মাঝারি মানের ছাত্র থেকে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী- হকিংয়ের বিস্ময় জীবন

গোটা জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে বিস্ময়, এই তথ্যগুলো জানেন তো?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯, ১৪:০৮

options
link
মাঝারি মানের ছাত্র থেকে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী- হকিংয়ের বিস্ময় জীবন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত। হুইলচেয়ার বন্দি জীবন। এতদিন বেঁচে থাকাই যেন বিস্ময়ের। আরও বিস্ময় যেন লুকিয়ে আছে তাঁর জীবনের পরতে পরতে। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেও যে বিশ্বখ্যাত হওয়া যায়, তার এত বড় প্রেরণাপুরুষ বোধহয় এক শতাব্দীতে আর পাবে না পৃথিবী। স্টিফেন হকিংয়ের জীবনের সেই চমকপ্রদ দিকের দিকে তাকালে সত্যিই বিস্মিত হতে হয়।

Advertisement

[  বিজ্ঞানের দুনিয়ায় নক্ষত্রপতন, প্রয়াত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ]

Advertisement

NASA-Can-Stop-Looking-for-Black-Holes-Says-Stephen-Hawking-2

Advertisement

একেবারেই মাঝারি মানের ছাত্র ছিলেন হকিং। বহুদিন ঠিকঠাক পড়তে পর্যন্ত পারতেন না। ক্লাসে যা নম্বর পেতেন তাতে পিছনের সারির ছাত্রের তকমাই জুটেছিল ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীর।

ক্লাসে পড়াশোনার যখন এরকম হাল, তখনই হকিংয়ের চমক। মোটে ১৭ বছর বয়সে তখনই অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যা পড়ার এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন। শুধু তাই নয়, পান স্কলারশিপও।

ছোটবেলা থেকেই বিশ্বের সৃষ্টিরহস্য তাঁকে বুঁদ করে রাখত। পড়াশোনায় যেমনই হোন না কেন, তাঁকে আইনস্টাইন বলেই ডাকতেন অনেকে। ঘটনাচক্রে আইনস্টাইনের জন্মদিনেই পরলোকে পাড়ি দিলেন হকিং।

গ্যালিলিওর মৃত্যুদিনে তাঁর জন্ম। আর আইনস্টাইনের জন্মদিনে তাঁর মৃত্যু। এ যেন আশ্চর্য সমাপতন।

hawking-8-650_010818115827

২০০৭ সালে জিরো গ্রাভিটি ফ্লাইটে শামিল হয়েছিলেন হকিং। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এ পৃথিবী একদিন মানুষের বসবাসের উপযোগী থাকবে না। তাই জিরো গ্রাভিটিতে বসবাসের জন্য মানুষকে তৈরি হতে হবে। অন্য কোনও দুনিয়াও যাতে মানুষের অধীনে আসে, সে কারণেই ছিল তাঁর এই প্রয়াস।

যে স্পিচ সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে হকিংয়ের আওয়াজ শোনা যেত, তা আসলে ছিল আমেরিকান উচ্চারণ। এদিকে হকিং জন্মসূত্রে ব্রিটিশ। তাও পরিবর্তনের ভাবনাকে আমল দেননি বিজ্ঞানী। তাঁর মতে, এই স্পিচ সিন্থেসাইজারটিও ছিল তাঁর পরিচয়ের একটি অংশ।

কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোনও কিছু বেরিয়ে যেতে পারে না। এমনকী কোনও তথ্যও নয়। বাজি ধরেছিলেন হকিং। দীর্ঘদিন তাঁর দাবি অক্ষত ছিল। শেষমেশ অবশ্য বাজি হারতে হয়েছিল হকিংকেও।

ব্ল্যাক হোল নিয়ে গবেষণার জন্যই তাঁর খ্যাতি। আবার এর জন্যই নোবেলের জন্য কখনও মনোনীত হননি তিনি।

২০১৪-তে তাঁর জীবন অবলম্বন করেই হয় ছবি- দ্য থিওরি অফ এভরিথিং। পাঁচটি বিভাগে অস্কারে নমিনেশন পেয়েছিল ছবিটি।

hawking7-650_010818115827

টেলিভিশনেও দেখা যেত এই বিজ্ঞানীকে। ‘দ্য সিম্পসনস’ নামে একটি কার্টুন শো-তে তাঁর অ্যানিমেটেড ভার্সনেরও দেখা মিলেছিল। সেখানে ব্যবহৃত কণ্ঠস্বর ছিল হকিংয়ের স্পিচ সিন্থেসাইজারের স্বর।

লেখার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন হকিং। কিন্তু এমন একটি ভিজুয়াল পদ্ধতি তিনি তৈরি করেছিলেন যার ফলে জ্যামিতির মাধ্যমেই সমাধান করতেন জটিল অঙ্ক।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.