২২ বছর। সময়টা নেহাত কম নয়। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার পর কেটে গিয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়। লাল-হলুদ ক্যাবিনেটে আর আসেনি ডুরান্ড ট্রফি। রবিবার সন্ধ্যায় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ। প্রতিপক্ষ সেই মোহনবাগানই। বদলার মঞ্চও তৈরি। লাখব টাকার প্রশ্ন, ২২ বছর পর কি ডুরান্ড জয়ের স্বাদ পাবে ইস্টবেঙ্গল?
আরও পড়ুন:
মহারণের আগে আবেগে ভাসতে নারাজ লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তাঁর চোখে ডার্বি মানেই আবেগের পাশাপাশি বুদ্ধির পরীক্ষা। ম্যাচের উত্তাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই সাফল্যের রাস্তা খুঁজতে চান তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “কলকাতার জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে আলাদা। কিন্তু আমাদের এই ম্যাচটাকেও অন্য ম্যাচের মতোই খেলতে হবে। ডার্বিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খেলা। পাশাপাশি আবেগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা।” লাল-হলুদ কোচের কথায়, আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনতে হবে ২৫ শতাংশে। তাঁর মন্তব্য, “এই ম্যাচে আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থাকবে। কিন্তু সেটাকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। ৯০ মিনিটের মধ্যে সঠিক মুহূর্তগুলো বেছে নিতে হবে। সেই সময়েই কৌশলগত ও মানসিক দিক থেকে আরও ভালোভাবে খেলতে হবে আমাদের। ফলও পেতে হবে।”
মহারণের আগে আবেগে ভাসতে নারাজ লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তাঁর চোখে ডার্বি মানেই আবেগের পাশাপাশি বুদ্ধির পরীক্ষা। ম্যাচের উত্তাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই সাফল্যের রাস্তা খুঁজতে চান তিনি।
সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না পিভি বিষ্ণু। এবারের ডুরান্ডে লাল-হলুদের অন্যতম বড় অস্ত্র ছিলেন তিনি। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তাঁর গতি বারবার সমস্যায় ফেলেছে প্রতিপক্ষকে। ফলে ফাইনালে তাঁকে না পাওয়া হাবাসের পরিকল্পনায় বদল আনতে বাধ্য করতে পারে। বিষ্ণু না থাকলে তাঁর জায়গায় বিপিন সিংকে খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসাবে রয়েছেন জেসিন টিকে-ও। এই ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোলও করেছিলেন।
ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে তা জানিয়ে দিয়েছেন হাবাস। তবে প্রতিপক্ষ মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন তিনি। তাঁর চোখে সবুজ-মেরুনের প্রত্যেক ফুটবলারই ‘ডেঞ্জারম্যান’। বিশাল কাইথের প্রশংসা করেও আত্মবিশ্বাসী হাবাস। ফাইনালে কি ফের দেখা যাবে দুই গোলকিপারের দ্বৈরথ? প্রভসুখন সিং গিলের সঙ্গে বিশাল কাইথের লড়াই নিয়ে হাবাস বলেন, “বিশালকে পুণে থেকে চিনি। দারুণ গোলকিপার। গিলও ভালো। লাচেনপাও রয়েছে। আশা করি, আগামী ম্যাচে আমাদের গোলকিপারকে খুব বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে না।” বিদেশি স্ট্রাইকার ও ডিফেন্ডার ছাড়া ডার্বিতে নামার চ্যালেঞ্জও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে অজুহাত দিতে নারাজ। হাবাসের কথায়, “এটা খুবই কঠিন। তবে আমি দলকে নিয়ে বিশ্বাস হারাচ্ছি না। কোনও অজুহাতও চাই না। রেফারিকে নিয়ে অজুহাত নয়, প্রতিপক্ষকে নিয়ে অজুহাত নয়, স্ট্রাইকার নেই, এমন অজুহাতও নয়। কোনও অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিদেশি স্ট্রাইকার ও ডিফেন্ডার ছাড়া ডার্বিতে নামার চ্যালেঞ্জও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে অজুহাত দিতে নারাজ।
ডার্বির আগে এদিন প্র্যাকটিসও বাতিল করে দেয় ইস্টবেঙ্গল। এই প্রসঙ্গে হাবাসের মন্তব্য, “আরও একটা প্র্যাকটিস সেশনের প্রয়োজন নেই। কারণ আমাদের হাতে কয়েক দিন সময় ছিল রিকভারি-সহ অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। যাতে ওরা আরও তরতাজা হয়ে নামতে পারে। আজকের জন্য আমার মনে হয় পরিকল্পনাটা সঠিক। মাঠে কোনও ট্রেনিং নয়, প্রস্তুতি হবে হোটেলে। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের আরও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা এবং ইন্ডোরে প্রয়োজনীয় কাজ করা।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পতাকাধারী জাহাজ! ২৪ নাবিকের খোঁজে তল্লাশি
-
রাজস্থানের ৬১১ সরকারি স্কুলের নিজস্ব ভবনই নেই! ‘আরশোলা’দের কর্মসূচির মাঝেই প্রকাশ্যে রিপোর্ট
-
তারাপীঠের পর এবার রামপুরহাটের হোটেলে আগুন, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি, ঘটনাস্থলে দমকল
-
মাত্র তিনদিনেই শেষ কাজ! এসআইআরের মতোই জনগণনাতেও নজির সাঁইথিয়ার শিক্ষকের
-
রাতের আকাশে বেগুনির খেলা! স্পেস স্টেশন থেকে নবরূপ দেখালেন নভোশ্চর