Harry Kane

‘কথা বলার শক্তি হারিয়েছি’, আজতেকা মহাকাব্যে মেক্সিকোকে হারিয়ে উল্লাস হ্যারি কেনের

শেষ বাঁশি বাজার পর আজতেকা স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ ও ‘থ্রি লায়ন্স’ গেয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন ইংল্যান্ড ফুটবলাররা। এবার শেষ আটে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৬, ২০২৬, ১৫:১৫

options
link
‘কথা বলার শক্তি হারিয়েছি’, আজতেকা মহাকাব্যে মেক্সিকোকে হারিয়ে উল্লাস হ্যারি কেনের
উচ্ছ্বাস হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের। ছবি সংগৃহীত।

শেষ ষোলোয় নাটকীয় ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড এবং মেক্সিকো। শেষ হাসি ‘থ্রি লায়ন্সে’র। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে বাকরুদ্ধ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে ১০ জনে মিলে প্রাণপণ লড়াই করে ৩-২ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে শেষ আটে নাম তুলে ফেললেন হ্যারি কেনরা (Harry Kane)। এবারের মতো বিদায় মেক্সিকোর।

Advertisement

ম্যাচ শেষে এক টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে এসে প্রায় কথাই বলতে পারছিলেন না ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে সেলিব্রেশন, সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ আর টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচের ঘোর যেন কাটতেই চাইছিল না। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে কেন বলেন, “আমার গলা বসে গিয়েছে। রুদ্ধশ্বাস একটা ম্যাচ ছিল। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়তে হয়েছে। অবশেষে জয় পেয়েছি। এতক্ষণ ধরে সেলিব্রেশন করেছি। গান গেয়ে চলেছি। এখন ঠিকমতো কথাই বলতে পারছি না। পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ– সবকিছু আমাদের বিপক্ষে ছিল। তবু আমরা জিতেছি।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এর কিছুক্ষণ পর আরও এক সাক্ষাৎকারে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “আমি যেন বাকরুদ্ধ। কথাই বলতে পারছি না।” আজতেকা স্টেডিয়ামে অনবদ্য রেকর্ড আছে আয়োজক দেশের। ৮৯টি ম্যাচে ৭০ জয়, মাত্র দু’টি হার। সেই দুর্গে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে নামার আগেই একঝাঁক সমস্যা ছিল ব্রিটিশ বাহিনীর। বিশ্বের উচ্চতম স্টেডিয়ামে খেলতে নামার চ্যালেঞ্জ সামলাতে বুকায়ো সাকারা নাকি উত্তেজনাবর্ধক ওষুধ নিচ্ছেন, এমনটাও খবর ছড়িয়েছিল। তারপর প্রতিকূল আবহাওয়া। ঝড়বৃষ্টির কারণে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হল ম্যাচ। তবে ম্যাচের প্রথম ৪০ মিনিট ইংল্যান্ডের খেলা দেখে মনে হল না, তাদের খুব একটা সমস্যা হয়েছে বলে।

Advertisement

শুরু থেকেই বল নিজেদের দখলে রাখার উপর জোর দিয়েছিল আয়োজক দেশ। গ্যালারি তখন ফেটে পড়ছে ‘মেহিকো মেহিকো’ ধ্বনিতে। উপযুক্ত দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকায় এদিন আজতেকার দর্শকদের দেখা গেল। ৩৫ মিনিট পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলল দু’পক্ষে। ম্যাচের প্রথম গোল ৩৬ মিনিটে। গোল করলেন জুড বেলিংহ্যাম। এর দু’মিনিটের মধ্যে ফের গোল। গোলদাতার নাম বদলায়নি। ২-০ পিছিয়ে পড়ার ঠিক পরের সেকেন্ড থেকেই শুরু হল মেক্সিকোর কামব্যাকের লড়াই। ৪২ মিনিটের মাথায় গোল শোধ। জুলিয়ান কুইনোনেসের শটটা গোলে জড়াতেই স্টেডিয়ামের চিৎকার। ৫৪ মিনিটে ফাউল করে লাল কার্ড দেখলেন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কুয়ানশা। ৬ মিনিটের মাথায় পেনাল্টিতে গোল হ্যারি কেনের। ৩-১ এগিয়ে যাওয়ার পর প্রাণপণ ডিফেন্স ছাড়া আর কিছু করার ছিল না ইংল্যান্ডের। এরপর গোল শোধ করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি মেক্সিকো।

ইংল্যান্ডের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন কোচ থমাস টুখেলও। তিনি বলেন, “আজ আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিতে হয়েছে। ম্যাচটা ভীষণ কঠিন ছিল। যখনই মনে হয়েছে আমরা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছি, তখনই নতুন বাধা এসেছে। কিন্তু এটাই এই দলের মানসিকতা। কঠিন সময়েও তারা হাল ছাড়ে না, বিশ্বাস হারায় না।” শেষ বাঁশি বাজার পর আজতেকা স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ ও ‘থ্রি লায়ন্স’ গেয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন ইংল্যান্ড ফুটবলাররা। এবার শেষ আটে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ নরওয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.