FIFA World Cup 2026

স্কটল্যান্ডে ম্যাচে দলে থাকলেও শুরুতে নেই নেইমার, রাফিনহার বদলে কাকে ভাবছেন আন্সেলোত্তি?

নেইমারকে প্রথম দলে জায়গা করে দেওয়ার থেকে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে দল গড়তে গিয়ে আন্সেলোত্তিকে বেশি ভাবতে হচ্ছে, রাফিনহার বিকল্প ফুটবলার ঠিক করতে গিয়ে।

Advertisement ad
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৭:১৫

options
link
স্কটল্যান্ডে ম্যাচে দলে থাকলেও শুরুতে নেই নেইমার, রাফিনহার বদলে কাকে ভাবছেন আন্সেলোত্তি? zoom
অনুশীলনে নেইমার। ছবি সংগৃহীত।

তাহলে কি ‘ঘরের মাঠ’ থেকেই ফের ব্রাজিল জার্সিতে ফেরা সম্ভব হচ্ছে নেমারের? ঘরের মাঠ। শুনে আপনার মনে হতেই পারে, তাহলে কি ভুল বলে ফেললাম? কিন্তু বিশ্বাস করুন, মায়ামি-তে পা দিয়েই মনে হচ্ছে, এক টুকরো ব্রাজিল উঠে এসেছে। বলা ভালো, রিও ডি জেনেইরো। ব্রাজিলের জনপ্রিয় খাবার, ফিজোয়াডা, কক্সিনহা রাস্তার ধরে ধারে পাবেন। মায়ামি বিচে গেলেই দেখতে পবেন, কোপাকাবানা বিচের মতোই ‘বিচ সকার’ চলছে। তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাম্বা ডান্স। পুরো এলাকাটা হলুদে-হলুদে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছে। যেদিন থেকে ডেভিড বেকহ্যাম আর তাঁর সহযোগী ব্যবসায়ী বন্ধুরা ‘ইন্টার মায়ামি এফসি’ নামে ক্লাব খুলে বসলেন, বদলে যেতে লাগল, এই শহরের খেলাধুলোর ইতিহাসও।

তিন বছর আগে লিওনেল মেসির যোগদানের পর ফুটবল নিয়ে উত্তেজনা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যদি বলি, মায়ামিতে ফুটবল এখন জনপ্রিয়তায় বাস্কেটবলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে, খুব অতিশয়োক্তি করা হবে না। এহেন মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার জন্য নিউজার্সিতে প্র্যাকটিস করে সোজা চলে এসেছেন নেইমাররা। ফিলাডেলফিয়াতে মূল ফুটবল স্টেডিয়ামের পাশেই যেরকম ছিল বেসবল আর বাস্কেটবল স্টেডিয়াম। এখানে হার্ডরক স্টেডিয়ামের যে কমপ্লেক্স, তার চারপাশে তৈরি করা হয়েছে, ‘মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল অটোড্রোম।’ যেখানে বিশ্বখ্যাত ফর্মুলা ওয়ান রেস অনুষ্ঠিত হয়। তবে মায়ামি এখন ফর্মুলা ওয়ান রেস দেখার অপেক্ষায় নয়। বরং অপেক্ষায়, বল নিয়ে নেইমারের দ্রুত গতিতে স্কটল্যান্ডের বক্সে ঢুকে পড়ার মধুর দৃশ্য চাক্ষুস করার জন্য। কিন্তু নেইমার কি শুরু থেকে আন্সেলোত্তির দলে থাকবেন?

