প্রথম পাতা খেলা দেশ বিদেশ ই-পেপার
France vs Iraq Preview

‘অপারেশন শামালে’ দেশঁর ভাবনা ডিফেন্স, ইরাকের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লক্ষ্য গোলপার্থক্য বাড়ানোও

প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মতো প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোলে অভিযান শুরু করেছেন 'মিস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ' এমবাপে।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২২, ২০২৬, ২০:১১

options
link
‘অপারেশন শামালে’ দেশঁর ভাবনা ডিফেন্স, ইরাকের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লক্ষ্য গোলপার্থক্য বাড়ানোও zoom
অনুশীলনে ফ্রান্স। ফাইল ছবি।

‘অপারেশন শামাল’। ইরাকের বুকে গত এক যুগ ধরে ফরাসি সামরিক অভিযানের পোশাকি নাম। মূলত উত্তর ইরাকের কুর্দ অধ্যুষিত এলাকায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে চলে এই অপারেশন। ইরাকের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী সশস্ত্র দলকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, প্রযুক্তি দিয়ে উন্নত করার দায়িত্ব নিয়েছে ফ্রান্স।

সোমবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে ফিলাডেলফিয়ায় যেন অপারেশন শামালে নামতে চলেছে ফ্রান্স (France vs Iraq Preview)। তফাত হল, এবার আর ইরাক ‘মিত্র’ নয় দিদিয়ের দেশঁর দেশের। বরং ফরাসি অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু মধ্য এশিয়ার দেশটি। আর দেশঁর হাতে থাকা ‘অস্ত্রভাণ্ডার’ বেশ জমকালো। রীতিমতো বিধ্বংসী। যে ভাণ্ডারে বোমারু বিমানের নাম কিলিয়ান এমবাপে। আছে মাইকেল গুলিসে নামক ব্যালিস্টিক মিসাইল। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমহিসেবে থাকছেন দায়োত উপামেকানো। সঙ্গে অদ্রিয়ান র‍্যাবিও, জুলস কুন্দে নামের কিছু অত্যাধুনিক বোমা-কন্দুক। সবমিলিয়ে বিশ্বফুটবলের মহাশক্তিধর দেশের জন্যও এমন ‘সামরিক’ শক্তির মোকাবিলা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। সেখানে ইরাকের অস্ত্রাগর রীতিমতো ‘প্রাগৈতিহাসিক’। যেখানে থাকা আয়মান হুসেন, জিদান ইকবালদের বড়জোর গাদাবন্দুক আর হাতবোমার পর্যায়ে রাখা যেতে পারে। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মতো প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোলে অভিযান শুরু করেছেন ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ড কাপ’ এমবাপে। গোল করিয়েছেন ওলিসে। সেখানে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) প্রত্যাবর্তনে নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে হেরে শুরু করেছে ইরাক।

গ্রুপে শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের সামনে নরওয়ে। আর্লিং হালন্ডদের সঙ্গে লড়াইটা সহজ হবে না, জানেন কোচ দেশঁ। তাই নকআউটের টিকিটে সোমবারই ‘কনফার্ম’ শব্দট লিখে ফেলতে চাইছেন তিনি। সঙ্গে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের অঙ্ক মাথায় রেখে বাড়িয়ে নিতে চাইছেন গোলপার্থক্য। আর সেই কাজে এমবাপের পাশাপাশি দেশর বড় হাতিয়ার হতে পারেন ওলিসে। ক্লাব এমবাপের পাশাপাশি দেশর বড় হাতিয়ার হতে পারেন গুলিসে। ক্লাব ফুটবলে দূরন্ত ছন্দে ছিলেন এই উইঙ্গার। প্রথম ম্যাচে একটা অ্যাসিস্ট করেছেন, আরেকটা গোলের ক্ষেত্রেও পাস এসেছিল তাঁর পা থেকেই। ওলিসের ফরাসি হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সেদেশের কিংবদন্তি প্যাট্রিক ভিয়েরার ভূমিকাও। আসলে কয়েক বছর আগে বিশ্বজয়ী মিডফিল্ডারের কোচিংয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলছিলেন ওলিসে। সে সময় নিজের ‘দেশ’ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভিয়েরার সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তারপরই ঠিক করেন, খেলবেন ফ্রান্সের হয়েই।

FIFA World Cup 2026: France vs Iraq Preview — Kylian Mbappé Trains Ahead of Iraq Clash
অনুশীলনে ফ্রান্স। ফাইল ছবি।

কিলিয়ান এমবাপে। ফুটবলে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন এই উইঙ্গার। প্রথম ম্যাচে একটা অ্যাসিস্ট করেছেন, আরেকটা গোলের ক্ষেত্রেও আক্রমণ শুরু হয় তাঁর পা থেকেই। ওলিসের ফরাসি হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সেদেশের কিংবদন্তি প্যাট্রিক ভিয়েরার ভূমিকাও। আসলে কয়েক বছর আগে বিশ্বজয়ী মিডফিল্ডারের কোচিংয়ে ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলছিলেন ওলিসে। সে সময় নিজের ‘দেশ’ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভিয়েরার সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তারপর ঠিক করেন, খেলবেন ফ্রান্সের হয়েই। এমবাপে-ওসমানে ডেম্বেলের সঙ্গে ওলিসের উপস্থিতি আরও তীক্ষ্ণ করেছে ফরাসি ফরোয়ার্ড লাইনকে। ফলে গোল করা নিয়ে ভাবনা কমেছে দেশঁর।

তবে সোমবার দেশঁ যে পুরোপুরি ফুরফুরে মেজাজে, এমনটাও নয়। ইরাকের বিরুদ্ধে নামার আগে দলের ডিফেন্স নিয়ে ভালো মতোই চিন্তায় রয়েছেন তিনি। প্রথম কারণ, উইলিয়াম সালিবার ফিটনেস। আর্সেনালের হয়ে একটা স্বপ্নের মরশুম কাটিয়েছেন এই ফরাসি সেন্টারব্যাক। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রানার্স। আর সেটা করতে গিয়ে লম্বা হয়েছে সালিবার মরশুম, বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যা। পিঠে ব্যথা নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছেন। সে অবস্থায় সেনেগালের বিরুদ্ধে খেলেওছেন। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে ইরাকের বিরুদ্ধে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সালিবাকে। আর সেটা হলে রক্ষণে উপামেকানোর সঙ্গী হবেন ইব্রাহিমা কোনাতে। পাশাপাশি এ ম্যাচে লেফট ব্যাক হিসেবে লুকাস ডিগনের খেলার সম্ভাবনাও প্রবল। প্রথম ম্যাচে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি থিও হার্নান্ডেজ। তাঁকে বসানো হতে পারে। এর বাইরে বদলের সম্ভাবনা নেই। গোলকিপার মাইক মাইগনান কিছু ভুলভ্রান্তি করেছেন। তবে তিনিই খেলবেন।

সেনেগাল ম্যাচের পর ফুটবলারদের ছুটি দিয়েছিলেন কোচ দেশ। যা নিয়ে ডিগনে বলছিলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের অনেকটা ফুরফুরে করে দিয়েছে। আমার মতো অনেকেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছে। অবশ্য সেটা অনলাইনে, সামনাসামনি নয়। তবে বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় এমন সময় বেশ কাজে লাগে।” দেশর এহেন সিদ্ধান্তে ফ্রান্সে কতটা বদল হল, তা বোঝা যাবে ইরাকের বিরুদ্ধেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন