বিকট গন্ধে বমি আসে! তবু বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় এই সব খাবার, বিক্রি হয় চড়া দামে
বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এমন একগুচ্ছ খাবার, যা খাওয়ার আগেই নাকে এসে ধাক্কা মারবে ভয়াবহ দুর্গন্ধ! অনভ্যস্ত মানুষের তাতে প্রাণ হারাবার জোগাড়! তবুও প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সমস্ত খাবার তরিবৎ করে খেয়ে থাকেন!
সুইডেনের সুরস্ট্রোমিং – এই খাবার হল মূলত দীর্ঘদিন লবণে জারণ করে রাখা বাল্টিক হেরিং মাছ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত খাবারগুলির একটি হিসেবে পরিচিত। টিন খোলার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, এমনকী সে গন্ধে মানুষও অসুস্থও হয়ে পড়তে পারেন! তাই সুরস্ট্রোমিং-এর ভক্তরা রীতিমতো দরজা-জানালা এঁটে, প্রতিবেশীদের থেকে লুকিয়ে এ খাবার খান! সঙ্গে রাখেন পাতলা রুটি, সেদ্ধ আলু ও কুচোনো পিঁয়াজ।
আরও পড়ুন:
আইসল্যান্ডের হাকার্ল – কেউ প্রথমবার এই খাবার খাবেন বললে বাকিরা তাকে পইপই করে সাবধান করেন! এ খাবার আদতে লবণে জারণ করা গ্রিনল্যান্ড হাঙরের মাংস, পরিবেশন করা হয় ডুমো ডুমো টুকরোতে কেটে। তবে তীব্র অ্যামোনিয়ার মতো ভয়ানক দুর্গন্ধ সত্ত্বেও এই মাংস তরিবৎ করে খান আইসল্যান্ডের মানুষ। তাঁদের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার গ্রহণ করার সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার।
তাইওয়ানের স্টিঙ্কি টোফু – এমনিতে পনিরের মতো খেতে লাগে টোফু, তবে ‘স্টিঙ্কি’ শুনলেই বোঝা যায়, এই খাবারের বিশেষত্ব তার গন্ধে। এই টোফু তৈরির পর এক ধরনের তীব্র গন্ধযুক্ত তরলে কয়েক দিন চুবিয়ে রাখা হয় জারণ করার জন্য। তাইওয়ানের রাতের বাজারে নাকি এর গন্ধ দূর থেকেই পাওয়া যায়! ভাজা টোফুতে কামড় দিলেই বাইরের মুচমুচে পরত ভেঙে বেরিয়ে আসে ভিতরের দুর্গন্ধযুক্ত নরম অংশ।
গ্রিনল্যান্ডের কিভিয়াক – এমন কিম্ভূতকিমাকার খাবার বুঝি জগতে আর দুটি নেই! এই রান্নায় একগাদা ছোট সামুদ্রিক পাখিকে একসঙ্গে পুড়ে দেওয়া হয় একটি সিলমাছের চামড়ার ভিতর। তারপর কয়েক মাস ধরে গাঁজানো হয় তা। পরে যখন বের করে সিলমাছের চামড়ার পরতটি কাটা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এমনকী খাওয়ার শেষেও একাধিক দিন ধরে এই গন্ধ ঘরে থেকে যায়।
আরও পড়ুন:
জাপানের নাট্টো - গাঁজানো সোয়াবিন থেকে তৈরি হয় এই খাবার। এর গন্ধ তীব্র তো বটেই, টেক্সচার এতটাই আঠাল যে ছাড়ানো যায় না চপস্টিক থেকে! যে মানুষ কখনও খায়নি, তার যে মুখে দেওয়া মাত্র গা গুলিয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। তবে স্থানীয়দের কাছে নাট্টো অতিসাধারণ এক খাবার। জাপানের প্রায় প্রতি বাড়িতেই নিয়মিত জলখাবারে খাওয়া হয় এটি।
নরওয়ের লুটেফিস্ক – এক বিশেষ সাদা রঙের মাছকে ডুবিয়ে রাখা হয় তীব্র ক্ষারজলে। পরে সেই মাছ দ্রবণ থেকে তুলে রান্না করা হয় বিবিধ হার্বস সহযোগে। রান্নার পর একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তেমনই মাছটির টেক্সচার হয়ে যায় জেলির মতো নরম ও পিচ্ছিল। ফলে অনভ্যস্তদের কাছে তা গলাধঃকরণ করা রীতিমতো কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় অবশ্য এর বিশেষ স্থান রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার হোঙ্গিও – স্কেট মাছ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখলে, তা থেকে তীব্র অ্যামোনিয়া বের হতে থাকে। ফলে অন্য কোনও জারক ছাড়াই নিজের দেহ থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া গেঁজে যেতে থাকে এই মাছ। বলা বাহুল্য, এর গন্ধ অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এটি সাধারণত কিমচি ও শূকরের মাংসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। স্থানীয়দের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।