Pangolin

দেশে দ্বিতীয়, বিলুপ্তপ্রায় প্যাঙ্গোলিন বাঁচাতে সংরক্ষণ কেন্দ্র ঝাড়গ্রামে, তৈরি হচ্ছে হাতি মনিটরিং সেন্টারও

দেশের মধ্যে একমাত্র ওড়িশা রাজ্যের নন্দনকাননে রয়েছে প্যাঙ্গলিনের ব্রিডিং সেন্টার। এবার দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান হতে চলেছে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক।

Advertisement
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: মার্চ ১, ২০২৬, ১৮:৪৮

options
link
দেশে দ্বিতীয়, বিলুপ্তপ্রায় প্যাঙ্গোলিন বাঁচাতে সংরক্ষণ কেন্দ্র ঝাড়গ্রামে, তৈরি হচ্ছে হাতি মনিটরিং সেন্টারও
ফাইল ছবি।

দেশের মধ্যে দ্বিতীয় এবং রাজ্যে প্রথম ঝাড়গ্রামে তৈরি হচ্ছে চরম বিপন্ন প্রাণী প্যাঙ্গোলিনের জন্য বিড্রিং এবং সংরক্ষণ কেন্দ্র। একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গে প্রথম তৈরি হল চব্বিশ ঘন্টা হাতি মনিটরিং সেন্টার। আর সৌজন্যে অবশ্যই ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর আজ রবিবার রাজ্য বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার হাত ধরে শিলান্যাস হয় ওই মনিটরিং সেন্টারের। একইসঙ্গে ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ককেও সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই সেখানে নিয়ে আসা হচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ এবং তিনটি কুমির। ১৮৫০ বর্গ মিটার এলাকাজুড়ে তৈরি হচ্ছে বাঘের এনক্লোজার। পাশাপাশি তৈরি হতে চলছে সিংহের এনক্লোজারও। কুমিরের জন্য পরিখাও প্রস্তুত রয়েছে। আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে আসবে ৩টি কুমির। বৃহৎ এই পরিখায় একসঙ্গে ২০টি পর্যন্ত কুমির থাকতে পারবে। ঝাড়গ্রাম জুতে ইনকিউবেটারের মাধ্যমে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে পাখিদের ডিম ফোটানো হচ্ছে। তাতে জুতে এবার রেকর্ড সংখ্যক ময়ূরে বাচ্চা হয়েছে। বারোটি ময়ূর বাচ্চা হয়েছে। এদিন মন্ত্রী দুটি ময়ূর বাচ্চাকে মূল এনক্লোজারে ছাড়েন। তবে চরম বিপন্ন প্যাঙ্গোলিন সংরক্ষণ এবং ব্রিডিং ব্যবস্থা করার উদ্যোগ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। 

Advertisement

দেশের মধ্যে একমাত্র ওড়িশা রাজ্যের নন্দনকাননে রয়েছে প্যাঙ্গলিনের ব্রিডিং সেন্টার। এবার দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান হতে চলেছে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক। বনদপ্তরের একটি সূত্রের দাবি, এই প্রাণীটি চরম বিলুপ্ত কারণ এর অবৈধ শিকার। বিশেষ করে এই প্রাণীর আঁশ এবং মাংসের বিপুল চাহিদা আছে। ভেষজ ওষুধে ব্যবহার বিষয়ে কিছু দেশে ভুল ধারণার কারণে আঁশ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও যথেচ্ছভাবে বনভূমি কাটা এবং কৃষিজমি বাড়ানোর ফলে ক্রমশ বিলুপ্ত হচ্ছে প্যাঙ্গোলিন। আধিকারিকের কথায়, এই প্রাণীর প্রজনন হয় ধীরে ধীরে। বছরে সাধারণত ১টি বাচ্চা জন্ম দেয়। ফলে সংখ্যা দ্রুত বাড়ে না। এরা মূলত শুষ্ক বন, ঝোপঝাড় ও তৃণভূমিতে বাস করে। মাটির নিচে গর্ত খুঁড়ে থাকে। বেঁচে থাকে পিঁপড়ে এবং উইপোকা খেয়ে। বিপদে পড়লেই শরীর গোল করে আঁশ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। স্বভাবে এরা নিশাচর (রাতে বেশি সক্রিয়)। একাকী চলাফেরা করে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

বন আধিকারিকদের কথায়। ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। মানুষের বসতির কাছাকাছিও কখনও দেখা মেলে। অন্যদিকে এদিন ঝাড়গ্রাম শহরের বাদরভোলা বিটে অফিসে উদ্বোধন করা হয় হাতি মনিটরিং সেন্টার। এখানে ঝাড়গ্রাম, মানিকপাড়া, লোধাশুলি রেঞ্জগুলির জঙ্গলজুড়ে প্রায় ষলোটি এআই ক্যামেরা বসানো রয়েছে। তাতে হাতির যাতায়াত-সহ বিভিন্ন গতিবিধির ছবি উঠে আসবে। আর তা মনিটরিং রুমে বসে লক্ষ্য রাখবেন বন আধিকারিকরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেবেন বন আধিকারিকরা। এজন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। এখানেই শেষ নয়, বন আধিকারিকদের হাতে উঠবে আধুনিক থার্মাল ড্রোনও। এই ড্রোনও কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও পঞ্চাশ থেকে ষাটটি এআই ক্যামেরা বসানোর লক্ষ মাত্রা নেওয়া হয়েছে। একাধিক কর্মী থাকবেন মনিটারিং-এর দায়িত্বে। জানা গিয়েছে, কেবল মাত্র ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানার পরিকাঠামো তথা বাউন্ডারি ওয়াল, খাঁচা, নানা ধরণের পশু, পাখিদের এনক্লোজার-সহ বিভিন্ন কাজ করার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এদিন উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বনপাল পশ্চিম চক্র এস কুণাল ডাইভেল, ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম, রূপনারায়নের ডিএফও শিবানন্দ রাম, খড়গপুরের ডিএফও মনিষ যাদব-সহ প্রমুখ।

ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ”ভারতবর্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ঝাড়গ্রাম যেখানে প্যাঙ্গলিনের জন্য ব্রিডিং এবং সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি হতে চলছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী মনিটরিং সেন্টেরটি হওয়ার ফলে হাতির গতিবিধির রিয়েল টাইম তথ্য ,হাতির প্যাটার্ন সম্পর্কে আমরা একটা ধারণা পাব। এছাড়া চব্বিশ ঘন্টা যেহেতু মনিটরিং হবে তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।” রাজ্য বনদপ্তরের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বলেন, ”বনদপ্তরের লোকজনদের বন্যপ্রাণ এবং মানুষজনেদের নিয়ে চলতে হয়। তাদের সুরক্ষার কথা ভাবতে হয়ে। তাই আমরা যদি একে অপরকে সাহায্য করি তাহলে সেটা সকলের জন্যই ভালো।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন