টেস্টে মাঠে নামতে নারাজ পাকিস্তান, ‘বাপ-দাদা’দের পথেই বাবররা! অতীতে ম্যাচ বয়কট আর কাদের?
ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে প্রায় প্রতিবারই শেষমেশ পালটি খেয়েছে পাকিস্তান।
এই তো এবছরের শুরুর দিকের কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশ কেন খেলার সুযোগ পাবে না? এই দাবিতে আচমকা বেঁকে বসে পাক বাহিনী। ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে। তবে মুখে বললেই তো হয় না। বিশ্বকাপ বয়কট করলে জরিমানা, ব্যান হতে পারে। সেই ভয়ে বয়কট তুলে নেয় পাক বোর্ড। ম্যাচে নেমে অবশ্য ভারতের কাছে গোহারা হারে। সেটাও নতুন কিছু নয়।
আরও পড়ুন:
তার আগের বছরের গল্পও বলা যাক। এশিয়া কাপে সলমন আলি আঘাদের সঙ্গে হাত মেলায়নি ভারত। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে কাজ করেছেন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ আনে পিসিবি। পাইক্রফটকে এশিয়া কাপ থেকে বহিষ্কার না করলে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের হুমকিও দেয়। কিন্তু আইসিসি সাফ জানিয়ে দেয়, পাইক্রফটকে কোনওমতেই সরানো হবে না। তারপর পালটি খেতেও বেশিক্ষণ লাগেনি। তবে একঘণ্টা পর ম্যাচ খেলতে নামে পাকিস্তান।
এবার একটু পিছনে ফের যাক। ১৯৮৩ সালে ভারত-পাক টেস্টের শেষদিন। বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২৮তম সেঞ্চুরির দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন সুনীল গাভাসকর। সেটা চাননি পাক অধিনায়ক জাহির আব্বাস। টেস্ট তো ড্র হবেই, এই যুক্তিতে মাঠে নামতে রাজি হননি। কিন্তু আম্পায়াররা বলেন, শেষ ওভারে ২০ ওভার করতেই হবে। তাতেও আধঘণ্টা পর মাঠে নামেন জাহিররা। তখন ৬ ওভার বাকি ছিল। একেবারে শেষ ওভারে গাভাসকর সেঞ্চুরি পূরণ করেন।
১৯৮৭-এ ফয়সলাবাদে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি টেস্টেও একই ঘটনা। তখন পাক অধিনায়ক ছিলেন শাকুর রানা। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল গ্যাটিং অন্যায়ভাবে ফিল্ডার পরিবর্তন করেন। রানা গ্যাটিংয়ের থেকে লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চান। গ্যাটিং দিতে রাজি হননি। ফলে দু'দল মাঠে নামতে রাজি হয়নি। একটা গোটা দিন নষ্ট নয়। শেষমেশ দু'দেশের সম্পর্কের কথা ভেবে গ্যাটিং ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। চতুর্থ দিনে খেলা শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
ক্রিকেটের ইতিহাসে একবারই মাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট ম্যাচ বয়কট হয়েছে। কুড়ি বছর আগে ওভালে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড ম্যাচ। চতুর্থ দিনে আম্পায়ারদের সন্দেহ হয়, পাকিস্তান বল বিকৃতি করেছে। সেই হিসেবে পাঁচ রান শাস্তি দেওয়া হয়। পালটা পাক অধিনায়ক ইনজামাম উল হোক মাঠে নামতে অস্বীকার করেন। আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধ করে দেন। পরে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বিচারে ইনজামামকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু বল ট্যাম্পারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।
তবে পাকিস্তান ছাড়াও অন্যদল ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছে। ১৯৮০-তে নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট চলছিল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাইকেল হোল্ডিং উইকেটে লাথি পর্যন্ত মারেন। আম্পায়ারকে ধাক্কা মারেন কলিন ক্রফট। তৃতীয় দিন তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরোপুরি ব্যাগ গুছিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত দু'দলের কর্মকর্তারা আলোচনা করে সিরিজটি ফের চালু করান। এছাড়া ২০১৮-তে বল বিকৃতির অভিযোগ ওঠায় শ্রীলঙ্কাও টেস্ট বয়কটের হুমকি দেয়। তবে লাভ হয়নি।
এর সবকটাই ক্রিকেটীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে। কিন্তু এবার সীমা অতিক্রম করল পাকিস্তান। লর্ডস টেস্টে স্পোর্টস সাক্ষাৎকারে ডাকে ইমরানের দুই পুত্র সুলেমান এবং কাশিম খানকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাইকেল আথারটন। দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় তিনবছর জেলে বন্দি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পাক বোর্ড হুমকি দেয় সাক্ষাৎকার যদি ম্যাচের মধ্যে সম্প্রচারিত হয় তাহলে টেস্ট বয়কট করবেন বাবররা। শেষে অবশ্য পাকিস্তান মাঠে নামে।