শহরে বাদলা আবহাওয়ায় ক্রিকেট খেলা-টেলা থাকলে, একজনের অভিমত-মন্তব্য প্রভৃত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের। পূর্বভাস-নামায় কখন বৃষ্টি দেখাচ্ছে? কতক্ষণ চলতে পারে? হাওয়া অফিস থেকে আদৌ কোনও আশ্বাসবাণী রয়েছে কি না? ইত্যাদি, ইত্যাদি। রবিবার পুরোদস্তুর আবগারি পরিবেশে ইডেনে ঢুকে মনে হল, এ সমস্ত বিষয়-আশয় তো অবশ্যই। আরও গোটা কতক জিনিস আগাম জেনে নেওয়া জরুরি। যেমন, সুপার-সপারের বন্দোবস্ত। যেমন, বৃষ্টি থামলে খেলা শুরুর সম্ভাব্য সময়।
আরও পড়ুন:
তা, সুজনবাবু যা বললেন-টললেন, তাতে কেকেআর সমর্থকদের আশার বাতি কিঞ্চিৎ প্রজ্জ্বলিত হওয়া উচিত। সর্বপ্রথম লিখে রাখা যাক, আজ সোমবার ইডেনে কেকেআর বনাম পাঞ্জাব কিংস যুদ্ধে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আছে ঘোর, আছে সকাল থেকে, ‘আছে দফায় দফায়। ইডেন কিউরেটর বলছিলেন যে, সন্ধে ছ’টা থেকে এক পশলা নামতে পারে। দিনভর থাকবে মেঘলা আকাশ। সন্ধেয়, অর্থাৎ ম্যাচের সময়ে রয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস। শুনলাম, ছিয়াশি জন মাঠকর্মী আজ তৈরি থাকছেন। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর মিনিট চল্লিশেক লাগবে মাঠ শুকিয়ে খেলা শুরু করতে। চারটে সুপার সপার রাখা রয়েছে। তবে একজন সুপার সপার চালক মধ্যিখানে প্রয়াত হওয়ায় ঈষৎ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সুজনবাবু বললেন যে, প্রয়োজনে নিজের গাড়ির ড্রাইভারকে ময়দানে নামিয়ে দেবেন। দরকারে তাঁকে বলবেন, সুপার সপার চালাতে। “এত ভাবনার কিছু নেই। আমার ধারণা, ওভার রিডিউস হবে না। পুরো খেলাই হবে। আশা করছি, যাঁরা খেলার টিকিট কেটে কাল মাঠে আসবেন, নিরাশ হয়ে ফিরতে হবে না,” বরাভয় দেন সুজন।
আরও পড়ুন:
ইডেনে সন্ধ্যায় এ লেখা লেখার সময় মনে হচ্ছিল, ইদানিং প্রতিবার এ খেলার উপরই যে কেন বৃষ্টির প্রকোপ পড়ে। গত আইপিএলেও ইডেনে কেকেআর বনাম পাঞ্জাব কিংস খেলাটা হয়নি। এবারও বৃষ্টি হাতে অনিশ্চয়তার কুঠার নিয়ে দাঁড়িয়ে। অথচ একটা যুদ্ধের যে এবার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অনেক দিন হল। আর তা, ইডেনেই হওয়া উচিত। সোমবার। সব ঠিকঠাক চললে, শাহরুখ খানের সামনে। শ্রেয়স আইয়ার বনাম কেকেআর। আইপিএল-জয়ী নাইট অধিনায়ক বনাম তার পূর্বতন সংসার।
কে না জানে, ২০২৪ সালে টিমকে চ্যাম্পিয়ন করার পর নাইট রাইডার্সের সঙ্গে শ্রেয়সের সম্পর্ক কী ভাবে শেষ হয়েছিল? কে ভুলতে পেরেছে, ক্যাপ্টেন আইয়ারকে অবলীলায় ছেড়ে দিয়ে, দ্বিতীয় আইয়ার, অর্থাৎ ভেঙ্কটেশকে মহানিলামে বিস্তর দর হাঁকাহাঁকি করে কেকেআরের তেইশ কোটি পঁচাত্তর লক্ষে কিনে ফেলা। অগ্র-পশ্চাৎ বিন্দুমাত্র বিবেচনা না করে। পরবর্তী ঘটনা-প্রবাহ কোন খাতে এগিয়েছিল, কোন গিরিখাদের কিনারে নাইটদের ঠেলে দিয়েছিল, তারও পুনরায় ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজন নেই। একটাই বিষয় শুধু লেখা যায়। কেকেআর আজও নেতৃত্ব-সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। অজিঙ্ক রাহানেকে দিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হচ্ছে। যাঁর অধিনায়কত্বে এখনও পর্যন্ত কিছুই করে উঠতে পারেনি কেকেআর। উল্টে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে বিপত্তি বেড়েছে। বাড়ছে। অধিনায়ক স্বয়ং ওপেন করবেন বলে, সুনীল নারিনকে আট নম্বরে যেতে হচ্ছে। পাওয়ার প্লে-তে ক্যারিবিয়ানের ‘ফায়ার পাওয়ার’-কে জলাঞ্জলি দিয়ে।
