হাসিনা বিদায়ের পর বিরাট অদল বদল হয়েছে বাংলাদেশের কূটনীতিতে। একদা বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো পাকিস্তানের সঙ্গে দহরম মহরম বাড়িয়েছে তারেক রহমানের সরকার। আইএসআই-এর ছত্রছায়ায় নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ চাইছে ইসলামি হুজুগে তৈরি হওয়া ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা মুসলিম ন্যাটোয় যোগ দিতে। ধর্মীয় বেড়াজালে তৈরি এই চুক্তিতে ইসলামিক স্বার্থের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে বলে মনে করছে তারেক সরকার।
গত ৭ আগস্ট সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের রাষ্ট্র প্রধানদের উপস্থিতিতে মক্কায় স্বাক্ষরিত হয় এক সামরিক চুক্তি। ইসলামিক ন্যাটো নামের এই ইসলামিক জোটের মূল শর্ত হল, যদি এই তিন দেশের কোনও একটিতে হামলা হয়, তবে বাকি দুই দেশ এই হামলাকে নিজেদের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে। সেই হিসেবে এই জোটের নিশানায় পাকিস্তানের উলটো দিকে রয়েছে ভারত, তুরস্কের উলটো দিকে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এছাড়া জোটের প্রধান নিশানা থাকবে ইরান, ইজরায়েলের মতো দেশের দিকে। এই জোটে বাংলাদেশের ঢুকতে চাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে রয়েছে বেশ কিছু স্বার্থ।
আরও পড়ুন:
আইএসআই-এর ছত্রছায়ায় নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ চাইছে ইসলামি হুজুগে তৈরি হওয়া ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা মুসলিম ন্যাটোয় যোগ দিতে।
বাংলাদেশ ভারত ও চিনের সঙ্গে একটি ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। চিনের সঙ্গে বিষয়টি সহজভাবে এগোলেও ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছেই। দেশের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সীমান্ত, জলবণ্টন ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় ঢাকা চাইছে বৃহত্তর নিরাপত্তার কক্ষে ঢুকে পড়তে। বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ৩ দেশ মিলে যে প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়েছে সেদিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ঢাকার। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ জোটে যোগ দিতে আগ্রহী। সৌদি আরবের মতো দেশ থেকে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স আসে বাংলাদেশে। এই চুক্তি সেই রেমিট্যান্সে আরও বড় যোগদান তৈরি করবে। এছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তান বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে। তুরস্ক থেকে আসে ড্রোন, ফ্রিগেট এবং সাঁজোয়া যান, পাকিস্তান জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও নৌযান সরবরাহ করে বাংলাদেশকে। তাছাড়া এই নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিরাট বাজার খুলে দিতে পারে বাংলাদেশের জন্য।
তবে এসবের চেয়েও বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তির লক্ষ্য ইসলামিক আবেগ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি মোল্লাতন্ত্রের নাগপাশে বন্দি। ইউনুসের পর তারেক সরকারও সেই মৌলবাদের আগুনে হাওয়া দিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতির মাঝে চুক্তিতে যোগ দিতে পারলে রাজনৈতিক দিক থেকে একধাপে অনেকটা এগিয়ে যাবে ঢাকা। পাশাপাশি লোহিত সাগর, বাব-এল-মান্দেব প্রণালী হয়ে জ্বালানি সরবরাহ ও এই রুটে ইউরোপের বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে বলে মনে করছে তারেক সরকার। সূত্রের খবর, ইসলামি বর্মের আড়ালে ঢুকতে পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছে ঢাকা।
যদিও এই জোট নিয়ে বিশেষ ভাবিত নয় ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েন থাকলেও সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে দিল্লির। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যা চলছে তার উপর নজর রয়েছে দিল্লির। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রবেশের বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সয়াল বলেন, ”আমরা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের ঘটনাবলী ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে চলেছি। আমরা সেদিকে কড়া নজর রাখছি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সেনাকে সম্মান জানিয়ে গোর্খা এডিশন এনেছে এনফিল্ড, বাইক কেনার প্ল্যান থাকলে জেনে নিন ফিচার ও দাম
-
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে সত্যিই মদ বিক্রি বন্ধ! কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?
-
আমেরিকার গা জোয়ারিতে আলোচনা স্থগিত কানাডার, ৫০ শতাংশ কর চাপালেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
-
‘আমার দলের লোক হলেও সমর্থন করব না’, যাদবপুর কাণ্ডে বার্তা অগ্নিমিত্রার
-
সূচি নিয়ে ক্ষোভ, সঙ্গী ক্লান্তি, তবু ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-বধে আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান কোচ