Jitesh Sharma

বিশ্বকাপে সুযোগ না পেয়ে আক্ষেপ নেই, বাবার মৃত্যুই বদলে দেয় জিতেশকে

বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া তাঁর কাছে প্রথমে ছিল খুবই কষ্টের। সেই হতাশার মাঝেই জীবনের আরও বড় এক কঠিন অধ্যায় সামনে আসে। বিশ্বকাপ চলাকালীন পিতৃবিয়োগ ঘটে জিতেশের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০২৬, ১৪:০৬

options
link
বিশ্বকাপে সুযোগ না পেয়ে আক্ষেপ নেই, বাবার মৃত্যুই বদলে দেয় জিতেশকে
জিতেশ শর্মা। ফাইল ছবি।

ক্রিকেটারদের জীবনে স্বপ্ন অনেক। স্টেডিয়ামের আলো, হাজারো দর্শকের গর্জন, বিশ্বকাপ ট্রফি – এসব কে না চান! কিন্তু জীবনের কিছু মুহূর্ত এমন থাকে, যা সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়। ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জিতেশ শর্মাও (Jitesh Sharma) যেন সেই কঠিন সত্যই উপলব্ধি করেছেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া তাঁর কাছে প্রথমে ছিল খুবই কষ্টের। সেই হতাশার মাঝেই জীবনের আরও বড় এক কঠিন অধ্যায় সামনে আসে। বিশ্বকাপ চলাকালীন পিতৃবিয়োগ ঘটে জিতেশের।

Advertisement

জিতেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন গত বছরের শেষে। ভেবেছিলেন বিশ্বকাপে সুযোগ পাবেন। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর দলে ঢুকে পড়েন ঈশান কিষান। বাদ পড়ার খবর খুব স্বাভাবিকভাবেই হতাশ করেছিল জিতেশকে। বিশ্বমঞ্চে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্নই ছিল তাঁর লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কে জানত, এর পর আরও কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। অসুস্থ হয়ে পড়েন জিতেশের বাবা মোহন শর্মা। ১ ফেব্রুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই কঠিন সময়ে বাবার পাশে থাকতে পেরেছিলেন জিতেশ। সেই কারণেই নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

“বাবার শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পেরেছি বলে ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। এটাই আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। সেই মুহূর্তে বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি বাবার আমাকে প্রয়োজন ছিল। সাতদিন টানা বাবার সঙ্গে ছিলাম। বিশ্বকাপ হয়তো আবার আসবে, কিন্তু বাবাকে আর ফিরে পাব না।” বলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।

জিতেশের কথায়, “প্রথমে যখন শুনলাম বিশ্বকাপের দলে আমার নাম নেই, তখন কিছুটা ভেঙে পড়েছিলাম। আমি তো মানুষ। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছিলাম। পরে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সমর্থনে সেই সময়টা কাটিয়ে উঠেছি।” টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষানের মতো উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। দলে ইতিমধ্যেই দুই উইকেট কিপার থাকায় জায়গা পাননি জিতেশ। “এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। বাবার শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পেরেছি বলে ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। এটাই আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। সেই মুহূর্তে বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি বাবার আমাকে প্রয়োজন ছিল। সাতদিন টানা বাবার সঙ্গে ছিলাম। বিশ্বকাপ হয়তো আবার আসবে, কিন্তু বাবাকে আর ফিরে পাব না।” বলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তিনি এ কথাও জানিয়েছেন, ঘরে বসে বিশ্বকাপ দেখাটা অন্যরকম অনুভূতি ছিল।

Advertisement

একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে ভারতীয় দল কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, অধিনায়করা দারুণভাবে দলকে পরিচালনা করেছে। প্রত্যেকে অসাধারণ খেলেছে। আমরা যখন এশিয়া কাপ জিতি, তখন থেকেই তো একটাই লক্ষ্য ছিল। তা হল বিশ্বকাপ জেতা। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। খুব খুশি আমি।” বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “স্কোয়াড ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কিছুই জানতাম না। দল ঘোষণা হওয়ার পর দেখলাম আমার নাম নেই। পরে অবশ্য জানতে পারি, কেন আমাকে নেওয়া হয়নি। কোচের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হয়। সুযোগ না পাওয়ার কারণ কোচ ও নির্বাচকরা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছেন।” যদিও এই মুহূর্তে হতাশার অন্ধকারে থেমে থাকতে চান না তিনি। সামনে অপেক্ষা করছে আইপিএল। সেখানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে নতুন উদ্যমে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.