Pakistan Misbah Ul Haq

সিরিজের মাঝপথে ক্রিকেটার ছাঁটাই, পদত্যাগ নির্বাচক প্রধান মিসবার, ক্ষোভে ফুঁসছেন পাক প্রাক্তনীরা

প্রশ্ন, এর পরেও কেন চুপচাপ থাকছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম? কেন সতীর্থদের এমন অপমান দেখার পরেও তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন না?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৫৬

options
link
সিরিজের মাঝপথে ক্রিকেটার ছাঁটাই, পদত্যাগ নির্বাচক প্রধান মিসবার, ক্ষোভে ফুঁসছেন পাক প্রাক্তনীরা
পাকিস্তান ক্রিকেটে ডামাডোল তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

পাকিস্তান ক্রিকেটে ডামাডোল তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ইমাম-উল-হক, মহম্মদ রিজওয়ান, সলমন আলি আঘা, হেড কোচ সরফরাজ আহেমদ, বোলিং কোচ উমর গুল-সহ সাত-সাতজনকে ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান বোর্ড! ইংলান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজে কুৎসিত পারফরম্যান্সের জেরে। যা নিয়ে হাসাহাসি পড়ে গিয়েছে চতুর্দিকে। প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি থেকে শুরু করে জাভেদ মিয়াঁদাদ, শোয়েব মালিক, প্রাক্তন পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার-প্রত্যেকে একহাত নিয়েছেন পাক বোর্ডের সিদ্ধান্তকে। সিরিজের মাঝপথে এভাবে প্লেয়ার-সাপোর্ট স্টাফ-সহ সাত জনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার মধ্যে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিলেন মিসবা-উল-হক।

Advertisement

এটা ঘটনা যে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত দু’টো টেস্টে বিশ্রী ভাবে হেরেছে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে বাবর আজমরা হেরেছেন ইনিংস ও ১০৩ রানে। দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে। কিন্তু তার পরেও সিরিজের মাঝপথে টিমের খোলনলচে বদলে ফেলা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। নির্বাচক পদ থেকে মিসবার ইস্তফাও সে কারণেই। চলতি বছরের মার্চ মাসে যে পদে এসেছিলেন তিনি। পাক মিডিয়া সূত্রে খবর, মিসবার ইস্তফাপত্র গ্রহণ এখনও করেনি পাকিস্তান বোর্ড। কিন্তু প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক সিদ্ধান্ত বদলাবেন না। যে ভাবে প্লেয়ারের সঙ্গে কোচিং স্টাফদেরও বদলে দেওয়া হয়েছে, যে ভাবে কোচ সরফরাজকে সরিয়ে বাকি টেস্ট সিরিজে মাইক হেসনকে (সাদা বলে যিনি পাকিস্তানের কোচ) দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে, তা মেনে নিতে পারেননি তিনি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বাকিরাও বা মানতে পারছেন কোথায়? পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ অফ্রিদি যেমন বলেছেন, “আমি বুঝতেই পারছি না, সিরিজের মাঝপথে সাত জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর অর্থ কী? আর পরিবর্ত হিসেবে যাদের ইংল্যান্ডে পাঠানো হল, তারা কারা? না, সব টি-টোয়েন্টি প্লেয়ার। তুমি টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের দিয়ে টেস্ট খেলাতে চাইছ? বুঝতে পারছি না, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যুক্তিটা কী? কেন পাঁচটা টেস্ট পরেই কোচকে ছাঁটাই করে দেওয়া হল? আমাদের জাতীয় নির্বাচক কমিটিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা রয়েছে। সেই নির্বাচক কমিটির কাছ থেকে এ রকম সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত নয়। শকিং! এর চেয়ে বড় অদ্ভুত সিদ্ধান্ত আমি দেখিনি।” পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ মিকি আর্থার একই রকম চাঁচাছোলা। যিনি সোশাল মিডিয়ায় লিখে দিয়েছেন, ‘জঘন্য সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান বোর্ড। বর্তমানে ওদের বেহাল দশার নেপথ্য কারণ, ক্রমাগত অদলবদল। সেই কারণেই বিন্দুমাত্র ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না পাকিস্তান।’

Advertisement

অতীতের দুঁদে পাক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, “যারা ফিরে এল, তাদের কাছে এই সিদ্ধান্তটা দগদগে ঘা হয়ে থাকবে চিরকাল। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়বে ওরা। আর পরিবর্ত হিসেবে ইংল্যান্ড গেল যারা, তারা আবার প্রবল চাপে পড়ে যাবে।” শোয়েব মালিক আবার কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রিজওয়ান-ইমামদের অপমান। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘যাদের ইংল্যান্ড থেকে সোজা দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হল, মনে রাখবেন তারাও পাকিস্তানেরই ক্রিকেটার। প্রথম ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে দিয়ে আদতে অপমান করা হল। যা ওদের প্রাপ্য নয়।’ রশিদ লতিফের প্রশ্ন, এর পরেও কেন চুপচাপ থাকছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম? কেন সতীর্থদের এমন অপমান দেখার পরেও তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন না? যদিও মুখ্য প্রশ্ন একটাই। অমানিশা আক্রান্ত পাক ক্রিকেটকে বাঁচাবে কে?

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.