Bankura

বারাণসী থেকে আসবেন ২০ ব্রাহ্মণ, ছ’বছর পর ফের ভক্তদের জন্য খুলছে বাঁকুড়ার ষাঁড়েশ্বর মন্দির

ছ’বছর পর ফের সর্বসাধারণের জন্য খুলতে চলেছে ষাঁড়েশ্বর মন্দির। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মন্দির শুদ্ধিকরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার কর্মসূচি। এই উপলক্ষে বিষ্ণুপুর শহর ও ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মহিলা কলস হাতে দ্বারকেশ্বর নদ থেকে জল এনে মন্দির চত্বর শুদ্ধ করবেন।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১৬:৩২

options
link
বারাণসী থেকে আসবেন ২০ ব্রাহ্মণ, ছ’বছর পর ফের ভক্তদের জন্য খুলছে বাঁকুড়ার ষাঁড়েশ্বর মন্দির
বাঁকুড়ার ষাড়েশ্বর মন্দির। নিজস্ব চিত্র

ছ’বছর পর ফের সর্বসাধারণের জন্য খুলতে চলেছে ষাঁড়েশ্বর মন্দির। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মন্দির শুদ্ধিকরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার কর্মসূচি। এই উপলক্ষে বিষ্ণুপুর শহর ও ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মহিলা কলস হাতে দ্বারকেশ্বর নদ থেকে জল এনে মন্দির চত্বর শুদ্ধ করবেন। একই সঙ্গে ভূমিশুদ্ধিকরণ ও যজ্ঞের সূচনা হবে। তারকেশ্বর মন্দিরের মহারাজের তত্ত্বাবধানে এবং বেনারস থেকে আগত প্রায় ২০ ব্রাহ্মণের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হবে।

Advertisement

মন্দির কমিটি সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কারণে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ বন্ধ ছিল। শুধু পুরোহিতদের দ্বারা ভিতরে থাকা শিবলিঙ্গে নিত্যপুজো চলেছে। এবার থেকে সাধারণ মানুষও নিয়মিত পুজো করার সুযোগ পাবেন। বিষ্ণুপুর ব্লকের ডিহর গ্রামে অবস্থিত এই মন্দিরটি বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধীনে রয়েছে। ইতিহাস সূত্রে খবর, ১৩৪৬ সালে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম মল্লরাজা পৃথ্বী মল্ল ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে এই মন্দির নির্মাণ করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কানানদীর জলের প্রভাবে মন্দিরের ভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। পরে ভূমিকম্পের ধাক্কায় মন্দিরের দেওয়ালে ফাটল সৃষ্টি হয়। সেই কারণেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

Advertisement

Sareswar

Advertisement

দীর্ঘ দাবির পর ২০২০ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া মন্দির সংস্কারের কাজে হাত দেয়। ওড়িশা থেকে দক্ষ কারিগর এনে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে মাঝপথে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালে পরবর্তী পর্যায়ে ফের কাজ শুরু হয়। পুরনো পাথর খুলে তা পালিশ করে নতুনভাবে বসানো হয়। চলতি বছরে অবশেষে সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মন্দির কমিটির ক্যাশিয়ার শম্ভুনাথ কর বলেন, ‘‘১৮ ফেব্রুয়ারি শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্দির প্রাঙ্গণে মহা মৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ হবে। ওই দিন বিষ্ণুপুর শহর ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তদের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভক্তদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার মানুষের খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও ২১ ফেব্রুয়ারি পাশের শৈলেশ্বর মন্দির থেকে বাবা ভৈরবকে ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে নিয়ে আসা হবে।’’

গত ছ’বছর ধরে গাজন উৎসব শৈলেশ্বর মন্দিরে হয়ে আসছিল। চলতি বছর থেকে চৈত্র মাসের গাজন উৎসব ফের ষাঁড়েশ্বর মন্দিরেই আয়োজন করা হবে। বর্তমানে মন্দিরের পঁাচিল নির্মাণের কাজ চলছে। মন্দির কমিটির দাবি, এই মন্দিরকে ঘিরে মানুষদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভক্তদের আবেগ ও বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.