মায়ামি আসার আগে এদিন সকালেও ব্রাজিল যখন নিউ জার্সিতে প্র্যাকটিস করেছে, ফুল ফিট হয়ে নেইমার দলের সঙ্গেই সবরকম ড্রিল করেছে। মানে, অন্য ফুটবলারদের সঙ্গেই ফুল স্প্রিন্ট টেনেছেন। বল নিয়ে ট্যাকটিক্যাল মুভ করেছেন। কোথাও দেখে কারোরই মনে হয়নি, ব্রাজিলিয়ান তারকার কাফ মাসলের চোট নিয়ে কোনও সমস্যা রয়েছে।

সমস্যাটা তো অন্য জায়গায়। ম্যাচ ফিটনেস। সেটা ম্যাচ না খেললে আসবে কী করে? ফলে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোচ আন্সেলোত্তি শুরুর মিনিট থেকেই নেইমারকে মাঠে নামিয়ে দেবেন, এতটা বাড়াবাড়ি না ভাবলেই মঙ্গল। বরং এদিন প্র্যাকটিস দেখার পর ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকদের যা মনে হয়েছে, তাতে নেইমারকে প্রথম দলে জায়গা করে দেওয়ার থেকে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে দল গড়তে গিয়ে আন্সেলোত্তিকে বেশি ভাবতে হচ্ছে, রাফিনহার বিকল্প ফুটবলার ঠিক করতে গিয়ে। হাইতির বিরুদ্ধে চোট পাওয়া রাফিনহার যা অবস্থা, তাতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছেন বলা যাবে না। হয়তো আরও একটা ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁর জায়গায় রাইট উইংয়ে খেলবেন কে? একটা কথা এখনই বলে দেওয়া যাক। আন্সেলোত্তির পরিকল্পনায় এই বিশ্বকাপে নেইমার কিন্তু আর উইঙ্গার নন। খেলবেন ফলস নাইন অথবা সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে। রিয়ালে করিম বেঞ্জেমাকে যে পজিশনে খেলাতেন, ব্রাজিল দলেও নেইমারের জন্য সেরকমই কিছু ভেবেছেন আন্সেলোত্তি। যে সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে কিছুটা অলক্ষ্যে থেকে মূল সময়ে প্রতিপক্ষর গোলে চূড়ান্ত আঘাতটা আনবেন। আর তাঁর দিকে নজর দিতে গিয়ে দুটো উইংয়ে ভিনিসিয়াস এবং লুইজ হেনরিকে হয়তো কিছুটা ফাঁকা জায়গা পাবেন। তবে লুইজ হেনরিকে না হলে রায়ানকেও ভাবতে পারেন আন্সেলোত্তি। এদিন প্র্যাকটিস দেখে সেরকমটাই মনে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকদের। আর যাঁদের একটা করে কার্ড রয়েছে, তাঁদেরকে স্কটল্যান্ড ম্যাচে বসানোর কোনও সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে হয়নি। আসলে ব্রাজিলের ইটালিয়ান কোচ চাইছেন, স্কটল্যান্ডকে মেরে পরের রাউন্ডে যাওযাটা আগে নিশ্চিত করতে। তারপর প্রয়োজন বুঝে নেমারকে পরের দিকে মাঠে নামানো। সেই বুঝে নক আউটের ম্যাচে শুরু থেকে খেলাবেন কি না, সিদ্ধান্ত নেবেন।

১৮৯৬-তে মাত্র ৩০০ বাসিন্দা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পথ চলা শুরু এই ‘মায়ামি’ শহরের। ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর কিউবার প্রচুর শরণার্থী এই মায়ামিতে এসে আশ্রয় পর্যন্ত নিয়েছিলেন। সেই সময় এখানে গড়ে উঠেছিল, ‘ছোট্ট হাভানা।’ তারপর সময় বদলেছে। দ্রুত গতিতে শহর হিসেবে এগিয়েছে মায়ামি। আর এতটাই দ্রুত গতিতে উত্থান ঘটেছে এই শহরের, অনেকটা ম্যাজিকের মতো। অনেকে তাই মায়ামিকে ডাকেন ‘ম্যাজিক সিটি’ বলে। এই আশাতেই পৃথিবী জোড়া ফুটবল প্রেমীরা চাইছেন, অন্তত আরেকবার সাম্বা জার্সিতে জ্বলে উঠুন নেইমার। আরও একবার ম্যাজিক দেখান সাম্বার জন্য।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন