অস্ট্রেলিয়া: ২৩৬ (রেনেশ ৫৬, মার্শ ৪১, হর্ষিত ৪-৩৯)
ভারত: ২৩৭-১ (রোহিত ১২১, বিরাট ৭৪)
ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ফর্ম টেম্পোরারি। ক্লাস পার্মানেন্ট।’ ক্রিকেটের বহু ক্লিশে হয়ে যাওয়া প্রবাদ। কিন্তু কখনও কখনও এই ‘ক্লিশে’ শব্দগুলিও বড্ড টাটকা লাগে। আসলে পুরনো হয়ে যাওয়া মানেই তো সবকিছুকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া যায় না। যেমনটা ফেলে দেওয়া যায় না রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) বা বিরাট কোহলিদের (Virat Kohli) মতো ‘বুড়ো’ ব্যাটারদের। অন্তত ওয়ানডে ফরম্যাটে যে তাঁরা এখনও অপ্রতিরোধ্য এবং অতুলনীয়, সেটা অজিদের বিরুদ্ধে সিডনিতে আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন দুই মহারথী। তাঁদের চওড়া ব্যাটেই ভারত অনায়াসে তৃতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল।
এমনিতে অজিদের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচের গুরুত্ব ছিল একটা জায়গাতেই। সেটা হল হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় যেন টিম ইন্ডিয়াকে মুখ ঢাকতে না হয় সেটা নিশ্চিত করা। তবে বিরাট এবং রোহিতদের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও ঢের ঢের বেশি ছিল। যারা তাঁদের ফর্ম নিয়ে, ফিটনেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছিল। যারা প্রশ্ন তুলছিল, দলে জায়গা হওয়া নিয়ে তাঁদের সব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ছিল। হ্যাঁ, রোহিত শর্মা আগের দিন ৭৩ রান করেছিলেন বটে। কিন্তু তাঁকে স্বাভাবিক ছন্দের ধারেকাছে মনে হয়নি। আর বিরাট গোটা সিরিজই ছিলেন রানহীন। সেই দুই তারকাই ‘হোয়াইটওয়াশে’র লজ্জা থেকে বাঁচালেন টিম ইন্ডিয়াকে।
সিডনিতে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া অল আউট হয় ২৩৬ রানে। কোচ গৌতম গম্ভীরের ‘আস্থার’ মর্যাদা রেখে ৪ উইকেট তুললেন হর্ষিত রানা। ট্র্যাভিস হেড ও মিচেল মার্শ শুরুটা খারাপ করেননি। ১০ ওভারের মধ্যে ৬০-র উপরে রান উঠে যায়। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ধাক্কা দেন মহম্মদ সিরাজ। তিনি হেডকে ফেরান। মিচেল মার্শকে (৪১) ফেরান অক্ষর প্যাটেল। মাঝে ম্যাট রেনশ ৫৬ রানে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ওয়াশিংটন সুন্দর রেনশ ও ম্যাট শর্টকে আউট করার পর অস্ট্রেলিয়ার বড় রানের আশা শেষ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় হর্ষিতের ম্যাজিক। অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, মিচেল আওয়েন ও শেষে জস হ্যাজেলউডকে ফেরান হর্ষিত। মিচেল স্টার্ককে আউট করেন কুলদীপ। অন্যদিকে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে আউট হন নাথান ইলিস। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৩৬ রানে।
টার্গেট ছিল ২৩৭। বিরাট কিছু নয় ঠিকই। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিংয়ের যা হাল ছিল, তাতে টেনশনের চোরাস্ত্রোত তো একটা ছিলই। তবে রোহিত এবং কোহলির অনবদ্য ইনিংস সেই টেনশনকে ধারেকাছে আসতে দেননি। শুরুতে অধিনায়ক গিলের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি করেন রোহিত। গিলের উইকেটের পর বিরাট এসেও স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং শুরু করেন। দুই মহারথীর জুটিই অনায়াসে ভারতকে পৌঁছে দিল জয়ের লক্ষ্যে। রোহিত নিজের কেরিয়ারের ৩৩তম শতরানটি করলেন। আর বিরাট অপরাজিত থাকলেন ৭৪ রানে। দুই তারকার এই জুটি দেখে মনে হল, ব্যাটিংটাই বুঝি পৃথিবীর সহজতম কাজ। দুই মহারথী এদিন নিজেদের মধ্যে ১৯তম সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করলেন। যা ক্রিকেট ইতিহাসে তৃতীয় সর্বাধিক। দুই তারকাই বুঝিয়ে দিলেন, আরও অনেক ক্রিকেট বাকি আছে।
সর্বশেষ খবর
-
৯ বছরের একত্রবাস, অবশেষে জর্জিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রোনাল্ডো
-
বাঘ, ভালুকের দেখভাল করবে পড়ুয়ারা! জু রেঞ্জার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে আলিপুর চিড়িয়াখানা
-
রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি রাজ্যের! অসন্তোষ হাই কোর্টের
-
মুম্বইয়ের বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! শিশু-সহ মৃত ২, আহত আরও ৮ জন
-
ওবিসি জটেই ঝুলে! ৩১ আগস্টের মধ্যে হচ্ছে না ২৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ, জানিয়ে দিল এসএসসি