দুলাল দে: তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নাপসন্দ। আর তার জেরেই সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে সাসপেন্ড করেছে ফিফা। যা ভারতীয় ফুটবল তথা ফুটবলারদের জন্য বড় ধাক্কা। এর ফলে চলতি বছর ভারতের মাটিতে আয়োজিত হতে চলা অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপ নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্নচিহ্ন। তবে শুধুই এই টুর্নামেন্ট নয়, এই নির্বাসন একাধিক প্রভাব ফেলবে এ দেশের ফুটবলের ময়দানে। ঠিক কী কী সমস্য়ার সম্মুখীন হবে ভারতীয় ফুটবল? জেনে নেওয়া যাক।
প্রথমত, সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র, ভারতের কোনও জাতীয় দল কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবে না। অর্থাৎ যদি নির্বাসন থেকে যায়, তাহলে অনূর্ধ্ব -১৭ মহিলাদের বিশ্বকাপ হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামতে পারবেন না সুনীল ছেত্রীরাও। তাঁরা এশিয়ান কাপ খেলতে পারবেন না।
দ্বিতীয়ত, শুধু জাতীয় দলই নয়, এই নির্বাসনের প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের উপরও। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে এএফসি কাপের ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে খেলার কথা মোহনবাগানের। কিন্তু নির্বাসন বহাল থাকলে সে ম্যাচে খেলতে পারবে না জুয়ান ফেরান্দোর দল। লাল-হলুদ শিবিরের উপর এর প্রভাব কী? যতদিন না পর্যন্ত সাসপেনশন উঠছে, নতুন করে কোনও বিদেশি ফুটবলার সই করানো যাবে না। এর অর্থ, ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) ষষ্ঠ বিদেশি ফুটবলার সই করানোর পরিকল্পনা আপাতত বিশ বাঁও জলে। একইরকম ভাবে ভারতীয় ক্লাবে খেলা কোনও বিদেশি এখন অন্য দেশেও যেতে পারবেন না।
[আরও পড়ুন: ফের বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ, চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিতে ভাসতে পারে দক্ষিণবঙ্গ]
তৃতীয়ত, প্রশ্ন হচ্ছে, ঘরোয়া ফুটবলেও কি সমস্যা হবে? না, আপাতত এক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই। তাছাড়া ক্লাব ফুটবলও চলতে পারবে আগের মতোই। অর্থাৎ আইএসএল, আই লিগ-সহ ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতায় ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকছে না। তবে জাতীয় দলের হয়ে নামতে না পারার চিন্তা মাথায় নিয়েই এই সব প্রতিযোগিতায় নামতে হবে ভারতীয় ফুটবলারদের।
চতুর্থত, এই নির্বাসন একধাক্কায় কয়েক যুগ পিছিয়ে দিল ভারতীয় ফুটবলকে। কারণ ভারতীয় ফুটবলের ব়্যাঙ্ক ফের শূন্য থেকে শুরু হবে। বাইচুং ভুটিয়া থেকে পরবর্তীতে সুনীল ছেত্রী, গুরপ্রীত সিং সান্ধুরা তিলে তিলে যে দলটিকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ম্যাচ জিতিয়ে ব়্য়াঙ্কিংয়ে উন্নতির চেষ্টা করেছেন, ফেডারেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদান্যতায় সেসব প্রয়াস জলে গেল। ফের শূন্য থেকে লড়াই শুরু করতে হবে।
[আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে শশী পাঁজা-মালা রায়, দেখা হল না পার্থর সঙ্গে!]
সর্বশেষ খবর
-
এবার সরকারি লজেই কম খরচে থাকা-খাওয়া-সুরক্ষা! তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ডের পর বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর
-
বন্যা বিধ্বস্ত নেপালের জন্য কনসার্টের উদ্যোগ, কী ভাবনা ‘টক্সিক’ গায়ক বিশালের?
-
অপুষ্টিতেই মালদহ মেডিক্যালে ৮৯টি শিশুর মৃত্যু! হাসপাতাল ঘুরল বিশেষজ্ঞ দল
-
চারদিন ধরে খোঁজ নেই, নেপালে কী অবস্থায় রয়েছেন শুভ্রাংশুর স্ত্রী? মুকুল রায়ের বাড়িতে ঋতব্রতরা
-
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ ইনফোসিসের সিইও গোপিসেট্টি, উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি সংস্থার