East Bengal

যুবভারতীতে প্রতিপক্ষ সুনীলদের বেঙ্গালুরু, রশিদের চোট নিয়ে উদ্বেগে ইস্টবেঙ্গল

লাল-হলুদ জনতাও এখন বিশ্বাস রাখতে শুরু করেছে এই ইস্টবেঙ্গলের উপর। বাকিটা বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দেখা যাবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১৩:২৮

options
link
যুবভারতীতে প্রতিপক্ষ সুনীলদের বেঙ্গালুরু, রশিদের চোট নিয়ে উদ্বেগে ইস্টবেঙ্গল
ছবি: সংগৃহীত।

ম্যাচের আগের দিন দুপুরের দিকে হঠাৎই ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে জোস ব্যারেটো। পাশে সেই সময় প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গলী-মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, বিকাশ পাঁজি, স্বরূপ দাসরা বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। বিকাশ পাঁজি আবার বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচের কিছু টিকিট বণ্টনেও ব্যস্ত। ব্যারেটো বলে উঠলেন, “ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই সিজনে লিগ তো ওপেন। ভালো খেলছে ইস্টবেঙ্গল।”

Advertisement

সত্যি বলতে কী, আইএসএলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের জন্য অস্কার ব্রুজোর কেচিংয়ে ইস্টবেঙ্গলকে লাগছে ইস্টবেঙ্গলের মতো। যে কারণে সমর্থকরাও আশায় বুক বেঁধেছেন, যদি বেঙ্গালুরুকে ঘরের মাঠে হারিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে লিগ শীর্ষে থাকা মুম্বইয়ের ঘাড়ে উঠে পড়া যাবে। কিন্তু সমস্যা যে কিছুতেই পিছু ছাড়তে চায় না। লম্বা ডাবল লিগ হলে না হয় সমস্যাগুলি সামলে নেওয়া যেত। কিন্তু এবার তো ১৩ ম্যাচের লিগ। আর সেখানে দলের অধিনায়ক মহেশের মতো ফুটবলার চোটের জন্য হাতছাড়া হয়ে গেলে যে কোনও কোচের রাতের ঘুম নষ্ট হতে বাধ্য।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মহেশ পর্যন্ত তা-ও না হয় ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজো। কিন্তু এদিন যে আরও বড় সমস্যা তৈরি হল দলের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রশিদের গোড়ালির চোট নিয়ে। চোটটা এতটাই গুরুতর যে রশিদ বুধবার প্র্যাকটিসেই নামতে পারলেন না। তারপরেও অস্কার-সহ ইস্টবেঙ্গলের পুরো থিঙ্কট্যাঙ্ক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যদি সুস্থ করে বৃহস্পতিবার রশিদকে মাঠে নামানো যায়। তবে ইস্টবেঙ্গল কোচ নিজে মনে করছেন, বিষয়টি ভীষণই কঠিন। রশিদকে বৃহস্পতিবার খেলানোর আশা লাল-হলুদ শিবির প্রায় ছেড়েই দিয়েছে বলা যায়। ফলে মহেশের পর রশিদও চোটের তালিকায় চলে যেতে কিছুটা সমস্যা অবশ্যই পড়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।

Advertisement

তার উপর আবার ঠিক ছিল, লাল কার্ডের জন্য বেঙ্গালুরুর স্যাঞ্চেজ ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটা খেলতে পারবেন না। এদিন হঠাৎ করেই ফেডারেশন জানিয়ে দেয়, স্যাঞ্চেজের লাল কার্ড বাতিল করা হয়েছে। ফলে বেঙ্গালুরুকে ঘিরে অস্কারের পরিকল্পনাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় ম্যাচ খেলতে নেমে অস্কারের যা বলা উচিত, তাই বলছেন, “আমরা একটা একটা করে ম্যাচ ধরে এগোতে চাইছি।” ইস্টবেঙ্গল কোচ স্বীকার করলেন, তাঁর ডিফেন্স লাইন আগের থেকে এখন অনেকটাই ভালো খেলছে। সেরকম আক্রমণেও উন্নতি করেছে। গোল পাওয়ার জন্য কোনও একজন ফুটবলারের উপর ইস্টবেঙ্গল আর নির্ভরশীল নয়। তথ্য বলছে, আটজন আলাদা আলাদা ফুটবলার এবারের আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের জন্য গোল করেছেন। অস্কার বললেন, “একটা দলকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য কোনও নির্দিষ্ট একজন ফুটবলার নয়। সবার দায়িত্ব নিতে হবে। তথ্যই বলছে, আমরা ঠিক পথে এগোচ্ছি।”

বয়স থাবা বসালেও প্রতিপক্ষ দলে একজন ফুটবলার রয়েছেন, যাঁর নাম সুনীল ছেত্রী। অস্কার অবশ্য শুধুই সুনীল ছেত্রী নিয়ে মন্তব্য না করে বললেন, “প্রতিপক্ষ বুঝে নিজেদের গেমপ্ল্যান ঠিক করব। তবে সেই পরিকল্পনা শুধুই সুনীলকে নিয়ে নয়।” চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে গোল করেও দলের ফোকাস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে সেই ভুল আর করতে চাইছে না ইস্টবেঙ্গল। অস্কার বলছিলেন, “চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে গোল করার পর পুরো দলটা এতটা উঠে গিয়েছিল যে মারাত্মক একটা স্পেস তৈরি হয়ে গিয়েছিল, যেখানে সুবিধে পেয়ে গিয়েছিল চেন্নাই। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে সেরকমটা হবে না বলেই বিশ্বাস।” শুধু কোচ বলছেন বলেই নয়। লাল-হলুদ জনতাও এখন বিশ্বাস রাখতে শুরু করেছে এই ইস্টবেঙ্গলের উপর। বাকিটা বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দেখা যাবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন