North Bengal

পাহাড় ভেঙে বিচ্ছিন্ন হতে পারে উত্তরবঙ্গ! উত্তরের ‘লাইফ লাইন’ ২০ মাইল নিয়ে উদ্বিগ্ন ভূতত্ত্ববিদরা

পাহাড়ের বিরাট এলাকা জুড়ে ভূমিধসের ক্ষত।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১৮:৩৫

options
link
পাহাড় ভেঙে বিচ্ছিন্ন হতে পারে উত্তরবঙ্গ! উত্তরের ‘লাইফ লাইন’ ২০ মাইল নিয়ে উদ্বিগ্ন ভূতত্ত্ববিদরা
পাহাড়ের বিরাট এলাকা জুড়ে ভূমিধসের ক্ষত।

গোটা পাহাড় যেন মুখ মেলে হা-করে দাঁড়িয়ে আছে! যে কোনও মুহুর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পথে! প্রায় প্রতিদিন মাটি, পাথরের চাই গড়িয়ে নেমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে শিলিগুড়ি-সিকিম সড়ক যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এহেন পরিস্থিতিতে কখনও জেসিবি, ড্রোজার নামিয়ে চলছে পাহাড় কেটে নতুন করে রাস্তা বানানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই রাস্তাও বেশিদিন থাকছে না। মেরামতের কাজ শেষ না-হতে একই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। ফের নামছে ধস। এহেন অবস্থায় একদিকে যেমন প্রত্যেকদিন জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ছে, তেমনই ক্ষতি হচ্ছে পর্যটন শিল্পে। প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে কতদিন! এহেন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের অস্তিত্ব কতদিন থাকে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন গবেষকরা।

Advertisement

মধুসূদনবাবু অভিযোগ করেন, রাস্তা চওড়া করা এবং অন্য কাজের ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল নষ্ট হয়েছে। এরফলে এলাকাটি আরও বেশি ধসপ্রবণ হয়েছে।

কেন উদ্বিগ্ন হবেন না! পাহাড়ের বিরাট এলাকা জুড়ে ভূমিধসের ক্ষত। অত্যন্ত ভীতিকর দৃশ্য। প্রায় প্রতিদিন একটু করে পাথর-মাটি ধসে ২০ মাইল এলাকা কতটা বিপজ্জনক হয়েছে সেটা ওখানে দাঁড়িয়ে সহজে মালুম হয়ে যায়। ধারাবাহিক ভূমিধসের পর রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা অত্যন্ত জটিল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফের নতুন করে পাহাড় কাটতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভূগোলের গবেষকদের একাংশের মতে সেটা আরও বিপদ বাড়িয়ে চলেছে। চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূগোলের গবেষক মধুসূদন কর্মকার বলেন, “হিমালয়ের এই অঞ্চল অত্যন্ত নবীন। এর শিলা ও মাটি অত্যন্ত দুর্বল এবং দ্রুত ক্ষয়শীল। ওই কারণে ভারী বর্ষণের চাপ নিতে পারে না। মাটি-পাথর ধসে পড়ছে।” তিনি জানান, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এলাকায় বারবার ভূমিধস হওয়ার মূল কারণ অতিভারী বর্ষণ, দুর্বল ও আলগা পাহাড়ি মাটি, এবং অপরিকল্পিত ভূ-প্রকৃতি। এই এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচল যত বাড়বে ভূ-কম্পনের জেরে নরম শিলা ও মাটিতে ফাটল ধরে ততই ভূমিধস বাড়বে। বৃষ্টির সময় ওপর থেকে বড় বড় পাথর ও টনকে টন কাদামাটি গড়িয়ে সোজা রাস্তার এসে পড়বে।

Advertisement

Advertisement

মধুসূদনবাবু অভিযোগ করেন, রাস্তা চওড়া করা এবং অন্য কাজের ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল নষ্ট হয়েছে। এরফলে এলাকাটি আরও বেশি ধসপ্রবণ হয়েছে। একই সমস্যা দেখা দিয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এলাকায়। এখানেও যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ভূগোলের গবেষকদের অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে জাতীয় সড়কের অস্তিত্ব কতদিন থাকে সেটাই বড় প্রশ্ন হয়েছে।

এদিকে প্রায় এক মাস পর হালকা যানবাহনের জন্য ‘২০তম মাইল’ এলাকা খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এলাকার রাস্তা খোলা হয়েছে। এহেন পদক্ষেপে স্বস্তি পেয়েছেন বারদাং ও সিংতামের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে চলা সড়ক বিভ্রাটের কারণে বারদাং, সিংটাম, রংপো ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। অবশেষে তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন। তবে যান চলাচল শুরু হলেও কতদিন চলবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.