প্রত্যাশিত প্রতিরোধ বিরোধীদের। ভোটাভুটিও হল। কিন্তু তা সত্ত্বেও আটকানো গেল না কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ অর্থাৎ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পেশ হওয়া। প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই সংবিধানের ১৩১ তম সংশোধনীটি পেশ করলেন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। একই সঙ্গে পেশ হল লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল।
এদিন অধিবেশনের শুরুতেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের বিরোধিতা শুরু করে ইন্ডিয়া জোট। অর্জুন রাম মেঘওয়াল সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের আগেই ভোটাভুটির দাবি জানান কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল। প্রাথমিকভাবে স্পিকার ভোটাভুটিতে রাজি হননি। কিন্তু তাতে দমেননি বিরোধীরা। তাড়াহুড়ো করে এত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশের প্রতিবাদে তারা স্লোগান দেওয়া শুরু করে। অভিযোগ এরপর নাকি বিরোধীদের মাইকও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতেও স্লোগান থামেনি। শেষে বাধ্য হয়েই ভোটাভুটিতে রাজি হন স্পিকার।
আরও পড়ুন:
The Constitution (One Hundred and Thirty-First Amendment) Bill, 2026’, Union Territories Laws (Amendment) Bill, 2026’ and Delimitation Bill, 2026’ introduced in the Lok Sabha. pic.twitter.com/KkH1PD3GZG
— ANI (@ANI) April 16, 2026
বিল পেশের জন্য যে ভোটাভুটি হয়, তাতে প্রত্যাশিতভাবেই জয়ী হয়েছে সরকারপক্ষ। বিলটি পেশের পক্ষে ভোট পড়েছে ২০৭টি। বিলটি পেশের বিপক্ষে ১২৬টি ভোট পড়েছে। অর্থাৎ এ হেন গুরুত্বপূর্ণ বিলেও সরকার এবং বিরোধী দুই শিবিরের বহু সাংসদই অনুপস্থিত। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন বলে খবর। ইন্ডিয়া শিবিরে সংখ্যাটা আরও বেশি। যা-ই হোক, ভোটাভুটিতে বিল পেশের অনুমতি পেয়ে যাওয়ায় আপাতত সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে লোকসভায়। অন্যদিকে রাজ্যসভা গোটা দিনের মতো মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। সেবার বিরোধীরাও ওই বিলটিকে সমর্থন করে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করতে চাইছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিতে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। সেটারই বিরোধিতায় একজোট ইন্ডিয়া শিবির। সংখ্যার হিসাব বলছে, ভোটাভুটিতে বিলটি পেশ হলেও সেটি পাশ করাতে সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। লোকসভায় ৫৪৩ জনই হাজির থাকলে, ৩৬২টি ভোট দরকার হবে বিলের পক্ষে। কিন্তু এই মুহূর্তে মোদি সরকারের সেই শক্তিটা নেই। এখন লোকসভায় এনডিএ-র মোট সাংসদ সংখ্যা ২৯৩। আর ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদ সংখ্যা ২৩০-২৪০। তবে সাংসদদের অনুপস্থিতি ভোটাভুটির দিন বহু অঙ্ক বদলে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার