Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৫ অক্টোবর ২০২৬
Kolkata Durga Puja

২ হাজার বছরের আদিবাসী শিল্পের ছোঁয়া বেহালার পুজোয়, কেমন হচ্ছে উমার রূপ?

Durga Puja 2026: সমগ্র ভাবনাটিকে বাস্তবরূপ দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছেন শিল্পী সুব্রত পাল। মণ্ডপ দেখতে দেখতে মুগ্ধ হবেন দর্শক। নিজেকে খুঁজে পাবেন মধ্যপ্রদেশের প্রাচীন জনজাতির কোনও এক পাড়াতেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১৮:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১৮:১০

options
link
২ হাজার বছরের আদিবাসী শিল্পের ছোঁয়া বেহালার পুজোয়, কেমন হচ্ছে উমার রূপ? zoom
বেহালা ১১ পল্লির দেবী প্রতিমা
Advertisement

ভারতের আদিম জনজাতিগুলির ইতিহাস প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। জীবনযাপনের ধরন থেকে শুরু করে সংস্কৃতি-শিল্পকলা, সবেতেই দেখা যায় সেই ঐতিহ্যের জলছাপ। এমনই ঐতিহ্যের প্রভাব এবার কলকাতার দুর্গাপুজোয় (Kolkata Durga Puja)। ভারতের বৃহত্তম আদিবাসী জনজাতিগুলির মধ্যে অন্যতম মধ্যপ্রদেশের গোন্ড সম্প্রদায়। গোন্ড শব্দটি দ্রাবিড় ‘কোন্ড’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সবুজ পর্বত বা সবুজ পাতার সারি। প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে তাদের দ্বারা সৃষ্ট শিল্পভাষাটি গন্ড আর্ট বা গোন্ড আর্ট নামে পরিচিত। এই শিল্পের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ চিত্রাঙ্কন, নৃত্য পরিবেশন, ধামসা-মাদলের বাদ্য প্রভৃতি।

Durga Puja 2026: 11 Pally Club Brings Madhya Pradesh’s Gond Art to Kolkata

Advertisement

গোন্ড শিল্পের মধ্যেই রয়েছে ‘ডিগনা’— বৃত্ত, ত্রিভুজ, বিন্দু, রেখার একত্রিকরণে রচিত জটিল আন্তঃসংযুক্ত জ্যামিতিক নকশা। গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ থেকে শুরু করে মহাজাগতিক সৃষ্টিও ধরা পড়ে এই ছবিতে। অন্যদিকে রয়েছে ‘ভিত্তিচিত্র’— জনজাতির বসতি জুড়ে প্রায় প্রত্যেক বাড়ির দেওয়াল মেঝেতেই দেখতে পাওয়া যায় চাষবাস, আলপনা, জীবন-জীবিকার নানান খণ্ডচিত্র। গোন্ড সম্প্রদায়ের মহিলারা যত্ন করে এমন সব ছবি এঁকে দেয় বাড়িতে বাড়িতে। অতি সাধারণ কুঁড়েঘরও সেজে ওঠে রঙিন ছবিতে। যেন সৃষ্টিকর্তা যা কিছু বানিয়েছেন যত্ন নিয়ে, সে সবই ফুটিয়ে তোলে গোন্ড সম্প্রদায় তাদের কাদামাটির প্রতিচ্ছবিতে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

এই শিল্পের অন্যতম নান্দনিক বৈশিষ্ট্য হল— বিন্দু ও রেখার সূক্ষ্ম পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। জনজাতির বিশ্বাস, বাড়িকে এমন ছবিতে ছবিতে সাজিয়ে তুললে, তা সৌভাগ্য বয়ে আনে গৃহস্থের জন্য। এখানে শিল্প কেবল সময় কাটানোর মাধ্যম হয়ে থেমে থাকে না। বরং হয়ে ওঠে সুরক্ষার প্রতীক। বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা।

Durga Puja 2026: 11 Pally Club Brings Madhya Pradesh’s Gond Art to Kolkata

এমনই ভাবনা থেকে চলতি বছরে ১১ পল্লী ক্লাবের দুর্গা পুজোর (Durga Puja 2026) শিল্পভাবনায় জুড়েছে গোন্ড শিল্প। মণ্ডপের কেন্দ্রে একটি কলসীসম কুরিয়া আর্কিটেকচার থাকছে। সেটাকে ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি ধাপ বা লেয়ারে। একেবারে নীচের ধাপটিতে দেখা যায়, এক সুন্দর সকালের দৃশ্য। দেখা যায়, গোন্ড সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ সেখানে চাষাবাদের কাজে ব্যস্ত।

দ্বিতীয় লেয়ারে দেখতে পাওয়া যায়, সুয়া নৃত্যের প্রতিচ্ছবি। তৃতীয় ধাপে, তোতাপাখির প্রেম নিবেদন। চতুর্থ ধাপে চিত্রকলা। পঞ্চম ধাপে সান্ধ্যকালীন গুসাদি নৃত্য ও সুয়া নৃত্য। একেবারে উপরের ধাপটিতে কালরাত্রিকে সম্মান প্রদানের উদ্দেশে তৈরি হয়েছে পিলার। প্রতিটি ধাপই সেজে উঠেছে জ্যামিতিক মোটিফে।

Durga Puja 2026: 11 Pally Club Brings Madhya Pradesh’s Gond Art to Kolkata

 মণ্ডপের ভিতরটিকে ৩টি প্রধান কুরিয়া বা ঘরে বিভক্ত করা হয়েছে। ‘মুধাত ঘরে’ রয়েছে শস্যদানা সংরক্ষণ ও দেবীর স্থাপনা। ‘পারছি ঘরে’ কৃষি ও পশুপালনের সরঞ্জাম। ‘পালতা ঘরে’ দণ্ডায়মান বৃহৎ কলাগাছ। গোন্ডশিল্পের জ্যামিতিক মোটিফেই সেজে উঠেছে সবটুকু। দেবী প্রতিমা এখানে মাটির লেপনে রূপ পেয়েছেন। এই সমগ্র ভাবনাটিকে বাস্তবরূপ দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছেন শিল্পী সুব্রত পাল। মণ্ডপ দেখতে দেখতে মুগ্ধ হবেন দর্শক। নিজেকে খুঁজে পাবেন মধ্যপ্রদেশের প্রাচীন জনজাতির কোনও এক পাড়াতেই।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.