পাঞ্জাব শহরে আসার পর থেকে ক্রমাগত সময়-অসময়ে স্মরণ করিয়ে চলেছে, শ্রেয়স অধিনায়ক হিসেবে কত ভালো। রবিবার সকালে পাঞ্জাব পেসার বিজয়কুমার বৈশ্যক ‘রাউন্ড টেবল কনফারেন্সে’ বলে গেলেন, “শ্রেয়স ভাইয়ের একদিন ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন হওয়া উচিত।” বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে পাঞ্জাবের সহকারী বোলিং কোচ ট্রেভর গঞ্জালভেস আবার বললেন, “শ্রেয়স অসামান্য অধিনায়ক। ওর সবচেয়ে বড় গুণ, শান্ত থাকতে পারে। টিমের পঁচিশতম সদস্য পর্যন্ত নিঃসঙ্কোচে ওর কাছে চলে যেতে পারে সমস্যার সমাধানে।” তা, কেকেআরের বিরুদ্ধে দলে শ্রেয়সের থাকা কি বিশাল অ্যাডভান্টেজ হবে না? নাইট সংসারের ‘ঠিকুজি-কোষ্ঠী’ সবই তো তিনি জানেন। পরিকল্পনা করতে সুবিধে হবে না? এবার ট্রেভর উত্তর দিলেন, “তা নয়। আইপিএলে কত জনের সঙ্গেই তো আগে খেলেছে শ্রেয়স। তবে হ্যাঁ, কেকেআর নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। খুব প্রিসাইজ প্ল্যানিং আছে।
পাঞ্জাব শীতল হুঙ্কার দেবেই। মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষকে এমন মুমূর্ষ দশায় পেলে কেউ ছাড়ে। ইতিহাস বলে, আইপিএলে কেকেআর বনাম পাঞ্জাব কখনওই চিত্তাকর্ষক ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সে ভাবে সরবরাহ করেনি। বরং এ যুদ্ধের পরিণতি অনেকাংশেই সোনালি-বেগুনির দিকে ঝুঁকে। আজও ২১-১৩ এগিয়ে কেকেআর। কিন্তু অতীত কখনওই বর্তমানের নিখুঁত মানদণ্ড হয় না। বর্তমানে দুই টিমের তুল্যমূল্য বিচার অনুপাতে, কেকেআরের চেয়ে দল হিসেবে পাঞ্জাব শত যোজন এগিয়ে। গতবার তারা আইপিএল ফাইনাল খেলেছে। দুইয়ে দুই করে পাঞ্জাব ইডেনে এসেছে। কেকেআর সেখানে প্রথম দু’টোই হেরে বসে রয়েছে। বোলিংয়ে ঝঞ্ঝাট। ব্যাটিংয়ে ঝঞ্ঝাট। হর্ষিত রানা-মুস্তাফিজুর রহমান-মাথিশা পাথিরানা (আজ পর্যন্ত আসেননি) না থাকায় নাইট পেস বোলিংয়ের যেন শিরচ্ছেদ’ হয়ে গিয়েছে। দুই স্পিনার সুনীল নারিন-বরুণ চক্রবর্তীর অবস্থাও নিদারুণ। দু’টো ম্যাচের একটাতেও চার-চার আট ওভার করে দু’জনকে করানো যায়নি বা হয়নি। পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষ রানের মুক্তাঞ্চলে পর্যবসিত হচ্ছে নিয়মিত। এমতাবস্থায় পাঞ্জাবের দুই পরাক্রমী ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য-প্রভসিমরন সিংয়ের সম্ভাব্য ‘প্রলয়’ সামলাবে কে? কেকেআরকে বাঁচাবে কে? শ্রেয়স তো পরে আসবেন।
কেকেআর বোলিং কোচ টিম সাউদি প্রশ্নের নিরন্তরের গোলাবর্ষণকে অবিরাম পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। বললেন, ‘মানছি, আমাদের পাওয়ার প্লে বোলিং ভালো হচ্ছে না। তবু বলব, দাঁড়ান। সবে দু’টো ম্যাচ হয়েছে, টুর্নামেন্টেরও আর্লি ফেজ চলছে। আমরা বিশ্বাস রাখছি বোলারদের উপর। তা ছাড়া দেখছেন তো, আমাদের গত দু’টো ম্যাচে কত রান উঠেছে।” সাউদি টিমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দলের শতছিন্ন দশা নিয়ে তিনি সরকারি ভাবে বলতে পারেন না। কিন্তু তাঁর কথাবার্তা নাইট সমর্থকদের কতটা আশা-আস্থা জোগাবে, ঘোর সন্দেহ রয়েছে। যা বুঝছি, সোমবার দল সম্ভবত বদলাবে না কেকেআর। যার পর আরও একটা জিনিস বুঝছি। জানি, দর্শকদের পক্ষে তা খারাপ। কিন্তু নাইট-প্রেক্ষিতে বেশ ভালো। ‘আজ বৃষ্টিতে খেলার বারোটা বাজলে খুব মন্দ হয় না। আরে বাবা, নিদেনপক্ষে একটা পয়েন্ট তো আসবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মন্দারমণির উত্তাল সমুদ্রে বড় অঘটন, স্নানে নেমে মৃত ১, খোঁজ নেই আরও এক পর্যটকের
-
বিমানবন্দরের ধাঁচে গড়ে উঠবে হাওড়া স্টেশন, থাকবে আধুনিক সুবিধা! পরিদর্শনে মন্ত্রী
-
আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা! কপাল জোরে প্রাণরক্ষা ভাঙড়ের ‘তাজা’ নেতার
-
ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পতাকাধারী জাহাজ! ২৪ নাবিকের খোঁজে তল্লাশি
-
রাজস্থানের ৬১১ সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবনই নেই! ‘আরশোলা’দের কর্মসূচির মাঝেই প্রকাশ্যে রিপোর্ট