BCCI Lifetime Achievement Award 2027

দুই বাঙালির মুকুটে জুড়ছে নয়া পালক! বোর্ডের জীবনকৃতি সম্মান পাওয়ার দৌড়ে এবার সৌরভ-ঝুলন

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের অন্ধকার সময়ে জাতীয় দলের হাল ধরেছিলেন। আর ঝুলন গোস্বামী আমূল বদলে দিয়েছেন ভারতবর্ষে মহিলা ক্রিকেটের চালচিত্র।

Advertisement
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মার্চ ১৭, ২০২৬, ১৫:৫৫

options
link
দুই বাঙালির মুকুটে জুড়ছে নয়া পালক! বোর্ডের জীবনকৃতি সম্মান পাওয়ার দৌড়ে এবার সৌরভ-ঝুলন
ঝুলন গোস্বামী ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

ভারতীয় বোর্ডের জীবনকৃতি পুরস্কার ২০২৫। প্রাপক: শচীন রমেশ তেন্ডুলকর।
ভারতীয় বোর্ডের জীবনকৃতি পুরস্কার ২০২৬। প্রাপক: যৌথ ভাবে রাহুল শরদ দ্রাবিড় এবং রজার বিনি।
ভারতীয় বোর্ডের জীবনকৃতি পুরস্কার ২০২৭। প্রাপক: কে পেতে পারেন? কার পাওয়া উচিত?

Advertisement

রোববার নয়াদিল্লিতে ভারতীয় বোর্ড আয়োজিত ‘নমন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠান শেষের পরপরই যে প্রশ্ন উঠে পড়ল ভারতীয় ক্রিকেটমহলে। যে অনুষ্ঠানে সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্বাধীন টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী ভারতীয় টিম তো বটেই। একই সঙ্গে আয়ুষ মাত্রে নেতৃত্বাধীন বিশ্বজয়ী অনুর্ধ্ব ১৯ ভারতীয় দল, হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংবর্ধিত করা হয়েছে রোহিত শর্মা নেতৃত্বাধীন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী টিমকে। এবং তার পরপরই জাতীয় ক্রিকেটমহলে ঘোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, শচীন বোর্ডের জীবনকৃতি সম্মান পেয়ে গেলেন। রাহুল দ্রাবিড় পেয়ে গেলেন। পরের বার তা হলে কে পেতে পারেন?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

সার্বিক আলোচনা-প্রভৃতিতে যে নামটা উঠে আসছে, তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্ধকার সময়ে জাতীয় দলের হাল ধরেছিলেন যিনি। যাঁকে আজও নমস্য অধিনায়ক হিসেবে স্মরণ করে ভারতীয় ক্রিকেট। করবে না-ও বা কেন? সৌরভই সর্বপ্রথম বিশ্বাস জুগিয়েছিলেন যে, বিদেশের মাটিতেও জিততে পারে ভারতীয় টিম। শিখিয়েছিলেন, বিদেশি দুঁদে অধিনায়ককেও টসের জন্য মাঠে দাঁড় করিয়ে রাখা যায়, তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায়। শুধু তাই নয়। লোধা শাসন শেষের পর ভারতীয় বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন সৌরভ। তিনিই দেশের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি বোর্ড মসনদে বসেন।

Advertisement

নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা কারও কারও মতে, দ্রাবিড় আর সৌরভের টেস্ট অভিষেক একই ম্যাচে। ছিয়ানব্বইয়ের লর্ডসে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের সেবা করে এসেছেন এই দুই ‘সেবায়েত’, এক অবিচ্ছেদ্য জুটি হিসেবে। সৌরভের নেতৃত্বেও খেলেছেন দ্রাবিড়। কারও কারও বক্তব্য হল, নিঃসন্দেহে দ্রাবিড় যোগ্য হিসেবেই বোর্ডের জীবনকৃতি সম্মান পেয়েছেন। দেশের অধিনায়কত্ব করেছেন। দুর্ধর্ষ ক্রিকেটার ছিলেন। অনূর্ধ্ব উনিশ এবং সিনিয়র ভারত- দুই আলাদা দলকে নিয়ে কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ী হয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেটে দ্রাবিড়ের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু সৌরভও বা অবদানে পিছিয়ে কোথায়? কী করে ভোলা সম্ভব তাঁর নেতৃত্বে ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের ফাইনাল খেলা? কী করে ভোলা সম্ভব ২০০১ সালের ইডেনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন ভারতের স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। শেষে স্টিভের জয়রথ থামিয়ে দেওয়া?

কারও কারও বক্তব্য হল, নিঃসন্দেহে দ্রাবিড় যোগ্য হিসেবেই বোর্ডের জীবনকৃতি সম্মান পেয়েছেন। অনূর্ধ্ব উনিশ এবং সিনিয়র ভারত-দুই আলাদা দলকে নিয়ে কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ী হয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেটে দ্রাবিড়ের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু সৌরভও বা অবদানে পিছিয়ে কোথায়? 

তবে বোর্ডের কোনও কোনও মহল, আগামী বছর একা সৌরভ নন। আর এক বাঙালি ক্রিকেটারেরও জীবনকৃতি সম্মান পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে। তিনি চাকদহ এক্সপ্রেস। অর্থাৎ, ঝুলন গোস্বামী। নয়াদিল্লিতে দ্রাবিড়-বিনির পাশাপাশি মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে মিতালি রাজকে জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত করেছে বোর্ড। কেউ কেউ মনে করিয়ে দিলেন, মিতালি ছাড়া দেশে মহিলা ক্রিকেটের জাগরণে যিনি মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনি ঝুলন। মহিলা ক্রিকেট খায় না মাথায় দেয়, তা যখন লোকে জানত না, সেই সময়ে থেকে লড়ে গিয়েছেন এঁরা দু’জন। দু-দু’বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। আমূল বদলে দিয়েছেন ভারতবর্ষে মহিলা ক্রিকেটের চালচিত্র। জাতীয় ক্রিকেটমহলের ধারণা হল, সৌরভ-ফুলনের মধ্যে একজনকে তো বটেই। একই সঙ্গে দু’জনকে আগামীবার বোর্ডের জীবনকৃতি সম্মান পেতে দেখা গেলে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.