Bhutan

পাঁচ দশকে ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত! নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমেও!

ভুটান পাহাড়ে দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে হ্রদের সংখ্যা! নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমে! জানা গিয়েছে, গত পাঁচ দশকে ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত হয়েছে।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ২০:৪১

options
link
পাঁচ দশকে ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত! নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমেও!
ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত! ছবি- সংগৃহীত

ভুটান পাহাড়ে দ্রুত গলছে হিমবাহ, বাড়ছে হ্রদের সংখ্যা! নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমে! জানা গিয়েছে, গত পাঁচ দশকে ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি রিমোট সেন্সিং জার্নালে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং জর্জিয়ার তিবিলিসির ইলিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ওই ঘটনায় সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

গবেষকরা ১৯৭৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভুটান হিমালয়ের হিমবাহের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, এই সময়ের মধ্যে ৫২৪টি হিমবাহ সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হল, ১৯৯৮ সালের পর হিমবাহ হারিয়ে যাওয়ার হার তীব্র হয়েছে। বিলুপ্ত হিমবাহগুলোর মধ্যে ৮৩ শতাংশেরও বেশি ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে হারিয়েছে। আগের দশকগুলোতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় চারটি হিমবাহ বিলুপ্ত হত। পরবর্তীতে সেখানে প্রতি বছর প্রায় ১৬টি হিমবাহ হারিয়েছে। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন পাঁচ বর্গ কিলোমিটারের কম আয়তনের ছোট হিমবাহগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং তুষারপাতের ধরনে পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে!

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Ominous signs of devastating flash floods, like those in Nepal, are emerging in Sikkim too
গলছে হিমবাহ, হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমেও! ছবি-সংগৃহীত

এখানেই শেষ নয়, উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ভুটানে উত্তরাঞ্চলের তুলনায় হিমবাহ হারিয়ে যাওয়ার হার বেশি দেখা যাচ্ছে। সেটাই সিকিম তথা ভারতের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ভারতের পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোতেও একই ধরনের হিমবাহ উধাও হওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে থাকতে পারে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ সালে একটি পৃথক গবেষণায় অরুণাচল প্রদেশে ৩২ বছরে ১১০টি হিমবাহ বিলুপ্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। সেটা পুরো অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক হারে বরফ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

Advertisement

ভূগোলের গবেষক তথা চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ মধুসূদন কর্মকার জানান, হিমবাহ দ্রুত হারিয়ে যাওয়া জলের নিরাপত্তা এবং নদী প্রবাহের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। সম্প্রতি নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পা বানের সম্ভাবনা বাড়িয়ে যায়। সাধারণত শুখা মরশুমে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে হিমালয়ের হিমবাহগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, হিমবাহ গলে প্রচুর পরিমাণে নতুন হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত বরফ গলে যাওয়ার কারণে হ্রদের জলস্ফীতি ঘটছে। ভুটান ও সংলগ্ন ভারতের সমতলের জনবসতিগুলোতে হড়পা বান বিপর্যয়ের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যেভাবে পাল্টাচ্ছে তাতে, এর আগে ২০২৩ সালে উত্তর সিকিমের উঁচু এলাকায় লোনার্ক হ্রদ বিপর্যয়ের জেরে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল তার চেয়েও বড় ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কেন এমন বিপজ্জনক পরিবর্তন? পূর্ব হিমালয়ে দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবকে এজন্য দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এর ফলাফল ভুটানের প্রতিবেশী ভারতের সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.