একবিংশ শতাব্দীর দ্রুতগামী জীবনে মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্কট আজ মানসিক স্থিরতার অভাব। আগামী ২১ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মনের ভারসাম্য ফেরাতে যোগ আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। ভাষা, ধর্ম ও জাতীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে কোটি কোটি মানুষ আজ যোগের শরণাপন্ন। কিন্তু প্রশ্ন হল, যোগের প্রকৃত মাহাত্ম্য ঠিক কোথায়? আধুনিক সমাজে যোগ কি কেবলই শারীরিক কসরত? নাকি এর গভীরে অয়েছে অন্য কোনও জীবনদর্শন? প্রাচীন ভারতীয় মনীষা এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এই বিষয়ে এক অত্যন্ত গভীর আলোকপাত করে। কী সেই যাথার্থ্য? লিখছেন ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ও ট্রাস্টি ড. সুমন্ত রুদ্র।

আরও পড়ুন:
অনেকের কাছে যোগ মানেই কেবল হঠযোগ, কঠিন আসন বা শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি। এগুলি অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী। তবে গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এক অমোঘ মন্ত্র দিয়েছেন— ‘সমত্বং যোগ উচ্যতে’ (২.৪৮)। অর্থাৎ, মনের সমভাব বা সমতাই হল আসল যোগ। লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয়, নিন্দা কিংবা প্রশংসার মাঝেও যিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারেন, তিনিই প্রকৃত যোগী। এই মানসিক ভারসাম্যই মানুষকে জীবনের সব ঝড়ঝাপটার মুখেও অবিচল রাখে।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সামাজিক পরিবেশ এবং তীব্র মানসিক উদ্বেগের যুগে গীতার এই বাণী ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। এই প্রসঙ্গে নবদ্বীপের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনদর্শনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীচৈতন্য কেবল নামসংকীর্তনের প্রচারক ছিলেন না। তাঁর শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল অহংকার মুক্তি, বিনয় এবং গভীর আত্মসংযম। এই গুণগুলি আসলে মানুষের চেতনাকে সেই পরম ভারসাম্যের দিকে নিয়ে যায়, যার কথা গীতায় বলা হয়েছে। আধ্যাত্মিকতা যে কেবল বাহ্যিক আচার নয়, বরং চরিত্রের রূপান্তর—তা তিনি নিজের জীবনে দেখিয়েছেন। তাই যোগ দিবস কেবল শরীরচর্চার দিন নয়; এটি মন ও চরিত্রের সমন্বিত বিকাশের এক পরম লগ্ন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিমানবন্দরে অভিষেককে ডিম ছোড়ার পরিকল্পনা! তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতি বিজেপির
-
সমাপ্ত লখনউয়ের ২৭ কোটির অধ্যায়! ব্যর্থতা নিয়ে ‘ঘরে’ ফিরছেন পন্থ, গচ্চা দিতে হবে কত টাকা?
-
বিশ্বনাথের সঙ্গে কাজের সুযোগে উৎফুল্ল রিখিয়া, কবে শুরু ‘শাশুড়ি বৌমার রান্নাঘর’-এর শুটিং?
-
আমেরিকা অবরোধ তুললেও ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান! ভেস্তে গেল শান্তি চুক্তি?
-
জলের বদলে তোলা! তৃণমূল উপপ্রধানকে বেদম মার, বিক্ষোভের মুখে পদ ছাড়লেন প্রধান