয় বায়ুসেনার হয়ে দেশসেবা করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের প্রধান পদে নিযুক্ত হন। অপারেশন সিঁদুরের সময় ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের প্রধান হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। বস্তুত সিঁদুর অভিযানে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
আরও পড়ুন:
এয়ার মার্শাল মিশ্র পুণের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির ছাত্র। আমেরিকা এবং ব্রিটেনে গিয়েও পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার পাইলট পদে নিযুক্ত হন। এর পর প্রায় ৩০ বছর বায়ুসেনার পোশাকে দেশসেবা করেছেন। প্রায় ৩ হাজার ঘণ্টার বেশি সময় বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বীরত্বের জন্য তাঁকে অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল, এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেলে সম্মানিত করা হয়েছে।
এবার থেকে রাম মন্দিরের সমস্ত কাজকর্ম, অনুদান গণনা, মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ-সবটা নজর রাখবেন বায়ুসেনার প্রাক্তন এই কর্তা। তাঁকে স্থায়ীভাবে অযোধ্যায় বসবাস করতে হবে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে, একজন একনিষ্ঠ হিন্দু হতে হবে এবং ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের প্রতি তাঁর অগাধ ভক্তি ও বিশ্বাস থাকতে হবে। একই সঙ্গে হিন্দি এবং ইংরেজি, দুই ভাষাতেই সমানভাবে পারদর্শী হতে হবে।