Ambubachi 2026

চাইলেই কি রাখা যায় ব্রত? জেনে নিন অম্বুবাচী পালনের কঠিন নিয়ম

নিদাঘের তপ্ত মাটি চুইয়ে আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি। চরাচরে শুরু হয় এক আদিম উৎসব। সনাতন বিশ্বাস মতে, এই সময়েই মা ধরিত্রী ঋতুমতী হন। বর্ষার জলকণায় গর্ভধারণের প্রস্তুতি নেয় পৃথিবী। দেবীর এই রজস্বলা দশাকে কেন্দ্র করেই উদযাপিত হয় 'অম্বুবাচী'। তবে ভক্তি আর নিয়মের এই অরণ্যে পা রাখার অধিকার কিন্তু সবার নেই। কারা পাবেন ব্রতের অধিকার?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৮, ২০২৬, ১৬:৩৯

options
link
চাইলেই কি রাখা যায় ব্রত? জেনে নিন অম্বুবাচী পালনের কঠিন নিয়ম
কারা রাখতে পারেন অম্বুবাচীর এই কঠিন ব্রত? প্রতীকী ছবি

নিদাঘের তপ্ত মাটি চুইয়ে আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি। চরাচরে শুরু হয় এক আদিম উৎসব। সনাতন বিশ্বাস মতে, এই সময়েই মা ধরিত্রী ঋতুমতী হন। বর্ষার জলকণায় গর্ভধারণের প্রস্তুতি নেয় পৃথিবী। দেবীর এই রজস্বলা দশাকে কেন্দ্র করেই উদযাপিত হয় ‘অম্বুবাচী’। কামাখ্যাপীঠের আঙিনা ছাড়িয়ে এই বিশ্বাসের স্রোত বয়ে গিয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে। অম্বুবাচী শুরুর পর তিন ধিরে চলে এই উৎসব। চলতি বছরে অম্বুবাচী শুরু হচ্ছে ২২ জুন (৭ আষাঢ়) রাত্রি ৭.৩৮ মিনিটে। সম্পাতি ২৬ জুন (১১ আষাঢ়) রাত্রি ১০.৫৭ মিনিটে। তবে ভক্তি আর নিয়মের এই অরণ্যে পা রাখার অধিকার কিন্তু সবার নেই।

Advertisement
Know the strict rules and spiritual significance of Ambubachi 2026
প্রতীকী ছবি

কারা পাবেন ব্রতের অধিকার?
লৌকিক আচারে অম্বুবাচী পালনের ক্ষেত্রে রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। চাইলেই যে কেউ এই ব্রত পালন করতে পারেন না। সাধারণত বিধবা নারী, তন্ত্রসাধক, ব্রহ্মচারী এবং সাধু-সন্ন্যাসীরাই এই তিথি পালন করে থাকেন। সনাতন ধর্মে সধবা নারীদের জন্য এই ব্রত পালনের নিয়ম নেই। তাঁরা ইচ্ছা করলেও এই আচার থেকে বিরত থাকেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ধরিত্রীর ‘অশুচি’ দশা, নিয়ম কী?

Advertisement
  • অম্বুবাচীর তিন দিন মা ধরিত্রীকে ‘অশুচি’ বলে গণ্য করা হয়। তাই এই সময়ে উনুনে আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। মাটির বুকেই আগুন জ্বলে। তাই ধরিত্রীকে কষ্ট না দিতেই এই প্রাচীন প্রথা। ব্রতকারীরা এই তিন দিন সম্পূর্ণ অন্নহীন থাকেন। আগুনে রান্না করা কোনও খাবার তাঁরা স্পর্শ করেন না। ফলমূল, ভেজানো সাবু আর ফলাহারেই কাটে তাঁদের দিন।
  • নিয়মের কড়াকড়ি রয়েছে প্রাত্যহিক জীবনেও। এই সময়ে ব্যবহৃত পোশাক বা বিছানার চাদর অন্য কোনও শুদ্ধ বস্ত্রের সঙ্গে ছোঁয়ানো যায় না। শরীরী শুদ্ধির ক্ষেত্রেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তিন দিন ধরে তেল, সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা বারণ।
  • এই বিশেষ তিন দিন বাড়ির দেবদেবীরাও থাকেন নিভৃতে। ঘরের সমস্ত দেবীর মুখ লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়। দেবীর রূপ দর্শন এই সময়ে নিষিদ্ধ। তিন দিন পর, অম্বুবাচীর তিথি কাটলে শুরু হয় শুদ্ধিকরণ। সবার আগে ধুয়ে ফেলা হয় ঘরের জামাকাপড় ও বিছানার চাদর। তারপর ব্রতকারীরা সাবান-শ্যাম্পু মেখে স্নান করে শুদ্ধ হন।
  • শেষে আসে দেবীদের শুচিতার পালা। লাল কাপড় সরিয়ে দেবতাদের স্নান করানো হয়। পরানো হয় নতুন বস্ত্র। সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে তবেই ভাঙা হয় অম্বুবাচীর ব্রত। প্রকৃতির এই পুনর্জন্মের উৎসব এভাবেই মিলেমিশে রয়েছে সনাতন ভক্তি ও লোকাচারে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন