ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা, যুগাচার্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের ১৩১তম আবির্ভাব তিথি উদযাপিত হল সাড়ম্বরে। মাঘী পূর্ণিমার এই পুণ্য লগ্নে মন্মথপুর প্রণব মন্দির প্রাঙ্গণ সাক্ষী থাকল এক বর্ণাঢ্য ইতিহাসের। আয়োজিত হল ১১তম প্রণব রথযাত্রা। ভক্তি, কৃষ্টি আর আর্তসেবার আদর্শকে পাথেয় করে রাজপথে নামল মানুষের ঢল।
আরও পড়ুন:
রবিবার দুপুর ঠিক দুটো। স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে এবং শাস্ত্রীয় বিধি মেনে মন্মথপুর হিন্দু মিলন মন্দির থেকে শুরু হয় রথের পরিক্রমা। আয়োজকদের কথায়, এই রথের সারথি স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব। আর মহারথী রূপে আসীন স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ। এই আধ্যাত্মিক ভাবনাই ছিল এবারের শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ।
প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিক্রমা পথ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পথের দু’ধারে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে বাংলার লোকসংস্কৃতির নানা রূপ। মহিলা ঢাকীদের ছন্দবদ্ধ বাজনা নজর কেড়েছে সবার। সঙ্গে ছিল আদিবাসী নৃত্য, শিশুদের ব্রতচারী এবং হরিনাম সংকীর্তন। কার্টুন চরিত্র ‘মোটুরাম’ ও বিভিন্ন ব্যান্ড দলের পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সবথেকে নজরকাড়া দৃশ্য ছিল দেব-দেবীর সাজে সজ্জিত একদল ছোট শিশু।
রথযাত্রাটি মন্মথপুর থেকে শুরু হয়ে বাঁশতলা বাজার, গঙ্গা আরতি বেদী, গিরিরচক বিশালক্ষ্মী মন্দির এবং বিজননগর ঘুরে পুনরায় প্রণব মন্দিরে এসে শেষ হয়। উৎসবের মেজাজের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনেও খামতি ছিল না। বর্তমানে চলমান মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। তাদের সাফল্য কামনায় শিব ও শক্তির চরণে জানানো হয় পুষ্পাঞ্জলি।
আয়োজকদের মতে, স্বামীজির বাণী ও আদর্শকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই যাত্রার লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে মন্মথপুরের এই উৎসব স্থানীয় মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মুখ্যমন্ত্রীর অভয়বাণীই সার! ইন্দাসে আক্রান্ত সিপিএম, কাঠগড়ায় ‘গেরুয়া গুন্ডাবাহিনী’
-
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন মিলল প্রাক্তন সাংসদ অপরূপার, চলবে পুলিশি জিজ্ঞসাবাদ
-
স্পেন তারকার প্রশংসায় ভিয়া, হকি খেলে গোলের গন্ধ চেনা শুরু ওয়ারজাবালের
-
আবহাওয়ার উলটপুরাণ, দুর্যোগ কমতেই প্রবল গরম উত্তরে, হাঁসফাঁস দশা দার্জিলিংয়ের!
-
প্রেমিকার বাড়ি থেকে আসত হুমকি! সিতাইয়ে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য