CAB

‘ডাঁট’ ডাহা ফেল! সরতেই হচ্ছে যুগ্মসচিব মদনকে, সিএবিতে এবার নির্বাচনী দামামা

লোধা আইন অমান্য করে বয়স সত্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সিএবি যুগ্মসচিব পদে বহাল ছিলেন মদন ঘোষ। স্থানীয় ক্রিকেট মহলের রোষে পড়ে মদনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করতে বাধ্য হল সিএবি!

Advertisement ad
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১৬, ২০২৬, ১০:৩৬

options
link
‘ডাঁট’ ডাহা ফেল! সরতেই হচ্ছে যুগ্মসচিব মদনকে, সিএবিতে এবার নির্বাচনী দামামা zoom
প্রশ্ন উঠছে, মেয়াদ শেষের পরেও মদনকে এত দিন পদে কেন রেখে দেওয়া হল? কীসের উদ্দেশ্য?

মাসখানেক আগে, লোধা আইন অমান্য করে বয়স সত্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সিএবি যুগ্মসচিব পদে বহাল থাকা নিয়ে তিনি ‘সংবাদ প্রতিদিনে’র প্রতিনিধিকে ডাঁটের সঙ্গে বলেছিলেন যে, ”বয়স সত্তর হয়ে গেলে ক্রিকেট প্রশাসন থেকে সরে যেতে হবে, কে বলল? কোথায় বলা আছে?” শুধু তাই নয়, রীতিমতো ঠাঁটের সঙ্গে উপদেশ দিয়েছিলেন, লোধা আইন পড়ে নিতে। তা হলেই নাকি ‘সংবাদ প্রতিদিনে’র প্রতিনিধি সমস্ত জেনে যাবেন! তা, সোমবার গভীর রাতে সেই সিএবি যুগ্মসচিব মদন ঘোষের ডাঁট ও ঠাঁট-দুই-ই গেল! স্থানীয় ক্রিকেট মহলের রোষে পড়ে মদনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করতে বাধ্য হল সিএবি!

সোমবার রাতে এক চিঠি মারফত সিএবি যুগ্মসচিব বাবলু কোলে সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্যদের জানান যে, আগামী শুক্রবার, অর্থাৎ ১৯ জুন সন্ধে সাতটায় কমিটির বৈঠক রাখা হয়েছে। যেখানে স্পেশাল জেনারেল মিটিংয়ের সময়-তারিখ-কেন্দ্র ঠিক করা হবে। এসজিএমের স্থান-কাল-কেন্দ্র ঠিক করার একটাই কারণ-সিএবি যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন। মদনের নাম উহ্য রেখে বলা হয়, বর্তমান যুগ্মসচিব ‘ডিসকোয়ালিফায়েড’, তাই। যা ঘটনা, লোধা আইনে পরিষ্কার লেখা রয়েছে, সত্তরোর্ধ্ব কেউ ক্রিকেট প্রশাসনে পদাধিকারী হয়ে থাকতে পারবেন না। গত ২১ মে মদনের সত্তর বছর হয়ে গিয়েছে।

ময়দান মদন নিয়ে সিএবির ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ দেখে হাঁফ ছেড়ে বাঁচছে বটে। কিন্তু কেউ কেউ জানতে চান, মেয়াদ শেষের পরেও মদনকে এত দিন পদে কেন রেখে দেওয়া হল? কীসের উদ্দেশ্য? বলা হল, লোধা আইনে মেয়াদ উত্তীর্ণের পর প্রাক্তন সিএবি কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে কিংবা প্রাক্তন সিএবি সচিব সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়কে সরাতে কালক্ষেপ তো তখন করেনি সিএবি। মদনের মতো বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার ‘সহমর্মিতা’ তাঁরা পাননি। পূর্বতন ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট রজার বিনির মেয়াদ শেষের পরের দিনই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া তো না হয় ছেড়েই দেওয়া গেল।

প্রশ্ন উঠছে, মদনকে কেন তা হলে পদে বসিয়ে রাখা হল বাড়তি এক মাস? কীসের অভিলাষে? সিএবি তো নিজেরাই এদিন জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে যে, বর্তমান যুগ্মসচিব ‘ডিসকোয়ালিফায়েড’। সেটা আজ নিশ্চয়ই হননি! যাক গে, যাক। এদিনের পর মদন যে সরছেন, পরিষ্কার। এটাও নিশ্চিত, সিএবি নতুন যুগ্মসচিব পাচ্ছে। আর হ্যাঁ, এবার যিনি নতুন যুগ্মসচিব হবেন, তাঁকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। বিগত কয়েক বছরের মতো ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ কেউ ‘মনোনীত’ আর হবেন না। সিএবির শাসক গোষ্ঠী এবার প্রার্থী দিলে, উল্টোদিকেও কিন্তু প্রার্থী দাঁড়াবেন!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন