পাবনার কালীভক্ত জমিদারকে স্বপ্নাদেশ কৃষ্ণবর্ণা দেবীর! বেলেঘাটার কালো দুর্গার আশ্চর্য ইতিহাস জানেন?
‘তপ্তকাঞ্চনবর্ণা’ যে মা-কে দেখতে বাঙালি অভ্যস্ত, তার বাইরেও যে ভিন্ন রূপে দেবী পূজিত হন, তা জানা আছে কি? প্রচলিত গৌরবর্ণা প্রতিমার ভিড়ে বেলেঘাটার ভট্টাচার্য পরিবারের ‘কালো দুর্গা’ তেমনই এক অপার বিস্ময়!
অধিকাংশ মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমার গাত্রবর্ণ তপ্তকাঞ্চনবর্ণা হলেও এই পরিবারে ভিন্ন রূপ দৃশ্যমান। এখানে দেবী আরাধিতা হন 'ভদ্রকালী' রূপে, যার গায়ের রং ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। তবে দেবীর চার সন্তানের গাত্রবর্ণ গৌর। মহিষাসুর এখানে উদীয়মান পাতার মতো সবুজ রঙের। কালিকা পুরাণ মেনে আয়োজিত এই পুজো দেখতে প্রতি বছর অগুণতি পুণ্যার্থী ভিড় জমান।
আরও পড়ুন:
প্রায় ৩০০ বছর আগে অবিভক্ত বাংলার পাবনার স্থলবসন্তপুরে এই পুজোর সূচনা হয়। নদীয়া নিবাসী শ্রী হরিদেব ভট্টাচার্য নাটোরের রানি ভবানীর কাছ থেকে জমি পেয়ে জমিদারি পত্তন করেন। পূর্বে এই পরিবারে কালীপুজো হলেও, হরিদেব স্বপ্নাদেশ পান দুর্গাকে ভদ্রকালী রূপে কৃষ্ণবর্ণে প্রতিষ্ঠা করার। সেই অলৌকিক নির্দেশের উপর ভর করেই আজও অব্যাহত এই ধারা।
দেশভাগের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই পুজোকে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। ১৯৩৫ সালে কর্মসূত্রে পরিবারের সদস্যরা আসানসোল ও কলকাতায় আসেন। পরবর্তীতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আসানসোলে এবং সত্তরের দশকে দুর্গাপুরে পুজো অনুষ্ঠিত হয়। আশির দশক থেকে কলকাতার বেলেঘাটায় ধীরেন চারু স্মৃতি সংঘের কাছে এই পুজো স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পায়।
আরও পড়ুন:
নিত্য মৎস্য ভোগের পাশাপাশি তিথি মেনে নিরামিষ প্রসাদের বিধানেও রয়েছে বৈচিত্র। সপ্তমীর দিনে দেবীকে খিচুড়ি ভোগ এবং মহাঅষ্টমীতে সুবাসিত পোলাও নিবেদন করা হয়। নবমীর পুণ্য তিথিতে পাঁঠাবলির পর ফ্রায়েড রাইসের সঙ্গে দুই ধরনের মাছের পদ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। দেবীর কৃপালাভে এই প্রসাদ বিতরণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।