ফের কাঁথির পেটুয়াঘাটে দেখা মিলল এক নতুন প্রজাতির ঈল মাছের। অনেকটা সাপের মতো দেখতে এই মাছ। কাঁথির পেটুয়াঘাটে এই মাছের সন্ধান মিলেছিল প্রথম। যদিও ওড়িশাতে পরে দেখা যায় একেবারে বিরল প্রজাতির ঈল মাছের। নতুন করে বঙ্গোপসাগরের পেটুয়াঘাটে মৎস্যজীবীদের জালে এই মাছ ধরা পড়ায় উচ্ছ্বসিত গবেষকরা। তাঁদের দাবি, এই প্রজাতির মাঝের সন্ধান মেলায় দু’টি বিষয় স্পষ্ট। এক বঙ্গোপসাগরে জীববৈচিত্রের সম্ভার বেড়েছে। অন্যদিকে সমুদ্রের পরিবেশ এখনও দূষিত হয়নি। কারণ দূষণমুক্ত জলেই এই মাছ আশ্রয় নেয় বলে দাবি গবেষকদের।
আরও পড়ুন:
মৎস্যবিজ্ঞানী দীপাঞ্জন রায় এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ব্যথিমিরাস পারপ্লেক্সাসে’র তিনটি প্রজাতির সন্ধান এর আগে সমুদ্রে মিলেছিল। কিন্তু পেটুয়াঘাটে ঈল মাছের যে প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে তা আগে কোনও সমুদ্রে মেলেনি।
ইতিমধ্যে গবেষকরা নয়া এই ঈল মাছের নামকরণও করে ফেলেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ব্যথিমিরাস পারপ্লেক্সাস’। পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুল মালিনী মহাবিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞানী দীপাঞ্জন রায় দীর্ঘদিন এই বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গেই এই গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন ওড়িশার গোপালপুরের জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ইসচুরিন বায়োলজি রিজিওনাল সেন্টারের গবেষক অনিল মহাপাত্র, স্মৃতিরেখা আচার্য, স্বরূপরঞ্জন মোহান্তি, শুভেন্দু শেখর মিশ্র এবং ভুবনেশ্বরের আইসিএআরের গবেষক জীতেন্দ্রকুমার সুন্দরায়।
মৎস্যবিজ্ঞানী দীপাঞ্জন রায় এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ব্যথিমিরাস পারপ্লেক্সাসে’র তিনটি প্রজাতির সন্ধান এর আগে সমুদ্রে মিলেছিল। কিন্তু পেটুয়াঘাটে ঈল মাছের যে প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে তা আগে কোনও সমুদ্রে মেলেনি। ফলে নয়া এই প্রজাতির মাছটিকে নিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষা। দীপাঞ্জনবাবুর কথায়, এই মাছের ডিএনএ অন্য প্রজাতির থেকে প্রায় চার শতাংশ আলাদা। এ ছাড়া গঠনেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রথম পেটুয়াঘাটে এই মাছের দেখা পাই। পরবর্তীকালে ওড়িশাতেও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩২টি মাছ আমরা পেয়েছি। সে সব সংরক্ষণের পাশাপাশি ছবিও তোলা হয়েছে।
দীপাঞ্জনবাবুর কথায়, আগে এই প্রজাতির যে মাছগুলি পাওয়া গিয়েছিল সেগুলিও নামকরণ করা হয়েছিল। সেগুলির নাম ব্যথিমিরাস একিনরহিনকাস, ব্যথিমিরাস সাইমাস, ব্যথিমিরাস স্মিথি। আর শেষ যেটি আবিষ্কার হল সেটির নাম ব্যথিমিরাস পারপ্লেক্সাস রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন এমন নাম রাখা হল? গবেষকদের কথায়, খুবই গভীর সমুদ্রের মাছ এটি। প্রকৃতি জটিল। সহজে চিহ্নিত করা যায় না। সবদিক ভেবে চিনতেই এই মাছের নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুল মালিনী মহাবিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞানী দীপাঞ্জন রায়।
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী