Mahadev

গৃহস্থরূপে মহাদেব, মন্দিরঘেঁষে বয় যমুনা! শিবভক্তদের কাছে কী মাহাত্ম্য বটেশ্বর ধামের?

বটেশ্বরের এহেন নামকরণ নিয়ে একটি জনপ্রিয় লোকবিশ্বাস প্রচলিত আছে। করা হয়, শিব এখানে একটি বটগাছের নিচে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। সেই থেকেই নামটির উৎপত্তি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১৩:৪০

options
link
গৃহস্থরূপে মহাদেব, মন্দিরঘেঁষে বয় যমুনা! শিবভক্তদের কাছে কী মাহাত্ম্য বটেশ্বর ধামের?
শিবভক্ত হলে, আসতেই হয় বটেশ্বর ধাম দর্শনে।

ভক্তের কাছে ভগবান ধরা দেন নানা রূপে। কোনও তাকে খুঁজতে ভক্তকে যাত্রা করতে হয় বহুদূর পথ। কখনও আবার তিনি এসে বসেন ভক্তের পাশে কোনও এক বটগাছতলে। আগ্রার বটেশ্বর ধামের কাহিনী খানিক এমনটাই।

Advertisement

আগ্রা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে, যমুনার তীরে অবস্থিত বটেশ্বর ধাম, অভিনব রূপে এখানে ধরা দেন আদিযোগী মহাদেব। এটি এক বিশাল তীর্থক্ষেত্র, আনুমানিক ১০৮টি মন্দিরের শ্রেণি রয়েছে এখানে। আবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের পর্যটন তথ্য অনুযায়ী এখানে বটেশ্বরনাথ মহাদেবকে (Mahadev) কেন্দ্র করে ১০১টি মন্দিরের সারি রয়েছে।

Advertisement
The Rare and Unusual Form of Mahadev at Bateshwar Dham
স্থানীয় বিশ্বাস, মন্দিরঘেঁষে যমুনা নাকি উলটোদিকে প্রবাহিত হয়!

এখানের গৌরীশঙ্কর মন্দিরে শিব, পার্বতী ও গণেশকে এক বৈচিত্রময় রূপে দেখতে পাওয়া যায়। মহাদেবের বড় বড় চোখ, পাকানো গোঁফ রয়েহে। স্থানীয় মতে, শিব-পার্বতী এখানে বসে রয়েছেন ‘শেঠ-শেঠানি’, —অর্থাৎ ধনী গৃহস্থ দম্পতির ভঙ্গিতে। এই মূর্তি বা মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মহারাজ বদন সিং ভাদোরিয়াকে। ১৭ শতকে মধ্যপ্রদেশের চম্বলের ভাদাওয়ার রাজ্যের শাসক ছিলেন তিনি। এ দাবি সত্যি হলে বুঝতে হয় যে কম করে ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের সারি।

Advertisement

সাধারণত মহাদেবকে দেখতে পাওয়া যায় দুই ভিন্ন রূপে। কখনও তিনি যোগী, তপস্বী। মাথায় জটা, কৃশ দেহ, পরনে বাঘছাল। কখনও আবার তিনি পার্বতীর গৃহস্থ স্বামী। গণেশ ও কার্তিকের পিতা। অনুমান করা হয়, বটেশ্বরের ‘শেঠ-শেঠানি’ এই দ্বিতীয় ধরনের ঘরানার অন্তর্গত। তাই বঙ্গের ঘরোয়া শিবমূর্তির সঙ্গেও যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে এই মূর্তির।

The Rare and Unusual Form of Mahadev at Bateshwar Dham
শেঠ-শেঠানিরূপে শিব-পার্বতী। সঙ্গে গণেশ।

বটেশ্বরের এহেন নামকরণ নিয়ে একটি জনপ্রিয় লোকবিশ্বাস প্রচলিত আছে। অনুমান করা হয়, শিব এখানে একটি বটগাছের নিচে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। সেই থেকেই নামটির উৎপত্তি। নদী এখানে বাঁক নিয়ে মন্দিরগুলিকে ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকৃতি তৈরি করেছে। দুধ-সাদা মন্দির ছেড়ে সিঁড়ি নেমে গিয়েছে যমুনা পর্যন্ত। লোকবিশ্বাস এমন কথাও জানায় যে, যমুনা এখানে স্রোতের বিপরীতে প্রবাহিত হয়! যদিও এ দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

শিবভক্ত হলে জীবনে একবার অন্তত আসতেই হয় বটেশ্বর ধামে মহাদেবের এই অনন্য রূপ দর্শনে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.